সর্বশেষঃ

আখেরি চাহার সোম্বায় কিছু বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ছুটি না দেওয়ায় জমিয়াতুল মোদার্রেছীনের ক্ষোভ

ভোলার বাণী ডেস্ক ॥
পবিত্র আখেরি চাহার সোম্বা উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছুটি ঘোষণা করা হলেও কোনো কোনো বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষা কার্যক্রম চালু রাখার খবরে গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়েছে। এ ঘটনায় তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন ভোলা দারুল হাদিস কামিল (স্নাতকোত্তর) মাদরাসার প্রিন্সিপাল ও বাংলাদেশ জমিয়াতুল মোদার্রেছীনের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব আলহাজ্ব মোহাম্মদ মোবাশ্বিরুল হক নাঈম।
এক প্রতিবাদ বার্তায় তিনি বলেন, আখেরি চাহার সোম্বা মুসলিম উম্মাহর কাছে অত্যন্ত মর্যাদা, তাৎপর্য ও ভাবগাম্ভীর্যের একটি দিন। বাংলাদেশ একটি মুসলিম অধ্যুষিত দেশ। এ দেশের মানুষের ধর্মীয় অনুভূতি, মূল্যবোধ ও বিশ্বাসের প্রতি রাষ্ট্রের সব প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের যথাযথ সম্মান প্রদর্শন করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ৯২ শতাংশ মুসলমানদের দেশে ধর্মীয়ভাবে তাৎপর্যপূর্ণ একটি দিনকে সম্মান জানিয়ে পালনের সুযোগ নিশ্চিত করা রাষ্ট্র ও সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর দায়িত্ব। প্রচলিত শিক্ষা-প্রশাসনিক নীতিমালার প্রতি সম্মান দেখিয়ে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এ দিনে ছুটি নিশ্চিত করা উচিত।
প্রতিবাদ বার্তায় প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে কি মুসলিম শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা করেন না? সেখানে কি মুসলিম পরিবারের সন্তান, শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারী নেই? তাহলে মুসলিম উম্মাহর একটি গুরুত্বপূর্ণ দিনে তাঁদের ধর্মীয় অনুভূতিকে বিবেচনায় নিয়ে ছুটি দেওয়া হবে না কেন ? শিক্ষা ব্যবস্থা শুধু জ্ঞানার্জনের বিষয় নয় উল্লেখ করে জমিয়াতুল মোদার্রেছীনের এই নেতা বলেন, শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা, মূল্যবোধ, সংস্কৃতি ও ধর্মীয় অনুভূতির প্রতি সম্মান প্রদর্শন করাও শিক্ষাব্যবস্থার অন্যতম দায়িত্ব। দেশের অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান যখন ছুটি পালন করছে, তখন কোনো কোনো বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস-পরীক্ষা চালু রাখার বিষয়টি ধর্মপ্রাণ মানুষের মনে ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।
তিনি আরও বলেন, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো দেশের মূল শিক্ষা কাঠামোরই অংশ। সরকারি নীতিমালা ও ছুটির নির্দেশনা প্রতিপালন করা তাঁদের দায়িত্ব। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর এমন কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়, যা কোনো সম্প্রদায়ের অনুভূতিতে আঘাত আনে। এ বিষয়ে গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে কোনো বিশ্ববিদ্যালয় সরকারি ছুটির নির্দেশ অমান্য করে থাকলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
দেশের সব সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ধর্মীয়ভাবে গুরুত্বপূর্ণ দিনগুলোর ছুটি পালনে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনকে (ইউজিসি) একটি অভিন্ন ও কার্যকর নীতিমালা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

ফেসবুকে লাইক দিন

আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ।