সর্বশেষঃ

প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জমি দখল করে ঘর নির্মাণ

ভোলার চরফ্যাশনে ৭২নং দক্ষিণ চর মঙ্গল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৩৪ শতাংশ জমি দখল করে ঘর নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, স্থানীয় ফখরুলের নেতৃত্বে ইব্রাহিম পাটওয়ারী ও নাসিম বিদ্যালয়ের জমি দখল করে ভেকু দিয়ে মাটি ভরাট করে সেখানে ঘর নির্মাণ করেছেন।

ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার শশীভূষণ থানার চর কলমী ইউনিয়নের চর মঙ্গল গ্রামের ৮ নম্বর ওয়ার্ডে।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আলী হোসেনের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয়ের দখলে থাকা জমির একটি অংশ সম্প্রতি দখল করে নেওয়া হয়েছে। পরে ভেকু দিয়ে মাটি ভরাট করে সেখানে ঘর নির্মাণ করা হয়। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিত ভাবে অবহিত করা হবে।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৬৮ সালে ৭২নং দক্ষিণ চর মঙ্গল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠার পর থেকে বিদ্যালয়ের নামে থাকা ৬৬ শতাংশ জমি বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ভোগদখল করে আসছিল। ২০১৯ সালে মো. আলী হোসেন প্রধান শিক্ষক হিসেবে যোগদানের পর দায়িত্ব বুঝে নেন। পরে সার্ভেয়ারের মাধ্যমে জমি পরিমাপ করে বিদ্যালয়ের সীমানা নির্ধারণ করা হয়।

প্রধান শিক্ষক মো. আলী হোসেন বলেন, ‘বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর থেকেই ৬৬ শতাংশ জমি বিদ্যালয়ের দখলে ছিল। ২০১৯ সালে দায়িত্ব নেওয়ার পর সার্ভেয়ার দিয়ে জমি পরিমাপ করে সীমানা নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু প্রায় এক সপ্তাহ আগে ফখরুলের নেতৃত্বে ইব্রাহিম পাটওয়ারী ও নাসিম বিদ্যালয়ের ৩৪ শতাংশ জমি দখল করে ভেকু দিয়ে মাটি ভরাট করে ঘর নির্মাণ করেছেন। আমরা একটি নতুন ভবনের বরাদ্দ পেয়েছি। আমাদের ইচ্ছে ছিল সেই জমিতেই ভবনটি স্থাপন করবো

বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি আব্দুল লতিফ বলেন, ‘৬৬ শতাংশ জমিই বিদ্যালয়ের ভোগদখলে ছিল। সম্প্রতি ফখরুলের নেতৃত্বে ইব্রাহিম পাটওয়ারী ও নাসিম বিদ্যালয়ের জমি দখল করে নিয়েছেন। আমরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা দাবি করছি।’

এ বিষয়ে অভিযুক্ত ফখরুল ও ইব্রাহিম পাটওয়ারী বলেন, ‘নাসিম নামের একজন ব্যক্তি এই জমির ক্রয় সূত্র মালিক। তাই তিনি জমি দখল নিয়েছে। আমরা শুধু দেখবাল করেছি। আমরা সরাসরি জমি দখল করিনি।’

নাসিম কর্মক্ষেত্রে ঢাকায় থাকার কারনে তার  মুঠোফোনে একাধিকবার কল দিলেও সে রিসিভ না করায় বক্তব্য জানা যায়নি।

এ বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান বলেন, ‘বিদ্যালয়ের জমি কেউ দখল করে থাকলে প্রশাসনের মাধ্যমে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।’

সহকারী কমিশনার (ভূমি) এমাদুল হোসেন বলেন, ’তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ফেসবুকে লাইক দিন

আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ।