ভোলায় পরিচয়হীন বৃদ্ধার চিকিৎসার দায়িত্বে পুলিশ, নার্স ও জাগরণী ফাউন্ডেশন
ভোলায় পরিচয়হীন বৃদ্ধার চিকিৎসার দায়িত্বে পুলিশ, নার্স ও জাগরণী ফাউন্ডেশন

মোঃ সোহেল রানা :
গত ৫ তারিখে ডান হাত ভেঙে ভোলা সদর হাসপাতালে ভর্তি হন পরিচয়হীন এই বৃদ্ধা। কোনো স্বজন না থাকায় হাসপাতালে কর্তব্যরত পুলিশ সদস্য মামুন এবং সদর হাসপাতালের নার্সরা ওনার দেখাশোনার পুরো দায়িত্ব নেন। শুধু তাই নয়—হাসপাতালে আসা অজ্ঞাত বা পরিচয়হীন নারীদের পরিচর্যায় যে নারী কর্মী সবসময় কাজ করেন, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে তাকেও সার্বক্ষণিক বৃদ্ধার সেবায় নিয়োজিত রাখা হয়।
ভোলা সদর হাসপাতালে কর্তব্যরত পুলিশ সদস্য মামুন বলেন, কোনো স্বজন না থাকায় আমি এবং সদর হাসপাতালের নার্সরাই ওনার দেখাশোনার দায়িত্ব নেই। কিন্তু ওনার আরও উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন হওয়াতে বরিশালে পাঠানোর প্রয়োজন দেখা দেয়, তাই আমরা জাগরণী ফাউন্ডেশনের সাথে যোগাযোগ করি।
খবর পেয়েই এগিয়ে আসে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘জাগরণী ফাউন্ডেশন’। পুলিশ সদস্য মামুন ও নার্সদের আর্থিক সহায়তায় এবং জাগরণী ফাউন্ডেশনের সমন্বয়ে বৃদ্ধাকে বরিশালে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়। একই সাথে, ভোলা সদর হাসপাতালের পক্ষ থেকে সেই পরিচর্যাকারী নারী কর্মীকেও বৃদ্ধার সফরসঙ্গী হিসেবে সাথে পাঠানো হয়, যাতে পথে বা চিকিৎসাকালে তার কোনো অসুবিধা না হয়।
জাগরণী ফাউন্ডেশনের উপদেষ্টা শাহনাজ বেগম চিনু জানান, খবর পেয়েই আমরা হাসপাতালে এসে এই বৃদ্ধা মায়ের পাশে দাঁড়াই। একজন অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমাদের সামাজিক ও নৈতিক দায়িত্ব।
মানসিক ভারসাম্যহীন এই বৃদ্ধার প্রতি জাগরণী ফাউন্ডেশন, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ, নার্স এবং কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যের এমন সম্মিলিত মানবিক উদ্যোগ স্থানীয়দের মাঝে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে। এমন নিঃস্বার্থ ভালোবাসাই মনে করিয়ে দেয়—পৃথিবীতে মানবতা আজও বেঁচে আছে।
