সর্বশেষঃ

মনপুরায় এক মাসেই ধসে পড়ল কোটি টাকার দুই সড়ক, নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ

আব্দুর রহমান সোয়েব, মনপুরা : 

ভোলার বিচ্ছিন্ন দ্বীপ উপজেলা মনপুরায় ১ কোটি ৩২ লাখ ৬৭ হাজার টাকার বেশি ব্যয়ে নির্মিত দুটি হেরিংবোন বন্ড (এইচবিবি) সড়ক নির্মাণের মাত্র এক মাসের মধ্যেই বিভিন্ন স্থানে ধসে পড়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রয়োজনীয় মাটি ভরাট ছাড়াই এবং নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করে সড়ক দুটি নির্মাণ করায় অল্প সময়েই সেগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার দাবি, অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত ও জোয়ারের পানির কারণেই সড়কের কিছু অংশ নষ্ট হয়েছে।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের অধীনে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের ২০২৫–২০২৬ অর্থবছরের প্রকল্পে মনপুরা উপজেলার ২ নম্বর হাজীরহাট ইউনিয়নের ৫ ও ৭ নম্বর ওয়ার্ডে গ্রামীণ যোগাযোগব্যবস্থা টেকসই করতে মোট ১ হাজার ৫০০ মিটার এইচবিবি সড়ক নির্মাণে ১ কোটি ৩২ লাখ ৬৭ হাজার টাকার বেশি বরাদ্দ দেওয়া হয়। প্রকল্পটির কার্যাদেশ পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স ভাই ভাই ট্রেডার্স।
প্রকল্পের আওতায় দ্বিতীয় পর্যায়ে ৭ নম্বর ওয়ার্ডের চরফৈজুদ্দিন গ্রামের আবহাওয়া অফিসসংলগ্ন আবু তাহেরের বাড়ি থেকে পূর্বদিকে বেড়িবাঁধ পর্যন্ত ১ হাজার মিটার এবং ৫ নম্বর ওয়ার্ডে গ্রামীণ টাওয়ারসংলগ্ন রহিম হাফেজের বাড়ি থেকে পশ্চিমে বেড়িবাঁধ মসজিদ পর্যন্ত ৫০০ মিটার এইচবিবি সড়ক নির্মাণ করা হয়।
সম্প্রতি সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার মাত্র এক মাসের মধ্যেই সড়ক দুটির বিভিন্ন স্থানে ইট দেবে গেছে, সরে গেছে এবং ভেঙে পড়েছে। কোথাও কোথাও ইট উঠে গিয়ে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এতে পথচারী ও যানবাহন চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, নির্মাণকাজে নিম্নমানের ইট ব্যবহার করা হয়েছে। পাশাপাশি পর্যাপ্ত বালু ও ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় পরিমাণ ইট না দেওয়ায় সড়কগুলো অল্প সময়েই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাদের দাবি, কাজ শেষ হওয়ার কিছুদিন পর থেকেই সড়কের বিভিন্ন অংশ ভাঙতে শুরু করে। অথচ বিপুল সরকারি অর্থ ব্যয় করেও টেকসই সড়ক নির্মাণ নিশ্চিত করা যায়নি।
স্থানীয়দের ভাষ্য, সড়ক দুটি দীর্ঘদিন টেকসই থাকবে—এমন প্রত্যাশা ছিল। কিন্তু মাত্র এক মাসের মাথায় এমন বেহাল অবস্থা দেখে তারা হতাশ। তারা নির্মাণকাজের গুণগত মান তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া এবং সড়কগুলো মানসম্মতভাবে পুনর্নির্মাণ বা সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন।
৫ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য তসলিম বলেন, রাস্তার কাজ শুরুর আগে তিনি ঠিকাদারকে মাটি ভরাট করে রাস্তা উঁচু করার পর এইচবিবি নির্মাণের পরামর্শ দিয়েছিলেন। কিন্তু তাঁর দাবি, সেই পরামর্শ না মেনেই মাটি ভরাট ছাড়াই কাজ করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ওই সড়কের জন্য প্রায় ২ লাখ টাকার মাটি ভরাটের একটি প্রকল্প ছিল। পরিকল্পনা ছিল আগে মাটি ভরাটের কাজ শেষ করে পরে এইচবিবি নির্মাণ করা হবে। কিন্তু তা না হওয়ায় রাস্তা ও পাশের জমির উচ্চতা প্রায় সমান হয়ে গেছে। তাঁর মতে, এ কারণেই অল্প সময়ের মধ্যেই সড়কটি ধসে পড়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স ভাই ভাই ট্রেডার্সের প্রতিনিধি জাহিদুর রহমান বলেন, “অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতের কারণে সড়কের ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হওয়ায় কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বৃষ্টিপাত কমে গেলে পুরো সড়কটি মেরামত করা হবে।”
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা নাসির উদ্দীন বলেন, অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত ও জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হওয়ার কারণে সড়কটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ঠিকাদারকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। বৃষ্টিপাত কমে গেলে তিনি সড়কটি সম্পূর্ণভাবে মেরামত করবেন।
তবে স্থানীয়দের প্রশ্ন, নতুন নির্মিত একটি সড়ক যদি মাত্র এক মাসের বৃষ্টিতেই ধসে পড়ে, তাহলে দীর্ঘমেয়াদে এর স্থায়িত্ব কতটা হবে? তারা প্রকল্পটির নির্মাণমান তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

 

ফেসবুকে লাইক দিন

আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ।