সর্বশেষঃ

নিরাপদ আশ্রয়ের অভাবে ঝুঁকিতে ভোলার ৫ হাজার জেলের নৌযান

নিরাপদ আশ্রয় না থাকায় ভোলা সদরের ইলিশা ও রাজাপুর ইউনিয়নের প্রায় পাঁচ হাজার জেলের মাছ ধরার ট্রলার ও নৌযান প্রতিনিয়ত ঝুঁকিতে রয়েছে। নদীর তীর বা সিসি ব্লকের পাশে নৌযান বেঁধে রাখতে বাধ্য হওয়ায় ঝড়, জলোচ্ছ্বাস কিংবা বৈরী আবহাওয়ায় প্রতিবছর ক্ষতির মুখে পড়ছেন তারা। ক্ষয়ক্ষতি কমাতে মেঘনা তীরঘেঁষে অন্তত দুই কিলোমিটার খাল পুনঃখননের দাবি জানিয়েছেন জেলে, কৃষক ও স্থানীয় বাসিন্দারা।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, একসময় ইলিশা ও রাজাপুর এলাকায় একাধিক প্রাকৃতিক খাল থাকলেও সেগুলোর অনেকগুলো ভরাট হয়ে গেছে। ফলে মাছ ধরা শেষে নিরাপদে ট্রলার বা নৌকা রাখার সুযোগ নেই। বাধ্য হয়ে নদীর তীরেই সারিবদ্ধভাবে নৌযান বেঁধে রাখেন জেলেরা। বৈরী আবহাওয়ায় উত্তাল ঢেউয়ের আঘাতে প্রায়ই ক্ষতিগ্রস্ত হয় এসব নৌযান।

একজন জেলে বলেন, “যে খালগুলো ছিল, সেগুলো ভূমিদস্যুরা ভরাট করে ফেলেছে। তাই সিসি ব্লকের সঙ্গে নৌকা বেঁধে রাখতে হয়। একটু ঝড়-বাতাস হলেই নৌকাগুলো ভেঙে যায়।”

জেলেদের অভিযোগ, মাছ বিক্রি করে যে আয় হয়, তা দিয়ে একদিকে সংসার চালাতে হয়, অন্যদিকে ক্ষতিগ্রস্ত নৌকা ও জাল মেরামত করতে গিয়ে ঋণের বোঝা বাড়ছে। নিরাপদ খাল থাকলে এই ক্ষতি অনেকাংশে কমানো সম্ভব বলে মনে করেন তারা।

শুধু জেলেরাই নন, খাল খননের দাবি জানিয়েছেন কৃষকরাও। তাদের মতে, মেঘনা তীরঘেঁষে অন্তত দুই কিলোমিটার খাল খনন করা হলে বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা কমবে। এতে হাজার হাজার একর কৃষিজমি রক্ষা পাবে এবং কৃষি উৎপাদনও বাড়বে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, ইলিশা চ্যানেলসংলগ্ন খালটি দ্রুত পুনঃখনন করা হলে একদিকে নৌযানের নিরাপদ আশ্রয় নিশ্চিত হবে, অন্যদিকে এলাকার পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থারও উন্নতি হবে।

জেলা মৎস্য বিভাগও খাল খননের প্রয়োজনীয়তার সঙ্গে একমত। ভোলা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন বলেন, জেলে ও তাদের নৌযান-জালের নিরাপত্তার জন্য একটি নিরাপদ খাল প্রয়োজন। এ বিষয়ে সরকারের কাছে সুপারিশ চাওয়া হলে তিনি ইতিবাচক মতামত দেবেন।

অন্যদিকে ভোলা-১ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জিয়া উদ্দীন আরিফ বলেন, যেসব খাল পুনঃখনন প্রয়োজন এবং যেখানে অবৈধ স্থাপনা রয়েছে, সেগুলো চিহ্নিত করার কাজ চলছে। মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় খাল পুনঃখনন এবং অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্থানীয়দের আশা, সরকার দেশের বিভিন্ন স্থানে পুরোনো খাল পুনঃখনন ও নতুন খাল খননের যে উদ্যোগ নিয়েছে, তার আওতায় ভোলার ইলিশা-রাজাপুর এলাকার খালও দ্রুত পুনঃখনন করা হবে। এতে শুধু জেলেদের নৌযানই নিরাপদ আশ্রয় পাবে না, দুর্যোগ মোকাবিলা, মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণ, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং স্থানীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

ফেসবুকে লাইক দিন

আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ।