সর্বশেষঃ

দুর্নীতির প্রতিবাদ করায় সহকারী শিক্ষককে কুপিয়ে জখমের অভিযোগ, হাসপাতালে ভর্তি

ভোলার চরফ্যাশন উপজেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের অনিয়ম ও দুর্নীতির প্রতিবাদ করায় এক সহকারী শিক্ষককে কুপিয়ে ও মারধর করে আহত করার অভিযোগ উঠেছে। গুরুতর আহত ওই শিক্ষক বর্তমানে ভোলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

শনিবার (২৭ জুন) বিদ্যালয় থেকে বাড়ি ফেরার পথে উপজেলার চরমানিকা ইউনিয়নের দক্ষিণ আইচা এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগী ও স্থানীয়রা।

আহত শিক্ষক মো. আক্তার হোসেন উপজেলার ১৬৮ নম্বর দক্ষিণ চর আইচা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক। তাঁর অভিযোগ, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. জাহিদুল ইসলাম ইউসুফের অনিয়ম, দুর্নীতি ও বিদ্যালয়ে অনুপস্থিতির বিষয় নিয়ে প্রতিবাদ করায় দীর্ঘদিন ধরে তিনি হুমকির মুখে ছিলেন।

ভুক্তভোগীর দাবি, ঘটনার দিন নির্ধারিত সময়ের আগেই বিদ্যালয় ছুটি দেওয়ার পর তিনি বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হন। পথে প্রধান শিক্ষক ইউসুফের নেতৃত্বে ৬–৭ জন তাঁর ওপর দেশীয় অস্ত্র নিয়ে অতর্কিত হামলা চালায়। হামলায় তাঁর দুই হাতসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম হয়। স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। পরে তাঁকে উদ্ধার করে প্রথমে চরফ্যাশন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ভোলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আক্তার হোসেন বলেন, “প্রধান শিক্ষকের অনিয়ম ও দুর্নীতির প্রতিবাদ করায় আমার ওপর এই হামলা চালানো হয়েছে। আমাকে হত্যার উদ্দেশ্যে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়েছে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।”

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে প্রধান শিক্ষক মো. জাহিদুল ইসলাম ইউসুফের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

চরফ্যাশন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান বলেন, সহকারী শিক্ষককে মারধরের ঘটনা শুনেছেন। তবে হামলার সঙ্গে কারা জড়িত, সে বিষয়ে নিশ্চিত নন। তিনি বলেন, “ভুক্তভোগী লিখিত বা মৌখিক অভিযোগ দিলে এবং বিষয়টি বিদ্যালয়-সংশ্লিষ্ট হলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় দাপ্তরিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একজন শিক্ষকের ওপর এমন হামলা অত্যন্ত ন্যাক্কারজনক।”

ভোলা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি তাঁর জানা ছিল না। উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার কাছ থেকে তথ্য নিয়ে তদন্তের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় দাপ্তরিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।

এদিকে, একজন শিক্ষকের ওপর হামলার ঘটনায় নিন্দা ও ক্ষোভ জানিয়েছে বাংলাদেশ সরকারি সহকারী শিক্ষক সমিতি। সংগঠনটির নেতারা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

ভুক্তভোগীর দাবি, এটি প্রথম ঘটনা নয়। ২০২৪ সালেও একই প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে দুর্নীতির প্রতিবাদ করায় তাঁকে অবরুদ্ধ করা, হামলার চেষ্টা, বিদ্যালয়ে প্রবেশে বাধা দেওয়া এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। সে সময় তাঁর মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়ে অনিয়ম-সংক্রান্ত তথ্য মুছে ফেলারও অভিযোগ করা হয়।

এ ছাড়া স্থানীয় সূত্রের দাবি, একই প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অতীতে বিদ্যালয়ের আরেক সহকারী শিক্ষককে মারধরের অভিযোগও উঠেছিল। পরে স্থানীয় সালিসের মাধ্যমে সেই ঘটনার নিষ্পত্তি হয় বলে জানা গেছে।

এ ঘটনায় মামলা হয়েছে কি না বা পুলিশি তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

ফেসবুকে লাইক দিন

আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ।