ভোলার লালমোহনে বেড়িবাঁধ ভেঙে প্লাবিত বসতঘর, চরম দুর্ভোগে হাজারো মানুষ
ভোলার লালমোহনে বেড়িবাঁধ ভেঙে প্লাবিত বসতঘর, চরম দুর্ভোগে হাজারো মানুষ

স্টাফ রিপোর্টার :
ভোলার লালমোহন উপজেলার ফরাজগঞ্জ ইউনিয়নের রিং বেড়িবাঁধের বিভিন্ন অংশে ভয়াবহ ভাঙন দেখা দেওয়ায় জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হচ্ছে স্থানীয়দের বসতঘর। পানির প্রবল তোড়ে ভেসে যাচ্ছে গবাদি পশু ও হাঁস-মুরগি। তেঁতুলিয়া নদীর তীরবর্তী করতোয়া আবাসনের প্রায় দেড় হাজার মানুষ প্রতিনিয়ত বেঁচে থাকার কঠিন সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছেন। প্রায় দেড় বছর ধরে বাঁধভাঙা এমন ভয়াবহ পরিস্থিতি চলতে থাকলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগী বাসিন্দারা। তারা দ্রুত বেড়িবাঁধ সংস্কারের পাশাপাশি সিসি ব্লক দিয়ে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের জোর দাবি জানিয়েছেন।
সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, ফরাজগঞ্জ ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের করতোয়া আবাসন প্রকল্পটি প্রায় দুই যুগ আগে নির্মাণ করা হয়। সে সময় তেঁতুলিয়া নদীর তীরবর্তী মানুষকে জোয়ার ও জলোচ্ছ্বাস থেকে রক্ষায় প্রায় দুই কিলোমিটার দীর্ঘ একটি উঁচু রিং বেড়ি নির্মাণ করা হয়। সর্বশেষ ২০২২ সালে বাঁধটি সংস্কার করা হলেও এরপর আর কোনো কাজ হয়নি। প্রায় দেড় বছর আগে জোয়ারের পানির তীব্র চাপে বাঁধের প্রায় ৪০০ মিটার এলাকা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং অন্তত ৭-৮টি অংশ সম্পূর্ণ ভেঙে যায়। স্থানীয় বাসিন্দা আসমা আক্তার ও শাহানুর বেগম জানান, জোয়ার আসলেই তাদের বসতঘরে পানি প্রবেশ করে। বাধ্য হয়ে পরিবারের সবাইকে নিয়ে দীর্ঘসময় খাটের ওপর বসে থাকতে হয় এবং পানি নামতে ৪-৫ ঘণ্টা সময় লাগে। জোয়ারের পানিতে চুলা নষ্ট হয়ে যাওয়ায় ঠিকমতো রান্নাও করতে পারেন না তারা। বিউটি বেগম ও জান্নাত বেগম নামের আরও দুই বাসিন্দা জানান, বেড়িবাঁধ ভেঙে পানি ঢুকে তাদের গরু, ছাগল ও হাঁস-মুরগি ভাসিয়ে নিয়ে গেছে, এতে তারা আর্থিকভাবে চরম ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
আবাসনের বাসিন্দা মো. আব্দুল রাজ্জাক ও মো. শাহিন জানান, ২৬০টি বসতঘরের নিরাপত্তার জন্য নির্মিত এই বাঁধটি দেড় বছর ধরে ভাঙা পড়ে থাকলেও পানি উন্নয়ন বোর্ড কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। আকাশে মেঘ জমলে বা সামান্য বৃষ্টি হলেই আবাসনের মানুষ চরম আতঙ্কে দিন কাটান।
এ বিষয়ে ভোলা পানি উন্নয়ন বিভাগ-২ এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আসফাউদদৌলা জানান, রিং বাঁধের অধিক ঝুঁকিপূর্ণ ৩০০ মিটার অংশ ইতোমধ্যে চিহ্নিত করা হয়েছে। আপাতত জরুরি ভিত্তিতে ২০০ মিটার এলাকায় ২ হাজার ৭৩৫টি জিও ব্যাগ ও মাটির কাজ করা হবে। খুব দ্রুত সময়ের মধ্যেই এই সংস্কার কাজ শুরু হবে এবং পরবর্তীতে বাকি অংশের কাজও পর্যায়ক্রমে সম্পন্ন করা হবে বলে তিনি আশ্বাস প্রদান করেছেন।
