মনপুরায় স্লুইস গেটের পানিতে সাঁতার কাটতে গিয়ে নিখোঁজ মাদ্রাসা ছাত্র
তজুমদ্দিনের স্কুলের প্রত্যয়নপত্র নিয়ে দুই দফা সংঘর্ষ, আহত-২

তজুমদ্দিন প্রতিনিধি ॥
ভোলার তজুমদ্দিন উপজেলার শম্ভুপুর এম.আর. রেসিডেন্সিয়াল একাডেমিতে একটি প্রত্যয়নপত্রে কেন্দ্র করে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা ও এক শিক্ষার্থীর অভিভাবকের মধ্যে বাগবিতণ্ডার জেরে দুই দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় উভয় পক্ষের অন্তত দুইজন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। বুধবার (১৭ জুন) শম্ভুপুর খাসের হাট বাজার এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় উভয় পক্ষ তজুমদ্দিন থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
জানা যায়, প্লে শ্রেণির শিক্ষার্থী মো. লাভিবের পিতা আহসানুল হক মমিন কয়েকদিন আগে সন্তানের জন্মনিবন্ধনের কাজে ব্যবহারের জন্য বিদ্যালয় থেকে একটি প্রত্যয়নপত্র নেন। বুধবার তিনি পুনরায় বিদ্যালয়ে এসে প্রত্যয়নপত্রে সংশোধন ও স্বাক্ষরের বিষয় নিয়ে প্রধান শিক্ষিকার সঙ্গে বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে ছাতা ও চেয়ার দিয়ে আঘাত করার দাবী করেন শিক্ষিকা। বিদ্যালয়ের ঘটনার জেড় ধরে দক্ষিণ খাসের হাট বাজারে উভয় পক্ষের লোকজনের মধ্যে আবারও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত দুইজন আহত হয়।
ঘটনার বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা বলেন, লাভিবের বাবা আহসানুল হক মমিন তার ছেলের জন্মনিবন্ধন জন্য প্রত্যয়নপত্র দেয়ার পরেও পুনরায় বিদ্যালয়ে এসে প্রত্যয়নপত্রে স্বাক্ষর দেওয়ার অনুরোধ করেন। আমি তাকে জানাই, প্রয়োজনীয় স্বাক্ষর দেওয়া আছে। এ সময় তিনি উত্তেজিত হয়ে বলেন, এটা হবে না। আপনাকে চাকরি দিয়েছে কে ? আপনার তো চাকরি করার মতো কোনো যোগ্যতাই নেই। এসব নিয়ে আমাদের মধ্যে কথাকাটাকাটি হয় এবং একপর্যায়ে তিনি আমার ওপর লাইব্রেরিত থাকা ছাতা এবং চেয়ার দিয়ে আঘাত করেন এবং শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন।
অন্যদিকে আহসানুল হক মমিন বলেন, আমার ছেলে শম্ভুপুর এম. আর. রেসিডেন্সিয়াল একাডেমির প্লে শ্রেণির শিক্ষার্থী। বিদ্যালয় থেকে একটি প্রত্যয়নপত্র নেওয়ার পর সেখানে কিছু ভুল দেখতে পাই। বিষয়টি সংশোধনের জন্য প্রধান শিক্ষিকার সঙ্গে কথা বললে তিনি উত্তেজিত আচরণ করেন। পরে বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা রফিক মাস্টার বিষয়টি অবহিত করলে তিনি আমাকে খাসের হাট বাজারে সামছুলের চায়ের দোকানে দেখা করতে বলেন। সেখানে গেলে শিক্ষিকার স্বামী ও তার কয়েকজন স্বজন পূর্বপরিকল্পিতভাবে আমার ওপর হামলা চালায়।
ঘটনার সময় বিদ্যালয়ে উপস্থিত থাকা এক অভিভাবক জানান, মমিন ভাই লাইব্রেরিতে ম্যাডামের সাথে তর্কাতর্কির একপর্যায়ে ছাতা এবং চেয়ার দিয়ে আঘাত করেন এবং একটি চেয়ার ছুড়ে মারেন। হৈ-চৈ শুনে লোকজন জড়ো হলে তিনি চলে যায়। এ বিষয়ে তজুমদ্দিন থানা অফিসার ইনচার্জ ওসি মিজানুর রহমান জানান, সংঘর্ষের ঘটনায় থানায় উভয়পক্ষ লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
