দৌলতখানে ডেঙ্গু প্রতিরোধে জেলা তথ্য অফিস ভোলার উদ্বুদ্ধকরণ সংগীতানুষ্ঠান
দৌলতখানে যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে দাহ্য পদার্থে ঝলসে দেওয়ার অভিযোগ, স্বামী আটক

ভোলার দৌলতখানে যৌতুকের দাবিতে পারিবারিক কলহের জেরে স্ত্রীকে অ্যাসিডজাতীয় দাহ্য পদার্থ ছুড়ে শরীর ঝলসে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক যুবকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত স্বামী মো. হাসনাইন আহম্মেদ ওরফে মুসাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে দগ্ধ আঁখি আক্তারকে ভোলা ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তাঁর বুক ও পেটের ওপরের অংশে পোড়া জখম রয়েছে।
আটক হাসনাইন আহম্মেদ মুসা দৌলতখান উপজেলার একই ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের মিলন মাঝির ছেলে। তিনি পেশায় ইলেকট্রিক মিস্ত্রি।
ভুক্তভোগী আঁখি আক্তার ও তাঁর পরিবারের অভিযোগ, প্রায় পাঁচ মাস আগে মুসার সঙ্গে আঁখির বিয়ে হয়। বিয়ের সময় স্বামীর পরিবারের পক্ষ থেকে চাওয়া স্বর্ণালংকার ও ব্যবসার জন্য টাকা না দেওয়াকে কেন্দ্র করে বিয়ের পর থেকেই তাঁদের মধ্যে পারিবারিক বিরোধ চলছিল। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে দুই পরিবারের মধ্যে একাধিকবার সালিশও হয়। তবে তাতে বিরোধের সমাধান হয়নি।
আঁখির অভিযোগ, যৌতুকের টাকা না পেয়ে তাঁর স্বামী বিভিন্ন সময় তাঁকে মারধর করতেন। একপর্যায়ে তিনি বাবার বাড়িতে চলে যান।
আঁখির পরিবারের ভাষ্য, গত শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) তাঁর বাবা তাঁকে আবার স্বামীর বাড়িতে দিয়ে আসেন। ওই দিনও মুসা তাঁকে মারধর করেন। পরে রাতে ঘুমিয়ে থাকা অবস্থায় তাঁর বুকে অ্যাসিডজাতীয় দাহ্য পদার্থ ছুড়ে দেওয়া হয়। এতে তাঁর বুক ও পেটের ওপরের অংশ ঝলসে যায়।
আঁখির অভিযোগ, ঘটনার পর তাঁকে প্রায় দুই দিন ঘরের মধ্যে আটকে রাখা হয় এবং বাবা-মায়ের সঙ্গে যোগাযোগ করতে দেওয়া হয়নি। পরে রবিবার দুপুরে তিনি সেখান থেকে পালিয়ে বাবার বাড়িতে যান। সেখানে স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা নেওয়ার পর অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় মঙ্গলবার তাঁকে ভোলা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আঁখি আক্তার বলেন, যৌতুকের টাকার জন্য তাঁর স্বামী প্রায়ই তাঁকে মারধর করতেন। টাকা দিতে না পারায় তাঁর শরীরে দাহ্য পদার্থ নিক্ষেপ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। এ ঘটনায় তিনি অভিযুক্তের শাস্তি দাবি করেন।
ভোলা ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. তৈয়বুর রহমান বলেন, মঙ্গলবার দুপুর ১২টার দিকে আঁখি আক্তার নামের ১৮ বছর বয়সী এক নারীকে জরুরি বিভাগে আনা হয়। তাঁর অভিযোগ, শরীরে অ্যাসিড নিক্ষেপ করা হয়েছে। প্রাথমিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাঁর বুক ও পেটের ওপরের অংশে বার্ন রয়েছে, তবে তা ত্বকের উপরিভাগে এবং মাংস পর্যন্ত পৌঁছায়নি। তাঁর চিকিৎসা চলছে।
দৌলতখান থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. খলিলুর রহমান বলেন, এ ঘটনায় অভিযোগের ভিত্তিতে হাসনাইন আহম্মেদ মুসাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। তবে এ ঘটনায় এখনো মামলা হয়নি। মামলা হলে আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার বিষয়ে অভিযোগ ও সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য যাচাই করে পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
