গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থাকলেও ভোলায় মিলছে না পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ

স্টাফ রিপোর্টার ॥
প্রাকৃতিক গ্যাসসমৃদ্ধ দ্বীপজেলা ভোলায় গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থাকা সত্ত্বেও বিদ্যুৎ সরবরাহ ঘাটতির কারণে গ্রামাঞ্চলে স্থিতিশীলতা নেই। তীব্র দাবদাহের মধ্যে ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে জনজীবন হয়ে উঠেছে দুর্বিষহ। স্থানীয়দের অভিযোগ, ২৪ ঘণ্টায় গড়ে ৪ থেকে ৫ ঘণ্টাও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ মিলছে না। অনেক এলাকায় ঘণ্টায় ১০ থেকে ১৫ বার পর্যন্ত বিদ্যুতের ‘আসা-যাওয়া’ করছে, যা জনজীবনকে চরম ভোগান্তিতে ফেলেছে। বিশেষ করে চলমান এসএসসি ও দাখিল পরীক্ষার্থীরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বিদ্যুতের অনিয়মিত সরবরাহে তাদের পড়াশোনা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন অভিভাবকরা। এদিকে, গত এক মাস ধরে জেলায় তাপমাত্রা ৩৪ থেকে ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ওঠানামা করছে। ভ্যাপসা গরমের সঙ্গে বিদ্যুৎ সংকট মিলিয়ে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে।
সদর উপজেলার আলীনগর ইউনিয়নের সাচিয়া এলাকার গৃহবধূ রাবেয়া বেগম বলেন, আমাদের গ্যাস দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদিত হয়, কিন্তু আমরা নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ পাচ্ছি না। ২৪ ঘণ্টায় অন্তত ৫-৭ বার বিদ্যুৎ আসে-যায়। বিদ্যুতের এই ভেলকিবাজিতে আমরা অতিষ্ঠ। তিনি আরো বলেন, বিশেষ করে সন্ধ্যার পরে সন্তানরা পড়া-লেখা করতে বসে, তখন যদি বার বার বিদ্যুৎ আসা-যাওয়া করে তাহলে কিভাবে সন্তানরা পড়াশুনা করবে ? এছাড়া রাতের বেলা ঘুমাতে গিয়েও শান্তি নাই। আমরা চাই ভোলাতে নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ দেয়া হোক।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতায় ফ্রিজে সংরক্ষিত পণ্য নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে দোকান ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখতে বাধ্য হচ্ছেন তারা। ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পকারখানার মালিকদেরও একই অবস্থা। উৎপাদন ব্যাহত হয়ে লোকসানের মুখে পড়ছেন তারা।
ভোলার বিসিক শিল্প নগরীর বিসমিল্লাহ প্রিন্টিং এন্ড প্যাকেজিং কারখানার মালিক মোঃ কামরুজ্জামান বলেন, আমার প্রতিষ্ঠানটি সম্পূর্ণ বিদ্যুৎ এর উপর নির্ভরশীল। বিদ্যুৎ না থাকলে উৎপাদন বন্ধ থাকে। ঘনঘন লোডশেডিং এর কারণে আমার উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। বিদ্যুতের এ তাল-বাহানায় আমার মত বিসিকের সকল ব্যবসায়ীদের লোকশানের মুখে পড়তে হচ্ছে। বিদ্যুতের এই দুর্ভোগ থেকে আমাদের পরিত্রাণ দিয়ে সঠিকভাবে উৎপাদন করতে পারি সে ব্যাপারে সরকার দৃষ্টি দিবেন আশা করছি।
শ্রমজীবী মানুষ ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরাও পড়েছেন চরম বিপাকে। নিয়মিত বিদ্যুৎ না থাকায় তাদের আয়-রোজগার ব্যাহত হচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ভোলায় উৎপাদিত বিদ্যুৎ দেশের অন্যান্য জেলায় সরবরাহ করা হলেও স্থানীয় গ্রাহকরা বঞ্চিত হচ্ছেন। এ বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অনেকেই। তবে বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ বলছে, জাতীয় গ্রিড থেকে চাহিদার তুলনায় বিদ্যুৎ সরবরাহ কম পাওয়ায় বাধ্য হয়েই লোডশেডিং দিতে হচ্ছে।
ভোলা পল্লী বিদ্যুতের ডিজিএম মাহমুদুল হাসান বলেন, চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। ওজোপাডিকোর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ইউসুফ জানান, জেলায় ৬টি উপজেলায় ৫ লাখের বেশি গ্রাহক বিদ্যুতের ওপর নির্ভরশীল। এর মধ্যে ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের চাহিদা ২২ থেকে ৩০ মেগাওয়াট এবং পল্লী বিদ্যুতের চাহিদা ৭০ থেকে ৯০ মেগাওয়াট। কিন্তু জাতীয় গ্রিড থেকে প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ সরবরাহ না পাওয়ায় সংকট তৈরি হচ্ছে।
এই পরিস্থিতিতে দ্রুত বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করার দাবি জানিয়েছেন ভোলাবাসী। তাদের মতে, স্থানীয় উৎপাদন থাকা সত্ত্বেও এমন সংকট অগ্রহণযোগ্য এবং এর টেকসই সমাধান জরুরি।

ফেসবুকে লাইক দিন

আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ।