বোরহানউদ্দিনে নির্বাচনী সহিংসতা নিয়ে বিএনপি-জামায়াতের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ

বোরহানউদ্দিন প্রতিনিধি ॥
ভোলার বোরহানউদ্দিনে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। খবর পেয়ে পুলিশ ও নৌ বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। রোববার (২৫ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার বোরহানগঞ্জ বাজার এলাকায় এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
এদিকে ওই নির্বাচনী সহিংসতা নিয়ে বিএনপি-জামায়াত পাল্টাপাল্টি অভিযোগ করেছে। রোববার রাত ১০ টায় উপজেলা বিএনপি কার্যালয়ে বিএনপির নেতৃবৃন্দ তাদের প্রতিক্রিয়া ও অবস্থান জানাতে গণমাধ্যমের সাথে কথা বলেন। ওই সময় ভোলা-২ (বোরহানউদ্দিন-দৌলতখান) ধানের শীষের প্রার্থী মো. হাফিজ ইব্রাহিমের নির্বাচনী এজেন্ট আকবর হোসেন বলেন, পক্ষিয়া ইউনিয়ন জামায়াতের আমির ও স্থানীয় কুলসুম রহমান মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক মো. হারুনের নেতৃত্বে জামায়াত নেতা-কর্মীরা মিছিল সহকারে বোরহানগঞ্জ বিএনপি অফিসে হামলা চালায়।
অফিসে জসিম মাতাব্বর, শাকিল, অন্তর ও রাজিব বসা ছিলেন। এর মধ্যে শাকিলকে টেনে বাইরে এনে বেধরক মারধর করে গায়ের জামা-কাপড় ছিড়ে ফেলে। জসিম মাতাব্বর ও অন্তর শাকিলকে উদ্ধার করতে গেলে তাদেরকেও মিছিকারীরা মারধর করে। ওই সময় পক্ষিয়া ইউনিয়ন বিএনপি সভাপতি ঘটনাস্থলে পৌঁছলে তার উপরও হামলা হয়। তিনি আরো বলেন,‘ওই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতে পৌর জামায়াতের সেক্রেটারী জেনারেল মাকসুদুর রহমানের নেতৃত্বে একটি জঙ্গি মিছিল বোরহানগঞ্জ পৌঁছে বাজার ব্যবসায়ীদের মারধর ও তাঁদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে লুটপাট করে। ওই হামলার ফলে সব মিলিয়ে ১৫ জন আহত হন। ’নেতৃত্বদানকারী
অনেকেই স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসার এমপিও ভূক্ত শিক্ষক উল্লেখ করে আকবর হোসেন দাবি করেন, এরা নির্বাচন আচরণবিধি ভঙ্গ করার পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলার বিঘ্ন ঘটিয়েছে। তিনি অবিলম্বে রিটার্নিং ও সহকারী রিটানিং অফিসারের কাছে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে দল-মত নির্বিশেষে দোষীদের শাস্তি দাবি করে ন্যায় বিচারের আহবান জানান। ওই সময় বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
অপরদিকে রাত পৌনে ১১ টায় উপজেলা জামায়াত কার্যালয়ে উপজেলা জামায়াত আমির মো. মাকসুদুর রহমান অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমাদের দ্বারা হামলার প্রশ্নই আসেনা বরং আমাদের দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী মুফতি ফজলুল করিমের পক্ষে শানিপূর্ণ মিছিলে বিনা উস্কানিতে বিএনপির জসিম মাতাব্বর, শাকিল হাওলাদার, সুজন রাঢী, ইদ্রিস মিয়ার নেতৃত্বে ৬০-৭০ জন বিএনপি নেতা-কর্মী মিছিলে অতর্কিত হামলা চালায়। এতে ৫-৭ জন আহত কর্মী হয়। তিনিও ঘটনার এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে বিচার দাবি করেছেন। ওই সময় উপজেলা ও পৌর জামায়াতের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
বোরহানউদ্দিন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক। কেউ থানায় অভিযোগ করলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
