চরফ্যাশন থেকে ফিল্মি স্টাইলে কলেজ ছাত্রীকে অপহরণ, কুয়াকাটা থেকে উদ্ধার

চরফ্যাশন সংবাদদাতা ॥
সম্প্রতি ভোলার চরফ্যাশন উপজেলা থেকে অপহৃত কারিমা হাসান (১৭) নামে এক কলেজছাত্রীকে পটুয়াখালীর কুয়াকাটার একটি আবাসিক হোটেল থেকে উদ্ধার ও দুই যুবককে আটকের আলোচিত ঘটনায় বেরিয়ে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। মূলত প্রেমের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় ফিল্মি স্টাইলে জোরপূর্বক অপহরণ করা হয় ওই তরুণীকে। এ ঘটনায় গত বুধবার (৬ এপ্রিল) সন্ধ্যায় ভুক্তভোগীর মা সালমা আক্তার বাদী হয়ে চরফ্যাশন থানায় ৪ জনকে আসামি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে অপহরণ মামলা দায়ের করেন। এতে প্রধান আসামি করা হয় একই উপজেলার পাশ্ববর্তী দুলারহাট থানার বাসিন্দা মো. জাবেদকে (২২)। মামলায় ২ নম্বর আসামি করা হয় জাবেদের বাবা মো. ছালাউদ্দিন মেম্বারকে। এছাড়াও আসামি করা হয় জাবেদের বন্ধু হাসনাইন (২১) ও মেহেদী হাসানকে (২৬),তাদের দুজনের বাড়ি চরফ্যাশনের আব্দুল্লাহপুর ইউনিয়নে।
মামলার এজাহার, পুলিশ ও ভুক্তভোগীর পরিবার সুত্রে জানা যায়, মামলার বাদী ও আসামিগণ পাশ্ববর্তী এলাকার বাসিন্দা। দীর্ঘদিন ধরে প্রধান আসামি জাবেদ ভুক্তভোগী কলেজছাত্রী কারিমা হাসানকে প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে আসছিল এবং প্রায় রাস্তায় দাঁড়িয়ে তাকে উত্ত্যক্ত করতো। একপর্যায়ে সম্প্রতি বিষয়টি ভুক্তভোগী তার পরিবারকে জানালে তারা জানান জাবেদের পরিবারকে, আর এতে বাঁধে বিপত্তি। আরও জানা যায়,এরপর গত (৬ এপ্রিল) বুধবার বিকেলে ভুক্তভোগী কারিমা হাসান পাশ্ববর্তী এলাকায় অবস্থিত তার বান্ধবীর বাড়িতে জন্মদিনের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে যাওয়ার পথে দুলারহাট থানার বাজারের মোড় থেকে তাকে জোরপূর্বক সিএনজিতে উঠিয়ে ভোলা সদর উপজেলার ভেদুরিয়া লঞ্চঘাটে নিয়ে আসেন,এতে জাবেদকে সহযোগিতা করেন তার দুই বন্ধু হাসনাইন ও মেহেদী। এরপর সেখান থেকে স্পিডবোটযোগে বরিশাল পৌঁছে সেখান থেকে প্রাইভেটকার ভাড়া নিয়ে তরুণীকে নিয়ে কুয়াকাটায় পৌঁছে সেখানকার রুপান্তর নামে একটি আবাসিক হোটেল উঠেন তারা।
এরপর বৃহস্পতিবার (৭ মে) দিনগত মধ্যরাতে সেখানে মহিপুর থানা ও চরফ্যাশন থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে হোটেল থেকে কারিমা হাসানকে উদ্ধার করেন। এছাড়া অভিযানে আটক করা হয় জাবেদের দুই বন্ধুকে, পালিয়ে যায় মামলার প্রধান আসামি জাবেদ।
ভুক্তভোগীর মা ও মামলার বাদী সালমা আক্তার বলেন, পরিকল্পিতভাবে জাবেদ তার দুই বন্ধুর সহযোগিতায় আমার মেয়েকে অপহরণ করেছেন। এর পেছনে ইন্ধন যুগিয়েছে জাবেদের বাবা। মামলা দায়েরের পর পুলিশ আমার মেয়েকে উদ্ধার করেছেন। আমি এ ঘটনায় জড়িত সকলের দৃষ্টান্তমুলক বিচার চাই। শুক্রবার (৮ মে) দিনগত রাতে মামলাটির তদন্তকারী কর্মকর্তা চরফ্যাশন থানার উপপরিদর্শক (নিরস্ত্র) মো. সিদ্দিকুর রহমান বলেন, ভুক্তভোগীর মা চরফ্যাশন থানায় মামলাটি দায়েরের পর তাকে উদ্ধারে আমরা অভিযান শুরু করি। এরপর তথ্য প্রযুক্তি ও মহিপুর থানা পুলিশের সহায়তায় কুয়াকাটার একটি আবাসিক হোটেলে অভিযান চালিয়ে আমরা ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করতে সক্ষম হই। এবং এ ঘটনায় মামলার তিন নম্বর আসামি হাসনাইন ও চার নম্বর আসামি মেহেদি হাসানকে চরফ্যাশন থানার মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়েছি। ভুক্তভোগী ও আসামিদেরকে নিয়ে চরফ্যাশন থানার উদ্দেশ্যে (ভোলা) রওনা হয়েছি।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি আরও বলেন, প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে মূলত প্রেমের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় ভুক্তভোগীকে জোরপূর্বক অপহরণ করা হয়েছিল এবং আবাসিক হোটেলে রাখা হয়েছিল। মামলার প্রধান আসামি জাবেদ চেয়েছিল তাকে বিয়ে করবে। মামলাটির আরও তদন্ত চলছে।
এবিষয়ে চরফ্যাশন থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহামুদ আল ফরিদ ভুঁইয়া বলেন, উদ্ধারকৃত ভুক্তভোগীসহ গ্রেপ্তারকৃত ২ আসামিকে থানায় আনা হচ্ছে। আসামিদেরকে চরফ্যাশন আদালতে সোপর্দ করা হবে। এছাড়া মামলাটির বাকি আসামিদের ধরতে আমাদের অভিযান চলছে।
