সর্বশেষঃ

জীবনের ডায়েরী থেকে গল্প সমগ্র : পর্ব-১২

[ ড. টি. এন. রশীদ ]

(গত পর্বের পর) : আমি সেই বৃটিশ আমলের মানুষ। কত উত্থান, কত পতন, কত পরিবর্তন ঘটেছে আমার চোখের সামনে। দেশকে দেখেছি জন্ম লগ্নে আর এখনও দেখছি। নিজের দেশের প্রতি আমার যে ভালবাসা আছে হয়ত এত ভালবাসা আর কারো জন্যই ছিল না। যে কারণে বাবা-মা, স্বামী- সন্তান, পরিবারসহ সকল কিছুর মায়াতেই দেশকে ত্যাগ করিনি। বরং শত বাধা-বিপত্তি অগ্রাহ্য করেই আমি দেশের জন্য কাজ করেছি। আমার পরিবার হয়তো রাজনীতি করা পছন্দ করত না। সমাজ সেবাটা ও অনেকের চোখের বালি ছিল। কিন্তু তারপরও লেখা লেখিটা সকলের পছন্দ ছিল। আমার সাহিত্য চর্চার জন্য আমার স্বামী আমাকে উৎসাহ দিতেন। কিন্তু বাইরে তা প্রকাশ করার অনুমতি দেন নি কখনো। কিংবা কোন বই পত্রিকাও আমার জন্য নিয়া আসেন নি। ঘরের বাহিরে সমাজ সেবামূলক আমার সকল কাজই তাঁর অপছন্দ ছিল। এ জন্যই হয়তো আমাকে ঘরে ধরে রাখতে চাইত। অন্যদিকে শুধু লেখা-লেখি করতে বলতেন।
আমার সন্তানেরা প্রত্যেকেই বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত দেশ-বিদেশে তাদের কত সুনাম। এই সন্তানদের মানুষ করার পিছনে আমার কত অবদান। কত রাত জাগরণ কত প্রহর গোনা কত চিন্তা সন্তানদের জন্য। নিজের কাজকে প্রাধান্য দিয়ে কখনো সন্তানদের ভুলে যাইনি। বুকে আগলে রেখেছি পরম মমতায়। অথচ আমার স্বামী বলত আমি না কি ঘরের খেয়ে বনের মহিষ তাড়াই। তখন তাঁর কথায় মনে কষ্ট পেলেও পরে বুঝেছি, তিনি তো আমার স্বামী। কখনোই আমার অমঙ্গল চাইবেন না। অবশ্য আমরা আগের দিনের মানুষ। সে কারণে হয়তো চাইতেন ঘরের বউ ঘরে থাক। বুঝতে পেরেছি বলেই তাঁর প্রতি আমার কোন অনুযোগ ছিল না। আজ আমার স্বামী নেই। তিনি পৃথিবী থেকে চির বিদায় নিয়ে গেলেন। স্বামী হিসেবে সর্বত্র আমি তাঁকে ভক্তি শ্রদ্ধা ভরে স্মরণ করি।

(চলবে——-)

ফেসবুকে লাইক দিন

আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ।