এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে কিছু কথা

সত্যিকার অর্থে আমাদের দেশের অধিকাংশ বেসরকারি পলিটেকনিক গুলো ল্যাব শূন্য, এটা শুধু এই বেসরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট গুলো নয় আমাদের বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয় গুলো একই অবস্থা। তাই আমার প্রথম পরামর্শ হলো সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট এ আগে চেষ্টা করুন সেখানে না হলে বেসরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট গুলো পরিদর্শন করুন যেখানে মোটামুটি মানের কিছু ল্যাব দেখবেন সেখানে ভর্তি হতে পারেন।কারন আপনাকে মনে রাখতে হবে আপনি এখান থেকে পড়াশোনা শেষ করে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদে চাকরি করবেন যেখানে আপনার উপর অনেক মানুষের ভবিষ্যৎ নির্ভরশীল কারন আপনার একটা ভুল ভবিষ্যতে অনেক বড় ক্ষতির কারন হতে পারে। অবশ্যই ল্যাব ক্লাস গুলো গুরুত্বপূর্ণ তাই এর প্রতি অতিরিক্ত মনোযোগী হবেন।
ডিপ্লোমা প্রকৌশলে কেন ভর্তি হবে তরুনরা-
দেখেন আামাদের দেশে আমরা ৯০% পরিবার নিম্ন মধ্যবিত্ত আর একটি নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারের কাছে একটা উপার্জনক্ষম মানুষ অনেক গুরুত্বপূর্ণ। আর আমি মনে করি একজন ডিপ্লোমা প্রকৌশলী পাশ করে যেই বয়সে সে যে সম্মান নিয়ে চাকরি জীবন শুরু করবে সেটা আমাদের অন্য কোন শিক্ষা ব্যবস্হায় নেই। আর তাছাড়া একজন সঠিক ডিপ্লোমা প্রকৌশল পাশ করা ছাত্র-ছাত্রী বেকার আছে বলে আমার জানা নেই। আমার প্রিয় বিদ্যাপিঠ বরিশাল পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট এ একটা প্রবাদ বাক্য প্রধান ফটকে লেখা ছিলো “শিক্ষার জন্য আসো, আর প্রবৃদ্ধির জন্য বেরিয়ে পড়ো।
আর তাছাড়া একজন ডিপ্লোমা প্রকৌশল পাশ শিক্ষার্থী পাশ করার পরপরই বাংলাদেশ সরকারের দশম গ্রেডের সরকারি চাকরির জন্য আবেদন করতে পারে উপ-সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে।
সরকারি চাকরি ব্যতিতো বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের চাকরির সুযোগ সম্পর্কে বলুন-
দেখেন বাংলাদেশ একটি ডেবলোপমেন্ট দেশ আমরা এগিয়ে যাচ্ছি আমাদের দেশে শত শত কলকারখানা স্হাপন হচ্ছে, আর আপনারা আর একটি বিষয় জেনে আনন্দিত হবেন যে ইউরোপীয় দেশগুলো চায়নার বিকল্প হিসেবে বাংলাদেশকে বেচে নিচ্ছে যার ফলে অনেক চায়না কোম্পানিও এখন বাংলাদেশে কলকারখানা স্হাপনে ইনভেস্ট করছে আর প্রতিটি কলকারখানায় প্রচুর ডিপ্লোমা প্রকৌশলী প্রয়োজন। তবে একটা বিষয় মাথায় রাখতে হবে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান গুলো আপনার দক্ষতা বিচার করবে তাই শিক্ষা জীবনে বাস্তব কাজের সাথে বেশি বেশি যুক্ত থাকুন যেমন ল্যাব ক্লাস গুলো কখনো মিস করবেন নাহ, প্রয়োজনে আপনি যে বিষয় নিয়ে পরছেন ঐ বিষয়ে বাস্তব কাজের সাথে যুক্ত থাকার চেষ্টা করুন শিক্ষা জীবন থেকেই।
বিষয় পছন্দ করার বিষয়ে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে কিছু বলেন –
সত্যিকার অর্থে প্রতিটি বিষয় আসলে গুরুত্বপূর্ণ এবং প্রতিটি বিষয়ের চাকরির বাজার রয়েছে কমবেশি। তবে আমি একটি বিষয় বলবো সেটা হলো আপনি আগে নিজে সিদ্ধান্ত নিন আপনি কোন বিষয় নিয়ে পড়বেন এবং আপনি কোন বিষয়টার প্রতি বেশি ইন্টারেস্টেড। আপনি যদি প্রতিটি বিষয়ের কাজ এবং চাকরির বাজার সম্পর্কে ধারনা না থাকে তাহলে বড় ভাইদের সাহায্যে নিন। কেননা এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এখানে ভুল হলে আপনি আপনার লক্ষ্যে পৌছাতে পারবেন নাহ। তাই এখনও সময় আছে সময় নিয়ে ভেবে চিন্তে সিদ্ধান্ত নিন।
ডিপ্লোমা প্রকৌশল পড়াশোনার বিষয়এ অনেকে অনেক বাজে মন্তব্য করে সেক্ষেত্রে আপনার পরামর্শ কি-
আসলে আমাদের সমাজ ব্যবস্হা এমন একটা জায়গায় রয়েছে যেখানে কারো সাফল্য কেউ মেনে নিতে পারে নাহ আপনাকে একটা ছোট ভবিষ্যত বানী বলে দিচ্ছি আপনি বা আপনার সহপাঠী যে ডিপ্লোমা পাশ করবে সে যখন ডিপ্লোমা প্রকৌশল পাশ করে দশম গ্রেডের সরকারি চাকরিতে যোগদান করবে তখন আপনার অনেক বন্ধু অনার্স ২য় বর্ষ শেষ করেনি। আর বেসরকারি প্রতিষ্ঠান আপনি যেই পজিশন হোল্ড করবে আপনার বন্ধু বান্ধব অনার্স-মাস্টার্স শেষ করেও ঐ পজিশনে যেতে যেতে আপনি তখন হয়তো কোন প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্হাপনা পরিচালক হবেন ইনশাআল্লাহ।
সর্বোপরি একটি বিষয় মনে রাখবেন পরিশ্রম এবং দক্ষতাই সফলতার চাবিকাঠি। নিজের কাজকে সম্মান করলে আপনি যে ডিগ্রি অর্জন করুন না কেনো সফলতা আসবেই।
আপনার কাছে ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে মতামত দিন-
মোঃ রাকিবুল হাসান
ডিপ্লোমা ইন ইন্জিনিয়ারং (পাওয়ার)
সহকারী পরিচালক
ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ পিএলসি।
