সর্বশেষঃ

জোহরের আজানের সাথেই ছুটি হয়ে যায় যে স্কুল

জোহরের আজান দেওয়ার সাথে সাথেই যে স্কুলটি ছুটি হয়ে যায় সে স্কুলটির নাম কলাতলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়-কাম সাইক্লোন সেল্টার। এ বিদ্যালয়টি ভোলার বিচ্ছিন্ন ও দুর্গম মনপুরা উপজেলার কলাতলী চরে অবস্থিত। বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা বলছেন, বর্ষা মৌসুমে দুপুরের পর নদীর পানিতে ডুবে যায় পথ-ঘাট। তখন শিক্ষার্থীদের বাড়ি যেতে সমস্যা হয়। তাই, সরকারের বেধে দেওয়া সময়ের আগেই বিদ্যালয় ছুটি দেওয়া হচ্ছে।

আর শিক্ষা কর্মকর্তা বলছেন, কোন বিদ্যালয়েই সরকারের বেধে দেওয়া সময়ের আগে ছুটির কেন বিধান নেই। তবে, এখনো বর্ষা মৌসুম শুরু হয়নি বলে জানিয়েছেন শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয়রা।
গত ২৮ মার্চ সোমবার বেলা ১টার দিকে কলাতলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়-কাম সাইক্লোন সেল্টারে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের সব শ্রেনীকক্ষে তালা ঝুলছে। তালা ঝুলছে বিদ্যালয়ের দোতলায় ওঠার প্রধান ফটকেও। স্থানীয়দের কাছে জানতে চাইলে তারা জানায়, স্কুল ছুটি হয়ে গেছে। যা নিয়মিতভাবে এ সময়ে ছুটি হয়ে থাকে।
পরদিন ২৯ মার্চ মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে একই বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা গেছে, শিক্ষার্থীরা যে যার মতো করে দৌড়াদৌড়ি করছে আর খেলাধুলা করছে। তখনও বিদ্যালয়ে কোন শিক্ষক আসেননি। এ সময় কথা হয় বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থীদের সাথে। তারা জানায়, সকাল ৯টার মধ্যে তারা স্কুলে আসে। কিন্তু স্যাররা আসেন ১০টার পর। এ সময় শিক্ষার্থীরা সৃকুল মাঠেই খেলাধুলা করে থাকে। আর জোহরের আজান দিলেই স্কুল ছুটি হয়ে যায় বলে জানায় শিক্ষার্থীরা।
সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বিদ্যালয়ে আসেন সহকারী শিক্ষক মোঃ শরিফসহ ২জন সহকারী শিক্ষক।
সহকারী শিক্ষক মোঃ শরিফ জানান, বিদ্যালয়ে ৪ জন শিক্ষক রয়েছেন। শিক্ষার্থী রয়েছে ২৬৭ জন। এর মধ্যে প্রধান শিক্ষক মোঃ মহিউদ্দিন বিদ্যালয়ের কাজে মনপুরা গেছেন। বাকি ২ জন অনুপস্থিত। তবে, কেন অনুপস্থিত তা তিনি জানেননা। জোহরের আজানের সাথে সাথে স্কুল ছুটির বিষয়ে তিনি বলেন, বর্ষা মৌসুমে নদীর জোয়ারের পানিতে এ চরের অধিকাংশ এলাকা ডুবে যায়। তখন শিক্ষার্থীদের বাড়ি ফিরে যেতে সমস্যা হয়। তাই, সরকার নিয়মের আগেই বিদ্যালয় ছুটি হয়ে যায়। তবে, স্থানীয়রা জানান, শুধু বর্ষার মৌসুম নয়, সব মৌসুমেই কলাতলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়-কাম সাইক্লোন সেল্টারটি জোহরের আজানের সাথে সাথেই ছুটি হয়ে যায়। এখনো বর্ষা মৌসুম শুরু হয়নি বলেও জানান তারা।
এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের একাধিক অভিভাবকের সাথে কথা হলে তারা বলেন, সকাল ১০ টায় ছেলে মেয়েরা বিদ্যালয়ে গিয়ে আবার ১টা বাজতে না বাজতেই চলে আসে। আসলে এই তিন ঘন্টায় এতগুলো বইয়ের কি ক্লাস হয় তা আমাদের বোধগম্য নয়। শিক্ষকদের এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করলে তারাও সেভাবে আমলে নেয় না। বাধ্য হয়েই ছেলে মেয়েরা কোচিং নির্ভর হয়ে পড়েছে। এ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরাও বিদ্যালয় চলাকালীন ক্লাসে কোচিং বাণিজ্য করছেন। বর্তমানে তাদের পড়াশুনা কোচিং নির্ভর বলে জানান অভিভাবকরা।
এ বিষয়ে কলাতলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়-কাম সাইক্লোন সেল্টারের প্রধান শিক্ষক মোঃ মহিউদ্দিন বলেন, আসলে জোহরের আজানের সাথে সাথে স্কুল ছুটির নিয়ম নেই। তবে, ২৯ মার্চ একটি অনুষ্ঠান ছিল। হয়তো সে জন্য তার আগের দিন সহকারী শিক্ষকরা আগে ভাগে স্কুল ছুটি দিয়ে দিছেন।
এ বিষয়ে মনপুরা উপজেলার ভারপ্রাপ্ত শিক্ষা কর্মকর্তা মিজানুর রহমানের সাথে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
তবে, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নিখিল চন্দ্র হালদার শনিবার সকালে ভোলার বাণী কে বলেন, আমাদের আওতায় থাকা বিদ্যালয়গুলো সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত ক্লাস চলবে। কিন্তু মনপুরার কলাতলী চর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি কেন ১টায় ছুটি হয়ে যায় সেটা আমরা খোঁজ নিয়ে দেখবো।

ফেসবুকে লাইক দিন

আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ।