আজ তৃতীয় ধাপে ভোলার দৌলতখান-বোরহানউদ্দিনসহ ৬৩ পৌরসভায় ভোট

* রয়েছে ৪ স্তরের নিরাপত্ত বাহিনী।
* প্রতি কেন্দ্রে থাকছে ১ জন নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট।
* ১৮ কেন্দ্রের মধ্যে ৮ কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ।
উৎসাহ আর শঙ্কার মধ্যে আজ শনিবার (৩০ জানুয়ারি) তৃতীয় ধাপে ভোলার দৌলতখান-বোরহানউদ্দিনসহ ৬৩ পৌরসভায় ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত টানা ভোটগ্রহণ চলবে। নির্বাচনি পরিবেশ নিয়ন্ত্রণে মাঠে রয়েছেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব মো. আলমগীর জানিয়েছেন, সুষ্ঠু ভোট আয়োজনের সব প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। ভোটে অনিয়ম প্রতিরোধে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
সূত্রে জানা গেছে, আজ ভোলার বোরহানউদ্দিন ও দৌলতখান পৌরসভার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ইতোমধ্যে নির্বাচন সংক্রান্ত প্রায় সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। শুক্রবার বিকেল ৪টায় দুই উপজেলা নির্বাচন কার্যালয় প্রাঙ্গণে ভোটগ্রহণের যাবতীয় সরঞ্জাম সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রের প্রিজাইডিং কর্মকর্তাদের কাছে হস্তান্তর করেন জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা। এর আগে বৃহস্পতিবার রাত ১২টা থেকে প্রার্থীদের প্রচার প্রচারণার উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়।
জেলা রিটার্নিং অফিসার আলা উদ্দিন আল মামুন ভোলার বাণীকে জানান, শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণের লক্ষ্যে সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। কেন্দ্রগুলোতে নির্বাচনী সরঞ্জাম পাঠানো হয়েছে। ৪ স্তরের নিরাপত্তার মধ্যদিয়ে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। বোরহানউদ্দিন ও দৌলতখান পৌরসভার ১৮ টি ভোট কেন্দ্রের মধ্যে ৮টি ভোট কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। প্রতিটি ভোট কেন্দ্রে একজন করে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট থাকবেন। ভোটারদের নিরাপত্তায় প্রতিটি ভোট কেন্দ্রে পর্যাপ্ত পুলিশ ও আনসার সদস্য থাকবে। পাশাপাশি স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে ছয় সেকশন র্যাব ও চার প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন থাকবে।
জেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্র ভোলার বাণীকে জানায়, ভোলার বোরহানউদ্দিন ও দৌলতখান পৌরসভায় ৫ মেয়রসহ প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছেন ৮১ জন প্রার্থী। যাদের মধ্যে সাধারণ কাউন্সিলর পদে ৬১ জন এবং সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর পদে ১৫ জন রয়েছে। বোরহানউদ্দিন পৌরসভায় মেয়র পদে লড়ছেন ৩ জন। তারা হলেন, আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী বর্তমান মেয়র মো. রফিকুল ইসলাম, বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী মনিরুজ্জামান কবির ও স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্দুস সালাম।
এছাড়া এ পৌরসভায় ৯টি ওয়ার্ডে সাধারণ কাউন্সিল পদে লড়ছেন ৩৩ জন ও সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে লড়ছেন ৭ জন। এখানে মোট ভোটার সংখ্যা ১০ হাজার ৭১৬ জন। যাদের মধ্যে পুরুষ ভোটার ৫ হাজার ৩৯৫ জন এবং নারী ভোটার ৫ হাজার ৩২১ জন।
অন্যদিকে দৌলতখান পৌরসভায় আওয়ামী লীগ ও বিএনপি দুই প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছেন। যাদের মধ্যে আওয়ামী লীগের প্রার্থী বর্তমান মেয়র জাকির হোসেন তালুকদার ও বিএনপি প্রার্থী আনোয়ার হোসেন কাকন। এখানে ৯ ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে ২৮ জন ও সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর পদে ৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বীতা করবেন। এখানে মোট ভোটার সংখ্যা ১২ হাজার ৬০৬ জন। যাদের মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬ হাজার ৭০৮ জন এবং নারী ভোটার ৫ হাজার ৮৯৮ জন।
এদিকে এই ধাপের নির্বাচনি লড়াইয়ে অংশ নিচ্ছে আওয়ামী লীগ, বিএনপিসহ কয়েকটি রাজনৈতিক দল। পাশাপাশি মেয়র পদে লড়ছেন বেশকিছু স্বতন্ত্র প্রার্থীও। এ ধাপে মোট ৩৭ জন জনপ্রতিনিধি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। এর মধ্যে ৩ জন মেয়র, ৯ জন সংরক্ষিত কাউন্সিলর ও ২৫ জন সাধারণ কাউন্সিলর বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন।
ইসি জানিয়েছে, ময়মনসিংহের ত্রিশাল পৌরসভায় তৃতীয় ধাপে ভোট হওয়ার কথা থাকলেও একজন মেয়র প্রার্থীর মৃত্যুতে এ নির্বাচন স্থগিত করে চতুর্থ ধাপে স্থানান্তর করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া, কুমিল্লার লাকসাম ও বাগেরহাটের মোড়েলগঞ্জ পৌরসভায় মেয়র পদে একক প্রার্থী থাকায় তারা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। আজ সকালে ভোটগ্রহণের আগে প্রত্যেক কেন্দ্রে ব্যালট পেপারসহ নির্বাচনি উপকরণ পাঠাবে ইসি। কমিশনের শেষ মুহূর্তের নির্দেশনায় ভোটগ্রহণ শেষে দ্রুত ফলাফল পাঠাতে বলা হয়েছে। নির্বাচনে মেয়র পদে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে আওয়ামী লীগ-বিএনপির প্রার্থীর মধ্যে। অন্য দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীও আছেন।
করোনা ভাইরাস মহামারির মধ্যে এবার পাঁচ ধাপে পৌরসভা নির্বাচন করছে কমিশন। প্রথম ধাপের তপশিলের ২৪টি পৌরসভায় ইভিএমে ভোট হয় ২৮ ডিসেম্বর। গত ১৬ জানুয়ারি দ্বিতীয় ধাপে ৬০টি পৌরসভায় ভোট হয়। আর তৃতীয় ধাপে ৬৩টি পৌরসভায় আজ ৩০ জানুয়ারি ভোট হবে। চতুর্থ ধাপে ৫৭ পৌরসভায় ভোট হবে আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি এবং পঞ্চম ধাপের ৩১ পৌরসভায় ভোটগ্রহণ হবে ২৮ ফেব্রুয়ারি।
