এই শেষ বয়সে পাকা বাড়িতে ঘুমাতে পারবো

‘আমি মানুষের বাড়িতে কাজ করে খাই। নিজের কোনো জায়গা-জমি নেই। পরের বাড়িতে থাকি। কোনো দিন স্বপ্নেও ভাবিনি সরকার আমাকে একটা ঘর দেবে। আমার নিজের একটা পাকা বাড়ি হবে। এই শেষ বয়সে পাকা বাড়িতে ঘুমাতে পারবো।’ কান্নাজড়িত কণ্ঠে এভাবেই কথাগুলো বলছিলেন দৌলতখান উপজেলার ৬৫ বছর বয়সী মোসাম্মৎ বেগম।
তিনি বলেন, ‘আমি মানুষের বাড়িতে কাজ করি। মানুষের সাহায্য-সহযোগিতায় আমার জীবন চলে। মানুষের দেওয়া ভাঙা বাড়িতে অনেক কষ্ট করে থাকছি। বৃষ্টি হলে ঘরে পানি পড়ে। ছেলেমেয়ে নিয়ে ভেজা ঘরে অনেক কষ্টে থাকছি। আমি যে একটা পাকা বাড়ি পাবো সেটা কোনোদিন ভাবিনি। আমি নামাজ পড়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্য দোয়া করবো। তার মেয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্যও দোয়া করবো।’

এদিকে ৭০ বছর বয়সী রুহল আমিন অন্যের জমিতে ঝুপড়ি ঘরে বসবাস করেন। ছেলের সামান্য উপার্জনে যেখানে খেয়ে পড়ে বেঁচে থাকাই কষ্টের, সেখানে নিজের একটা বাড়ির কথা ভাবাটাও অকল্পনীয়। তবে প্রধানমন্ত্রীর উপহার হিসেবে তিনিও একটি পাকা বাড়ি পেতে যাচ্ছেন।
ঘর পাওয়ার প্রতিক্রিয়ায় রুহুল আমিন বলেন, ‘আমি কখনও ভাবিনি আমার একটি পাকা বাড়ি থাকবে। আমি অনেক খুশি। নিজের পাকা বাড়ি হবে এটা আমার কাছে স্বপ্নের চেয়েও বেশি পাওয়া।’
শুধু বেগম ও রুহুল আমিন নয়, দৌলতখান উপজেলার বিভিন্ন স্থানে এমন অসহায়, বিধবা, স্বামী পরিত্যক্তা, ভূমি ও গৃহহীন মানুষের জন্য সরকার মুজিববর্ষ উপলক্ষে ৪২টি পাকা ঘর নির্মাণ করেছে।
দুই শতক জায়গার উপরে নির্মিত প্রতিটা ঘরের নির্মাণ ব্যয় এক লাখ ৭১ হাজার টাকা। দুই কক্ষ বিশিষ্ট ঘরের সঙ্গে একটি রান্নাঘর, একটি সংযুক্ত টয়লেট ও ব্যবহারের জন্য প্রয়োজনীয় জায়গা রাখা হয়েছে। পাকা ঘরের দুই শতক জমির মালিকানাও পাবেন উপকারভোগী ব্যক্তিরা।
আশ্রয়ণ-২ প্রকল্প, গুচ্ছগ্রাম, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় এ তিন সংস্থার সমন্বয়ে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে সারা দেশে সরকারের খাস জমিতে প্রায় ৬৬ হাজার ভূমিহীন ও গৃহহীনদের জন্য গৃহনির্মাণ করছে। এসব ঘরের কাজ এরইমধ্যে প্রায় সম্পন্ন হয়েছে। জানুয়ারি মাসের মাঝামাঝি কোনো এক সময়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ ঘরগুলো উপকারভোগীদের কাছে হস্তান্তর করবেন।
দৌলতখান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাওছার হোসেন বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উলক্ষে প্রধানমন্ত্রী সারাদেশের মতো দৌলতখান উপজেলায়ও ৪২টি বাড়ি অসহায়, দরিদ্র, ভূমিহীন, গৃহহীন, প্রতিবন্ধী, বিধবা, স্বামী পরিত্যাক্তা ও অতি বৃদ্ধাদের উপহার দেবেন। এ বাড়ি নির্মাণের জন্য গত ২৪ ডিসেম্বর কাজ শুরু করা হয়। এরমধ্যে চর পাতা ইউনিয়নের ৪০টি, উত্তর জয়নগর ইউনিয়নে একটি ও চর খলিফা ইউনিয়নের একটি বাড়ি রয়েছে। প্রতিটি বাড়িতে ১ লাখ ৭১ হাজার টাকা বরাদ্দ রয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা উন্নতমানে সামগ্রী ব্যবহার করেছি। উপহার ভোগীরা কোনো প্রকার সমস্যা ছাড়াই অনেক বছর ধরে বসবাস করতে পারেন এ ঘরে। আগামী ২৩ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রী গৃহ হস্তান্তর কার্যক্রমের উদ্ধোধন করবেন।’
