ভোলার চরে নিখোঁজের ৩৪ দিন পরে পঁচা কাটা অংগ উদ্ধার

ভোলা সদর উপজেলার ভোলার চর নামক স্থানে গত ২৩ নভেম্ভর ২০২০ ওহাব মেম্বার গ্রুপ ও রাসেল খাঁন গ্রুপের জমিজমা নিয়ে আধিপত্য বিস্তার স্থাপনের খুটি শক্ত করার সার্থে সংঘর্ষ ঘটে।এই সংঘর্ষের ঘটনায় ওহাব গ্রুপের হারিছ সর্দারের পুত্র রাকিব ও হাদিছ মাতাব্বরের পুত্র শেখ ফরিদ নিখোঁজ হয়। তারা আজও নিখোঁজ রয়েছে বলে জানা যায়। তবে সংঘর্ষের ঘটনায় উভয় পক্ষের মামলা দায়ের হয়েছে। তবে নিখোঁজ শেখ ফরিদের বড় ভাই আলমগীর বাদী হয়ে দায়েরকৃত মামলায় মিন্টু ও কালাম আটক হন। আটকের পরে নিখোঁজ ব্যাক্তিদ্বয়ের এখনো কোন খোঁজ পাওয়া না গেলেও মামলার এজাহার নামিয় আসামি কালামকে জামিনে মুক্তি দেন বিজ্ঞ আদালত। কালাম মুক্তি পেলেও মামলার অন্যতম আসামী মিন্টু খাঁ রয়েছে জেল হাজতে।
এদিকে সাংঘর্ষিক ঘটনার ৩৪ দিন অতিবাহিত হবার পরে স্থানীয় ভোলার চরে বসবাস রত হারিচ সর্দারের তথ্যমতে গতকাল ২৭ ডিসেম্বর ২০২০ দুপুর অনুমান ১৩ঃ৩০ মিনিটের দিকে অর্ধ পঁচা অবস্থায় কাটা একটি অংগ পাকা ধান ক্ষেতের মধ্যথেকে উদ্ধার করেন ভোলা সদর থানার এস আই কবির। তবে উদ্ধারকৃত অংগটি মানুষের না অন্য কোন প্রাণীর তা এখনো নিশ্চিত নয়। তবে হারিছ সর্দার দাবী করেন উদ্ধার কৃত অংগটি তার নিখোঁজ পুত্র রাকিবের। আবার এই অংগটি মামলার বাদি আলমগীর ও তার ভাই কামাল মাতাব্বর দাবি করেন তার নিখোঁজ ভাই শেখ ফরিদের হবে।
এ বিষয়ে ওহাব আলি মেম্বারের পুত্র সাদ্দামের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, গত ২৩ নভেম্বর ভোলার চরে আমাদের জমি-জমা অনৈতিক ভাবে জবর দখল করা ও রাসেল খানের ভাইদের অন্যায় অত্যাচারের বিরুদ্ধে ইতি পুর্বের মামলা তদন্তে ভোলা সদর থানার ওসি মহদয় গেলে তদন্ত শেষে পুলিশের টিম ফিরে আসতেই রাসেল বাহিনী ও তাদের ভারাটিয়া হিযবুত তাওহিদের অনুসারিরা মিলিত হয়ে আমাদের চাষা ও কাজের লোকদের উপর হামলা চালায়। ঐ হামলার মধ্যথেকে আমাদের পক্ষের শেখ ফরিদ ও রাকিব নামের দুজন নিখোঁজ হয়েছে। উদ্ধার কৃত অঙ্গটি ওদের দুজনের যে কোন একজনের হবে।

ভোলার চরে সংঘর্ষের অণ্য গ্রুপের প্রধান রাসেল খাঁনের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি। রাসেলের তার ছোট ভাই মাহবুব খাঁন (বর্ডার গার্ড সদস্য) বলেন আজ একমাস চার দিন পরে নাটকিয়ভাবে আমাদের ৩৫ একর জমির ধান লুট করার জন্য ওহাব ও আলতু ডাকাত একটি মৃত পশুর পঁচাগলিত মাংশ সহ হাড় এনে আমাদের ধান ক্ষেতে রেখে নাটক করাচ্ছে।
এদিকে ঐ চরের সাধারণ কৃষকরা জানান, আমরা বছরের অধিকাংশ সময় রাসেল খান গ্রুপের অন্যতম সদস্য মিন্টু খাঁনের নির্যাতনের শিকার। ও একজন বেপরোয়া খুনি আমরা এ চরের সাধারণ কৃষক আমাদের শান্তির জন্য এবং নির্বিঘেœ যেন ফসল উৎপাদন ও আহরন করতে পারি সে বিষয়ে রাসেল বানিহীর কবল থেকে মুক্তিই আমাদের একমাত্র দাবি। তবে আমরা বিশ্বাস ও ভরসা রাখি ল্যাব টেষ্ট রেজাল্টে নিশ্চিত জানা যাবে।
এ বিষয়ে অংগটি উদ্ধারকারী কর্মকর্তা এস আই কবিরকে একাধিকবার ফোন করলে রিসিভ না করায় তার বক্তব্য পেশ করা সম্ভব হয়নি।
অংগ উদ্ধারের বিষয়ে ভোলা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ এনায়েত হোসেন বলেন, প্রাথমিকভাবে এটা একটি মানুষের হাত বলে ধারনা করা হয়েছে। তবে এ অংগটির ডিএনএ রিপোর্টের মাধ্যমে নিখোঁজ ব্যক্তিদ্বয়ের কিনা তা সঠিক ভাবে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
