সর্বশেষঃ

সবুজ সাসপেন্ড

মেঘনায় প্রশাসনের নাম বিক্রিতে বেপরোয়া হাসিম ॥ পর্ব-১

কোস্টগার্ড ও নৌ-পুলিশের কথিত মাঝি সবুজ অপকর্মের দায়ে সাসপেন্ড হবার পরে এখন সবুজের জায়গায় চাঁদা তুলছেন হাসিম। হাসিম জেলে থেকে কোস্টগার্ড মাঝির সহযোগী আর সেখান থেকে লক্ষ লক্ষ টাকার মালিক বনে গেছেন। তিনি ইলিশার মরহুম তছির পাটওয়ারির পুত্র।
অনুসন্ধানে জানা যায়, হাসিম কিছুদিন পুর্বেও জেলে নৌকায় মেঘনায় মাছ শিকার করতেন। মাছ শিকারের পেশায় যখন ৩ লক্ষাধিক টাকা ঋণী ছিলেন, ধার- দেনার চাঁপে মাছ শিকার ছেড়ে দিয়ে হাসিম যোগদেন কথিত কোস্টগার্ড মাজি সবুজের সঙ্গে।
আরো জানা গেছে, সবুজের নিরব চাঁদাবাজির সহায়ক হিসেবে দায়িত্ব নেন হাসিম। হাসিম সবুজের সহায়ক পদে যোগদানের পর পরই সল্প সময়ে সকল ধার-দেনা শোধ করে এখন চলছেন রাজকীয় হালতে। কে এই হাসিম এমন প্রশ্নের অনুসন্ধানী উত্তর খুঁজতেই যেন থলের বিড়াল উঁকি মারছে একের পর এক।
ভোলার বাণীর একটি বিশেষ টিম গোপনে অনুসরন করেন কথিত সবুজ মাঝির পুরো টিমকে। বেড়িয়ে আসতে শুরু হয় সবুজ মাঝির টিমের গোপন চাঞ্চল্যকর তথ্য। অনুসন্ধানী টিম হাটছেন এবার সবুজ বাহিনীকে লক্ষ্য করে। সবুজ যখন নছিমন দিয়ে ইলিশার জৈনেক বেপারী সাহেবের নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল আনা নেয়ার কাজ করতেন। বেপারী সাহেবের ব্যাবসা ছিল কারেন্ট জালের, সবুজ নছিমন দিয়ে জাল পরিবহনের এক সময় ফন্দি এঁটে বসেন বেপারির বিরুদ্ধে। তথ্য গোপনের সর্তে কোস্টগার্ড দিয়ে আটক করেন বেপারি সাহেবের কারেন্ট জাল। এভাবেই ধীরে ধীরে কোস্টগার্ডের সাথে সখ্যতা হয় সবুজের। সেই সবুজের অন্যতম সহায়ক সদস্য হাসিম। সহায়ক মাঝি নিযুক্ত হবার পরে হাসিম হঠাৎ আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ বনে যান। আবার চুক্তিতে কাজ করেন হাসিম নৌ-পুলিশের সাথে এমনও তথ্য পাওয়া যায়।
তথ্য সুত্রে জানা যায়, হাসিম সহায়ক মাঝি হিসেবে যোগদানের পরে কয়েক লক্ষ টাকার মালিক হয়েছে। কি তার আয়ের উৎস খুঁজতেই বেড়িয়ে আসে গোপন রহস্য। সবুজকে মাঝি থেকে সাসপেন্ড করার পরে প্রশাসনের নাম বিক্রিতে এখন টপে আছেন হাসিম।
ইলিশা নৌ-থানার ওসি সুজন পাল বলেন, হাসিম আমাদের নির্দিষ্ট মাঝি নন। আমাদের নাম বিক্রি করে টাকা নেয়ার বিষয়ে সুনির্দিষ্ট প্রমান পেলে আইনগত ব্যাবস্থা গ্রহন করা হবে।
মৎস অফিসার আসাদ জামান বলেন, ইলিশায় নয় কোথাও আমাদের কোন নির্দিষ্ট মাঝি নাই। আমরা নদীতে অভিযান পরিচালনা কার্যে আমরা যে কাউকে যে কোন সময় ব্যাবহার করি। তবে প্রশাসনের নাম বিক্রি করে গোপনে চাঁদা কালেকশনের বিষয়ে তিনি বলেন, আমরা তা জানিনা। নৌ-পুলিশ বা কোষ্টগার্ডের দোহাই দিয়ে থাকলে সেটার জন্য তারা ব্যাবস্থা নিবে এখানে মৎস ভিবাগের করনীয় কিছু নেই।
সুপ্রিয় পাঠক আমাদের সাথে থাকুন, ভোলার বাণীর টিম আগামী পর্বে তুলে ধরবো এই চক্রের আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হওয়ার নেপথ্যের তথ্য।

ফেসবুকে লাইক দিন

আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ।