চির নিদ্রায় শায়িত হলেন বীরমাতা মালেকা বেগম

চির নিদ্রায় শায়িত হলেন বীরশ্রেষ্ঠ মোস্তফা কামালের মাতা মালেকা বেগম। ৮ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার আছর নামাজ শেষে ভোলা সদর উপজেলার আলীনগর ইউনিয়নের মৌটুপী গ্রামের বীরশ্রেষ্ঠ মোস্তফা কামাল ঈদগাহ মাঠে নামাজে জানাযা শেষে তাকে পারিবারিক কবরস্থানে শায়িত করা হয়। মরহুমের নামাজে জানাযার পূর্বে টেলিকনফারেন্সে কথা বলেন সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী, ভোলা-১ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব তোফায়েল আহমেদ। এসময় তিনি মরহুমার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন। এছাড়াও বক্তব্য রাখেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাসুদ আলম সিদ্দিক, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল মমিন টুলু, ভোলা পুলিশ সুপার সরকার মোহাম্মদ কায়সার, শেখ হাসিনা সেনানিবাসের লেফটেনেন্ট মোঃ আহাদ এবং বীরশ্রেষ্ঠ মোস্তফা কামালের ভাতিজা মোঃ সেলিম।

মরহুমের নামাজে জানাযার আগে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বীরমাতাকে জাতীয় পতাকা দিয়ে সম্মাননা প্রদান করা হয়। এরপর মরহুমের কফিনে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাসুদ আলম সিদ্দিক, সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রীর পক্ষে জেলা আওয়ামীলীগ নেতৃবৃন্দ, জেলা আওয়ামীলীগ, পুলিশ সুপারসহ বিভিন্ন সংগঠন ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন ভোলা জেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি ফজলুল কাদের মজনু, ভোলা সদর উপজেলা চেয়ারম্যান মোঃ মোশারেফ হোসেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ মিজানুর রহমান, জেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ ইউনুছ, ভোলা জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার দোস্ত মাহামুদ, ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি ও চেয়ারম্যান বশির আহমেদসহ বিভিন্ন কলেজের অধ্যক্ষ, প্রভাষক, প্রধান শিক্ষক, সহকারী শিক্ষক, রাজনৈতিক ব্যক্তি, সাংবাদিক ও সমাজের গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। মরহুমার নামাজে জানাযার নামাজ পড়ান আলীনগর আজিজিয়া দারুল উলুম মাদরাসার মোহতামিম মাওলানা মোঃ তৈয়বুর রহমান।

মালেকা বেগমের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন ভোলা-২ (বোরহানউদ্দিন-দৌলতখান) আসনের সংসদ সদস্য আলী আজম মুকুল, ভোলা-৩ (লালমোহন-তজুমদ্দিন) আসনের সংসদ সদস্য নুরুন্নবী চৌধুরী শাওন, ভোলা-৪ (চরফ্যাশন-মনপুরা) আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকব, ভোলা জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোহাম্মদ মাসুদ আলম ছিদ্দিক, ভোলার পুলিশ সুপার (এসপি) সরকার মোহাম্মদ কায়সার, জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ফজলুল কাদের মজনু, সাধারণ সম্পাদক আবদুল মমিন টুলু, ভোলা সদর উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি মোশারেফ হোসেন, পৌর মেয়র মনিরুজ্জামান মনির, সদর উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম গোলদার, জেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জহুরুল ইসলাম নকিব, এনামুল হক আরজু, সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ ইউনুছ, মইনুল হোসেন বিপ্লব, ত্রাণ ও সমাজ কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক শফিকুল ইসলাম, ভোলা জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার দোস্ত মাহামুদ, সাবেক ডেপুটি কমান্ডার শফিকুল ইসলাম, সাবেক সদর উপজেলা কমান্ডার অহিদুর রহমান, মুক্তিযোদ্ধা সাংবাদিক এম এ তাহের, বাংলার কণ্ঠের সম্পাদক এম হাবিবুর রহমান, যুগান্তর ও আরটিভি প্রতিনিধি অমিতাভ অপু, দৈনিক ভোলার বাণী সম্পাদক মুহাম্মদ মাকসুদুর রহমান, উপজেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আজিজুল ইসলাম, ভোলা জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ডের আহ্বায়ক হামিদুর রহমান হাসিব, যুগ্ম আহ্বায়ক কামরুল ইসলাম, মো. তানজিল, সদস্য সচিব আদিল হোসেন তপু প্রমুখ।

এর আগে সকাল ৭টা ৪০ মিনিটে নিজ বাড়িতে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন মালেকা বেগম। মৃত্যুকালে তিনি এক ছেলে ও দুই মেয়ে সহ অসংখ্য গুনগ্রাহী রেখে গেছেন। মালেকা বেগম দীর্ঘদিন ধরে শ্বাসকষ্টসহ বার্ধক্যজনিত রোগে ভুগছিলেন। গত ১৮ আগস্ট তিনি অসুস্থ্য হয়ে পড়লে তাকে ভোলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। সেখানে তার শারীরিক অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় ‘বীরমাতাকে’ সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় গত ২০ আগস্ট ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) ভর্তি করানো হয়। সেখানেও তার শারীরিক অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করে তাকে গত ৩ সেপ্টেম্বর বাড়িতে নিয়ে আসা হয়। এরপর তাকে গত ৫ সেপ্টেম্বর তাকে পুনরায় ভোলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। সেখানে ভোলা সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডাঃ তৈয়বুর রহমানের সাথে আলোচনা করে পুনরায় তাকে বাড়িতে নিয়ে আসা হয়। তারপর থেকে তিনি নিজ বাড়ীতেই অবস্থা করছিলেন। পরে মঙ্গলবার সকালে তিনি মারা যান।
