ভোলায় বিজেপির উচ্ছ্বাস: খেয়াঘাট চৌরাস্তায় পথচারী ও স্থানীয়দের মিষ্টি বিতরণ
আমরাই প্রতিরোধ করবো- ইনশাআল্লাহ

ইদানিং ফেসবুক বন্ধুরা সাংবাদিকতার মান এবং কিছু সাংবাদিক নামধারী সাংঘাতিকদের কর্মকান্ড নিয়ে স্ট্যাটাস দিচ্ছেন। আলহামদুলিল্লাহ। কিন্তু আপনি যাদেরকে উদ্দেশ্য করে স্ট্যাটাস দিচ্ছেন তারাই কিন্তু আবার সুন্দর সুন্দর, মজাদার, চমকদার ভাষা ব্যবহার করে কমেন্টস করছেন। তাহলে রেজাল্ট কি দাড়াল ?
সম্প্রতি আমার অগ্রজ দৈনিক আজকের ভোলার প্রকাশক ও সম্পাদক মুহা: শওকাত হোসেন ভাই সাংবাদিক এবং সাংবাদিকতার নীতিমালা নিয়ে তার ফেসবুক ওয়াল এবং পত্রিকায় পরামর্শ ও দিক নির্দেশনা দিয়ে যাচ্ছেন। আমি তার এ লেখুনিকে সাধুবাদ জানাই।
আলোচনা, সমালোচনা, বিতর্ক ছাড়া কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না। আমরা তাকিয়ে আছি সরকার বা প্রেসক্লাবের দিকে, তারা সাংবাদিকদের মান উন্নয়নের জন্য কিছু একটা করবে। আমাদের সেই আশাও গুড়েবালি। আমাদের এই পর্যালোচনাটুকু সাংঘাতিকদের সামান্যতম গতি রোধ করতে পারেনি। লেখা লেখি, আলোচনা, সমালোচনাতে কোন লাভ নেই। এগিয়ে আসবে না দায়িত্বশীলরা, আসবে না প্রশাসন, সাংবাদিকদের অবসর সময় কাটানো ক্লাব বা প্রেসক্লাব অথবা আসবেনা কোন সাংবাদিক সংগঠন। আমাদের পিঠ এখন দেয়ালে ঠেকে গেছে, হাতে কোন সময় নেই। হয়ত কেউ কেউ বলবেন, বিড়ালের গলায় ঘণ্টা বাধিবে কে ? তাই আশুন নিজেদের সমস্যা নিজেরাই সমাধান করি।
ভোলার প্রথম ও প্রবীণ সাংবাদিক এম এ তাহের, হাবিবুর রহমান, শওকাত হোসেন, হুমায়ুন কবির ভাইকে অনুরোধ করছি ভোলায় যে কয়টা দৈনিক, সাপ্তাহিক, পাক্ষিক, মাসিক পত্রিকা চলমান বা ঘুমন্ত আছে এবং যে কয়টা চলমান ওয়েব পোর্টাল আছে এদের প্রত্যেকের সম্পাদককে ডাকুন, আলোচনা করুন কিভাবে সাংবাদিকতার মান রক্ষা করা যায় ? কিভাবে পেশাদার সাংবাদিক তৈরী করা যায় ? এবং পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করুন। এদের একত্রিত করে জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন এবং প্রেসক্লাবে প্রতিনিধি রেখে একটি কাউন্সিল গঠন করে নীতিমালা তৈরী করুন।
ভোলা জেলায় যত পেশাদার সাংবাদিক আছে, তারা স্থানীয় প্রিন্ট এবং অনলাইন ওয়েবে কোন না কোন ভাবে জড়িত। তখন তারা এই নীতিমালার বাহিরে কাজ করার সুযোগ থাকবে না। তখন হয়ত নামধারী সাংবাদিক আর সাংবাদিকতা করতে পারবে না। যদি কেহ করে অবশ্যই কাউন্সিলের কাছে দায়বদ্ধ থাকবে। কাউন্সিলের বাহিরে কোন পত্রিকা বা অনলাইন পোর্টাল থাকতে পারবে না। যদি ঢাকা বা বরিশালের কোন পত্রিকার সাংবাদিক নীতি বর্হিভূত কাজ করে, তখন এই কাউন্সিলের নিয়ম অনুযায়ী ব্যবস্থা নিবে। এ জন্য দরকার আন্তরিকতা এবং সহযোগিতা।
আমার কিছু পরামর্শ :
* পত্রিকা বা ওয়েব সাইট তাদের প্রত্যেক প্রতিনিধির বায়োডাটা কাউন্সিলে জমা দিবে।
* পত্রিকায় বা ওয়েবে কোন প্রতিনিধি নিয়োগ করতে হলে এই কাউন্সিলের সুপারিশ লাগবে।
* এ কাউন্সিলের আওতাধিন কোন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে অনৈতিকতার অভিযোগ পাওয়া গেলে, তদন্ত করে কাউন্সিল পত্রিকা বা ওয়েব পোর্টালের সম্পাদককে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ করবে।
* এ কাউন্সিল প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সাংবাদিক তৈরী করবে এবং এখান থেকেই পেশাদার সাংবাদিক বের হবে। তবেই সাংবাদিকতার মান অক্ষুন্ন থাকবে।
* কথায় কথায় ওয়েব পোর্টাল তৈরী করা হ্রাস পবে। চাঁদাবাজরা আর চাঁদাবাজী, ব্লাকমেইল করার সুযোগ পাবে না।
* সুদের মহাজন, ঘুষখোর, দুর্নীতিবাজরা পত্রিকার উপদেষ্টা হবে না।
* দোকানদার, ঠিকাদার, রাজনীতিবীদ, মুচি, টেম্পু চালক, ভাড়া হোন্ডা চালক, রিপ্রেজেনটেটিভ, দিন মজুর ইত্যাদি সাংবাদিক হওয়ার আগ্রহ হারিয়ে ফেলবে।
* যেখানে সেখানে প্রেস লেখা ব্যবহার হবে না।
* সাংবাদিকতার নাম ভাঙ্গিয়ে কোচিং বানিজ্যসহ অনৈতিক কাজ করবে না।
* ব্যাঙ্গের ছাতার মত দুই/তিন জন মিলে সংগঠন করা বন্ধ হবে।
* হুট করে সাংবাদিক হওয়ার প্রবণতা হ্রাস পাবে।
সমাজে ভালো মানুষের সংখ্যাটাই বেশী। আসুন এ হাতে গনা ১০/১২টি পত্রিকা আর ১৫/১৬টি ওয়েবকে নিয়ে বসে আলোচনা করুন, সিদ্ধান্ত নিন এবং বাস্তবায়ন করুন। আশা করছি পেশাদার সাংবাদিকসহ অন্যান্য সাংবাদিকরা দ্বিমত করবে না। কারণ সকলেরই একটি কথা বিড়ালের গলায় ঘণ্টা বাধিবে কে।
মুহা: মাকসুদুর রহমান
সম্পাদক
দৈনিক ভোলার বাণী।
