সততা ও মেধার ভিত্তিতে পদোন্নতির নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রাজনৈতিক মতাদর্শ ও ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দের ঊর্ধ্বে উঠে বাহিনীর কর্মকর্তাদের পদোন্নতির ওপর জোর দিয়েছেন। এ ক্ষেত্রে তিনি অফিসারদের পেশাগত দক্ষতা, নেতৃত্বের গুণাবলি, শৃঙ্খলার মান, সততা, বিশ্বস্ততা, আনুগত্য, সর্বোপরি নিযুক্তিগত উপযুক্ততার ওপর গুরুত্বারোপ করতে নির্বাচনী পর্ষদের সদস্যদের নির্দেশনা দেন।
আজ রোববার সকালে ঢাকা সেনানিবাসে বিমানবাহিনীর সদর দপ্তরে নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনী নির্বাচনী পর্ষদ-২০২৬–এর উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রী এই নির্দেশনা দেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব রক্ষায় বাংলাদেশ নৌ ও বিমানবাহিনী দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ শান্তিশৃঙ্খলা, স্থিতিশীলতা, দুর্যোগ মোকাবিলায় বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে।
পরবর্তী সময়ে প্রধানমন্ত্রী বিমানবাহিনীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অপারেশনাল স্থাপনা সরেজমিন পরিদর্শন করেন। প্রথমে তিনি ঢাকা সেনানিবাসের আকাশপ্রতিরক্ষা পরিচালন কেন্দ্রে স্থাপিত এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম ইন্টিগ্রেশন (এডিএসআই)-এর উদ্বোধনী স্মারক ফলক উন্মোচন করেন। এ সময় তিনি নব উন্মোচিত এডিএসআইয়ের বিভিন্ন আকাশপ্রতিরক্ষা কার্যক্রম সরেজমিন পরিদর্শন করেন।
প্রধানমন্ত্রী বিমানবাহিনীর এয়ার কমান্ড অপারেশন সেন্টার (এসিওসি) পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনকালে তিনি এসিওসির ডিজিটাল লার্জ ডিসপ্লের সাহায্যে বিমানবাহিনীর যুদ্ধবিমান কর্তৃক শত্রুবিমানগুলোকে বাধা প্রদান ও চট্টগ্রাম থেকে আনম্যান্ড এরিয়েল ভেহিকেলের (ড্রোন) লাইফ ফিডের মাধ্যমে হেলিকপ্টার থেকে সেনা অবতরণ দেখেন। এরপর প্রধানমন্ত্রী বিমানবাহিনীর অ্যারোস্পেস রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট কমপ্লেক্স এবং এর বিভিন্ন গবেষণা কার্যক্রম সরেজমিন পরিদর্শন করেন।
এ সময় বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর নিজস্ব সক্ষমতায় প্রস্তুতকৃত বিভিন্ন ধরনের আনম্যান্ড এরিয়েল ভেহিকেল (ড্রোন, কামিকাজি ড্রোন, ইন্টারসেপ্টর ড্রোন ও ভিটোল) প্রদর্শন করা হয়। প্রধানমন্ত্রী কোয়াডকপ্টারের উড্ডয়ন দেখেন।
দেশের প্রয়োজনে বাংলাদেশ নৌ ও বিমানবাহিনীর ত্যাগের জন্য নৌ ও বিমানবাহিনীর প্রধান থেকে শুরু করে বাহিনীর সব সদস্যকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী।
নিজস্ব প্রযুক্তিগত সক্ষমতায় এ ধরনের আধুনিক উড্ডয়নব্যবস্থা প্রস্তুতকরণ বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর গবেষণা, উদ্ভাবন ও প্রযুক্তিগত আত্মনির্ভরতার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হবে বলে প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন।
এর আগে সকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছালে তাঁকে স্বাগত জানান তাঁর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এ কে এম শামছুল ইসলাম, সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনীর প্রধান অ্যাডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম ও বিমানবাহিনীর প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন।
গুরুত্বপূর্ণ অপারেশনাল স্থাপনা পরিদর্শনকালে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর প্রধান, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার, প্রতিরক্ষা সচিবসহ সশস্ত্র বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
