জীবনের ডায়েরী থেকে গল্প সমগ্র : পর্ব-৭

ড. তাইবুন নাহার রশীদ (কবিরত্ন),
(গত সংখ্যার পর), দেশ যখন আবার একজন যোগ্য নেতার খোজ করছিল, তখনই স্বরুপে আবির্ভূত হল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তিনি পাকিস্তানীদের বৈষম্যমূলক আচরণ লক্ষ্য করে তাদের বিরুদ্ধে আন্দোলনের নতুন পরিকল্পনা গ্রহন করতে থাকে। এক পর্যায়ে তার কথায় সাধারণ মানুষ মুগ্ধ হয়ে গেল।
এই বাঙ্গালী নেতার সঙ্গে আমার প্রথম সাক্ষাৎ হয় খুলনায় সার্কিট হউজে। ১৯৭১ সাল দেশের পরিস্থিতি খুব উত্তপ্ত। ঢাকার রাজপথ, উদ্যান, সভা সমাবেশ, মিটিং, মিছিলে পাকিস্তানী শাসকদের অন্যায় অত্যাচার দিনদিন বেড়েই যেতে লাগল। নিরীহ বাঙ্গালী যেন কোন ঠাসা হয়ে পড়ল। এমন পরিস্থিতিতে ৭ মার্চ রেসকোর্স ময়দানে আমাদের প্রিয় বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। আজও তার বজ্র কণ্ঠ আমার স্মৃতিতে ভাসে।
তোমাদের যার যা আছে তাই নিয়ে ঝাপিয়ে পড়, রক্ত যখন দিয়েছি, রক্ত আরো দেব। তবু এ দেশের মানুষকে মুক্ত করে ছাড়ব ইনশা আল্লাহ।
এ বারের সংগ্রাম, মুক্তির সংগ্রাম
এ বারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম। জয় বাংলা।
তার এই ভাষণ যেন কোন ভাষণ নয় বরং দেশের কোটি কোটি মানুষের হৃদয়ের কোন স্বপ্ন পূরনের ইঙ্গিত। জাতি যেন চরম খরায় এক ফোটা পানির ছোয়া পেল। সকলেই তাদের প্রিয় নেতার ভাষনকে জীবনের লক্ষ্য হিসেবে লি। সংকল্প করল দেশকে শত্রুদের হাত থেকে রক্ষা করে স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায়।
এ সময় চারদিকে বঙ্গবন্ধুর ভাষণের প্রভাব, প্রতিদিন মিছিল মিটিং চলতে থাকে। স্বাধীনতাকামীরা বিভিন্ন থানা অস্ত্রাগার দোকান পাট থেকে অস্ত্র সংগ্রহ করতে লাগল। আওয়ামীলীগের একজন সক্রিয় সদস্যা হিসেবে আমিও নিয়মিত মিছিল মিটিং চালাতে লাগলাম। এরই মাঝে বঙ্গবন্ধুর কাছে আমার ডাক পড়ল, আমি তার বাসায় গেলাম। তিনি আমাকে বললেন, শুনলাম আপনি নাকি ক্যাপ্টেন ? বললাম হ্যাঁ, কিভাবে ক্যাপ্টেন হলাম জানতে চাইলেন, আমি বিস্তারিত বললাম।
(চলবে———–)
