জার ফাতেমা খানম ডিগ্রি কলেজে এইচএসসি পরীক্ষায় পাসের হার ৫২.০৪ শতাংশ
ভোলায় ভোটার অন্তর্ভুক্তি ও এলাকা পরিবর্তনে বাড়ছে চাপ, সেবায় ধীরগতির অভিযোগ

সোহেল রানা, স্টাফ রিপোর্টার।। ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন সামনে রেখে ভোলায় ভোটার তালিকায় নতুন নাম অন্তর্ভুক্তি, ভোটার এলাকা পরিবর্তন ও তথ্য সংশোধনের জন্য নির্বাচন অফিসে সেবাগ্রহীতাদের ভিড় বাড়ছে। প্রতিদিনই জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ এসব সেবা নিতে আসছেন। তবে জনবল সংকটের কারণে কিছু কাজে বিলম্ব হচ্ছে বলে জানিয়েছে জেলা নির্বাচন অফিস। অন্যদিকে, সেবা নিতে এসে হয়রানি ও দালালদের টাকা দাবির অভিযোগ করেছেন কয়েকজন সেবাগ্রহীতা।
সম্প্রতি ভোলা জেলা নির্বাচন অফিসে গিয়ে দেখা যায়, বিভিন্ন বয়সী নারী-পুরুষ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে সেবা পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন। কেউ নতুন ভোটার হিসেবে নিবন্ধন করতে এসেছেন, কেউ আবার অন্য জেলা থেকে ভোলায় ভোটার এলাকা স্থানান্তর কিংবা নিজ এলাকার এক ওয়ার্ড থেকে অন্য ওয়ার্ডে ভোটার ঠিকানা পরিবর্তনের আবেদন করতে এসেছেন।
চট্টগ্রাম থেকে ভোলায় ফিরে ভোটার এলাকা পরিবর্তনের জন্য নির্বাচন অফিসে এসেছেন শিরিনা বেগম। তিনি বলেন, ‘আমরা পরিবার নিয়ে চট্টগ্রামে ছিলাম। এখন ভোলায় এসেছি। তাই ভোটার ঠিকানা পরিবর্তন করতে এসেছি।’
একইভাবে নিজ এলাকার ৭ নম্বর ওয়ার্ড থেকে ২ নম্বর ওয়ার্ডে ভোটার এলাকা পরিবর্তনের জন্য এসেছেন কহিনুর বেগম। অন্যদিকে, ভোলা সদর উপজেলার ভেদুরিয়া থেকে স্ত্রীকে নতুন ভোটার হিসেবে নিবন্ধন করাতে এসেছেন আবদুল সালাম।
সেবা নিতে এসে ভোগান্তির অভিযোগ তুলে আবদুল সালাম বলেন, ‘এখানে এসে দেখি, কাজের জন্য বিভিন্ন টেবিলে ঘুরতে হচ্ছে। দালালরা টাকা চায়।’ তাঁর অভিযোগ, প্রয়োজনীয় সেবা পেতে এসে তিনি বিড়ম্বনার মুখে পড়েছেন।
সিলেট থেকে ভোলায় ভোটার এলাকা স্থানান্তরের জন্য আবেদন করতে এসে একই ধরনের অভিযোগ করেছেন ছগির আহম্মেদ। তাঁর ভাষ্য, অফিসে এসে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে। এক টেবিল থেকে অন্য টেবিলে ঘোরানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। পাশাপাশি, দালালদের টাকা চাওয়ার অভিযোগও তোলেন তিনি।
এদিকে, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন সামনে রেখে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়ার কথা জানিয়েছে ভোলা জেলা নির্বাচন অফিস। জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. আবদুল হাই আল-হাদী বলেন, জনবল সংকট থাকলেও ভোটার তালিকা হালনাগাদ ও সংশ্লিষ্ট সেবা কার্যক্রম চালু রয়েছে। প্রতিদিনই নতুন ভোটার অন্তর্ভুক্তি, ভোটার এলাকা পরিবর্তন এবং ভোটার তালিকার তথ্য সংশোধনের জন্য মানুষ অফিসে আসছেন। তাঁদের প্রয়োজনীয় সেবা দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। তার অফিসে কোন দালাল নেই বলেও দাবি করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, জনবল সংকটের কারণে কিছু কাজে বিলম্ব হচ্ছে। সাময়িক অসুবিধার জন্য তাঁরা দুঃখিত।
নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৭ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে পাঁচ ধাপে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরুর পরিকল্পনা রয়েছে। ২৭ মে’র মধ্যে নির্বাচন সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। পরিকল্পনায় প্রথম ধাপে ঠাকুরগাঁও জেলা বাদে দেশের ৬৩টি জেলার প্রায় ৮০টি উপজেলার সব ইউনিয়ন পরিষদে ভোটগ্রহণের কথা রয়েছে। মেয়াদোত্তীর্ণ ও দীর্ঘদিন ধরে নির্বাচন আটকে থাকা ইউনিয়ন এবং জেলা সদর উপজেলাগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে। তবে এসব পরিকল্পনার চূড়ান্ত বাস্তবায়ন নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তফসিলের ওপর নির্ভর করবে।
নির্বাচন সামনে রেখে ভোটার তালিকা-সংক্রান্ত সেবার চাহিদা বাড়ায় আবেদন নিষ্পত্তিতে সময়মতো সেবা নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। নতুন ভোটার নিবন্ধন, এলাকা পরিবর্তন ও তথ্য সংশোধনের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা, স্বচ্ছ প্রক্রিয়া এবং হয়রানিমুক্ত সেবা নিশ্চিত করা গেলে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট সেবাগ্রহীতারা।
