ভোলায় তথ্যমন্ত্রীর উদ্যোগে দিনব্যাপী ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প

ভোলার সাধারণ ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের কাছে উন্নত চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে তিনটি ইউনিয়নে দিনব্যাপী ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প এবং বিনামূল্যে ওষুধ প্রদান কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়েছে। তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী এবং ভোলা-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থের উদ্যোগে আজ শনিবার (৩১ অক্টোবর) এই সেবামূলক কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
এরই অংশ হিসেবে ভোলা সদর উপজেলার পূর্ব ইলিশা ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের জংশন বাজার সংলগ্ন মৌলভীরহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দিনব্যাপী এই ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প পরিচালিত হয়। “সবার জন্য সুস্থ জীবন” প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে পূর্ব ইলিশাসহ নির্ধারিত তিনটি ইউনিয়নে দূরদূরান্ত থেকে এসে শত শত মানুষ এ ক্যাম্প থেকে বিনামূল্যে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় ওষুধ গ্রহণ করেন। নারী-পুরুষ, শিশু ও বৃদ্ধ সবাই চিকিৎসা গ্রহণ করে এবং ওষুধ পেয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন। অভিজ্ঞ চিকিৎসকদের সমন্বয়ে গঠিত একটি মেডিকেল টিম দিনব্যাপী রোগীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করেন। ক্যাম্পের সার্বিক ব্যবস্থাপনা ও চিকিৎসা সেবা নিয়ে কথা হয় দায়িত্বরত চিকিৎসক ও চিকিৎসা নিতে আসা সাধারণ মানুষের সাথে।
মেডিকেল ক্যাম্পে দায়িত্বরত শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. মো. জাকারিয়া জানান, “আমাদের এখানে বাচ্চা, পুরুষ, বয়স্ক পুরুষ, বয়স্ক মহিলা, গাইনি এবং প্রসূতি, কিশোরী—সবাইকেই দেখা হচ্ছে। শিশু বিশেষজ্ঞ হিসেবে শিশুদের প্রাথমিক চিকিৎসা থেকে শুরু করে জটিল রোগের সব চিকিৎসায় আমি লিখে দিয়েছি। প্রাথমিক চিকিৎসার ওষুধগুলো এখানে সাপ্লাই আছে এবং রোগীরা তা ফ্রিতে পাচ্ছে।
ক্যাম্পে দায়িত্বরত গাইনি বিশেষজ্ঞ ডা. জান্নাতুল মাওয়া বলেন, আমাদের এখানে বাচ্চা, পুরুষ, বয়স্ক পুরুষ, বয়স্ক মহিলা, গাইনি এবং প্রসূতি, কিশোরী—সবাইকেই দেখা হচ্ছে। আমার এখানে মহিলাদের সমস্যাগুলো আমি দেখতেছি। এই মহিলাদের ভিতরে কিশোরী আছে, বয়স্ক মহিলা আছে, গর্ভবতী মহিলা আছে, অবিবাহিত মহিলা আছে যাদের গাইনি সমস্যা। সকল ধরনের প্রাথমিক ট্রিটমেন্টই এখানে হচ্ছে। এবং আমাদের এখানে ওষুধের ব্যবস্থা আছে। এখানে হচ্ছে গ্যাসের ওষুধ, জ্বর, অ্যান্টিবায়োটিক, ক্যালসিয়াম, ব্যথার ওষুধ, বাচ্চাদের সিরাপ—এগুলা সবাই পাচ্ছে। যেই ওষুধটা একান্ত এখানে নাই, সেটা আমরা—টিক দিয়ে তাকে বলে দিচ্ছি যে, এটা বাইরে থেকে আপনাকে কিনতে হবে। মানে একটা-দুইটা ওষুধ হয়তো বাইরে থেকে, যেটার সমস্যাটা জটিল, যেটা আমাদের এখানে নাই, সেটা একটা-দুইটা ক্রিম এই জাতীয় কিছু ওষুধ হয়তো বাইরে থেকে উনাদের কেনা লাগছে।
ক্যাম্পে চিকিৎসা নিতে আসা পূর্ব ইলিশা গ্রামের গৃহবধূ ফাতেমা বেগম (৪০) সন্তুষ্টি প্রকাশ করে বলেন, আমরা গরিব মানুষ, দূর-দূরান্তে গিয়ে চিকিৎসা নেওয়া আমাদের জন্য কষ্টকর ও ব্যয়বহুল। মন্ত্রী মহোদয়ের এমন উদ্যোগে আমরা বাড়ির কাছেই ফ্রিতে বিশেষজ্ঞ ডাক্তার দেখাতে পেরেছি এবং বিনামূল্যে ওষুধ পেয়েছি।
আরেক স্থানীয় বাসিন্দা মো. রফিক মিয়া (৪৫) জানান, ভোলা সদর হাসপাতালে গেলে অনেক সময় সিরিয়াল পাওয়া যায় না বা ঠিকমতো ওষুধ মেলে না। কিন্তু এই ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পে এসে আমরা অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে বিনা মূল্যে চিকিৎসাসেবা ও প্রয়োজনীয় ওষুধ পেয়েছি। এমন মহতী উদ্যোগের জন্য আমরা মন্ত্রী ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই।
এমন মানবিক উদ্যোগের জন্য স্থানীয় সাধারণ মানুষ মন্ত্রী ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং প্রত্যন্ত অঞ্চলে প্রান্তিক জনগণের জন্য এ ধরনের স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।
অর্থাভাবে কিংবা দূরত্বের কারণে যারা নিয়মিত চিকিৎসাসেবা নিতে পারেন না, তাদের জন্য এমন উদ্যোগ যেন স্বস্তির নতুন বার্তা নিয়ে এসেছে। চিকিৎসকের পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় ওষুধ পেয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন সেবাগ্রহীতারা।
স্থানীয়রা জানান, প্রত্যন্ত অঞ্চলের সাধারণ মানুষের জন্য বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার এ উদ্যোগ অত্যন্ত প্রশংসনীয়। তারা এ ধরনের মানবিক কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান। সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে তথ্যমন্ত্রী ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থের এমন উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল। এর আগে, মাসব্যাপী সদর উপজেলার ১৩টি ইউনিয়ন ও পৌরসভায় মেডিকেল ক্যাম্প পরিচালনা করেন তথ্যমন্ত্রী এবং প্রথমবার মেডিকেল ক্যাম্প থেকে চিকিৎসা নিয়েছেন অন্তত ৩০ হাজার মানুষ।
