সর্বশেষঃ

ভোলায় জুয়ার আসর থেকে শীর্ষ মাদক কারবারি, ইউনিয়ন ছাত্র সমাজের আহ্বায়ক ‘ইয়াবা রকি’ ও সহযোগী মোতাসিনসহ গ্রেপ্তার ৭

ভোলা সদর উপজেলার পশ্চিম ইলিশা ইউনিয়নে অভিযান চালিয়ে শীর্ষ মাদক কারবারি ও ছাত্র সমাজ নেতাখ্যাত ‘ইয়াবা রকি’সহ ৭ জনকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। এ সময় তাদের কাছ থেকে জুয়া খেলার সরঞ্জাম এবং নগদ ৩৩ হাজার ২৭০ টাকা উদ্ধার করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে প্রধান অভিযুক্ত হিসেবে রয়েছে পশ্চিম ইলিশা ইউনিয়ন ছাত্র সমাজের আহ্বায়ক মো. রাকিব ওরফে ‘ইয়াবা রকি’ (৩৬) এবং তার সহযোগী মো. মোতাসিম (৪০)।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ভোলার পুলিশ সুপার মো. শহিদুল্লাহ কাওছারের দিকনির্দেশনা এবং জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) ইনচার্জের তত্ত্বাবধানে মাদকবিরোধী এই বিশেষ অভিযান পরিচালিত হয়।
গত ১৭ অক্টোবর বিকেলে ডিবি পুলিশের একটি চৌকস টিম ভোলা সদর থানাধীন পশ্চিম ইলিশা ইউনিয়নের পূর্ব কাজিরচর ৪ নম্বর ওয়ার্ডের আলমগীর মিস্ত্রীর সুপারি বাগানের ভেতরে অভিযান চালায়। ডিবির এসআই (নিঃ) মো. আবদুল আজিজের নেতৃত্বে পরিচালিত এই অভিযানে জুয়া খেলা অবস্থায় হাতেনাতে ৭ জনকে আটক করা হয়।
আটককৃত ৭ জন হলেন: ভোলা সদর উপজেলার পশ্চিম ইলিশা ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা আবুল কাসেম বাঘার ছেলে মো. রাকিব ওরফে ‘ইয়াবা রকি’ (৩৬)—বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি’র) পশ্চিম ইলিশা ইউনিয়ন ছাত্র সমাজের আহ্বায়ক; একই এলাকার মৃত শাহজালাল হকের ছেলে মো. মোতাসিম (৪০); ১ নম্বর ওয়ার্ডের আবু জাহেরের ছেলে মো. রুবেল (৩০); বাপ্তার কবির হাওলাদারের ছেলে মো. নসু হাওলাদার (৪৫); গুপ্ত মুন্সির আলী আকবরের ছেলে মো. আলাউদ্দিন (৪২); পূর্ব ইলিশার কাঞ্চন চৌকিদারের ছেলে মো. মনির হোসেন (২৭); এবং পশ্চিম ইলিশার আব্দুল মোতালেবের ছেলে মো. মনির (৩১)। সকলেই ভোলা সদর থানা ও জেলার বাসিন্দা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় একাধিক বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “রকি এলাকার চিহ্নিত মাদকসম্রাট। সে নিজে যেমন নেশা করে, তেমনি পুরো এলাকায় ইয়াবার বিস্তার ঘটিয়েছে। তার কারণে এলাকার বহু উঠতি বয়সী তরুণ ও যুবক ধ্বংসের পথে বসেছে। সে ও তার ক্যাডার বাহিনীর দৌরাত্ম্যে সাধারণ মানুষ মুখ ফুটে কিছু বলতে পারত না। সামান্য বিষয়ে মানুষকে মারধর করা ও হুমকি দেওয়া ছিল তার নিত্যদিনের কাজ। তার নামে থানায় একাধিক মামলাও রয়েছে। অবশেষে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করায় আমরা স্বস্তি পাচ্ছি। আমরা চাই তার যেন কঠিন শাস্তি হয়।”

স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, আটককৃত রাকিব ওরফে ‘ইয়াবা রকি’ কেবল একজন রাজনৈতিক কর্মী বা জুয়াড়িই নন, তিনি এলাকার চিহ্নিত ও শীর্ষ মাদক কারবারি। দীর্ঘদিন ধরে তিনি এলাকায় ইয়াবাসহ বিভিন্ন ধরনের মাদকদ্রব্যের একটি বিশাল সিন্ডিকেট ও মাদক সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছেন। নিজে মাদক সেবনের পাশাপাশি পুরো এলাকায় অবাধে মাদকের কেনাবেচা ও সরবরাহের মূল কলকাঠি নাড়তেন তিনি। স্থানীয়রা আরও অভিযোগ করেন, রকি ও তার বাহিনীর অত্যাচারে এলাকার সাধারণ মানুষ দীর্ঘদিন ধরে অতিষ্ঠ ও জিম্মি অবস্থায় দিন কাটাচ্ছিল। তার বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুললে বা প্রতিবাদ করলে তাকে মারধর, ভয়ভীতি প্রদর্শনসহ নানাভাবে নির্যাতন করা হতো। তার বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টা, মারামারি ও মাদকের অসংখ্য মামলা রয়েছে বলেও জানান তারা। রকি গ্রেপ্তার হওয়ায় এলাকায় স্বস্তি ফিরে এসেছে এবং তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী।
ভোলা ডিবি পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. এমদাদুল হক গণমাধ্যমকে জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত অভিযানে জুয়া খেলা অবস্থায় সাতজনকে আটক করা হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে জুয়া খেলার বিভিন্ন সরঞ্জাম ও নগদ ৩৩,২৭০ টাকা জব্দ করা হয়।

তিনি আরও জানান, মূল অভিযুক্ত ‘ইয়াবা রকি’র বিরুদ্ধে পূর্বেও একাধিক মামলা রয়েছে। আটককৃত সকলের বিরুদ্ধে ভোলা সদর মডেল থানায় নিয়মিত মামলা রুজু করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

ফেসবুকে লাইক দিন

আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ।