সর্বশেষঃ

স্থানীয় সরকার নির্বাচন করতে শিক্ষাগত যোগ্যতা লাগবে না!

সিটি করপোরেশন, উপজেলা, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন সামনে রেখে স্থানীয় সরকার আইন ও বিধি সংশোধনের প্রস্তাব পাঠিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এতে প্রার্থীদের ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতার কথা উল্লেখ নেই। এছাড়া একগুচ্ছ তথ্য সংযুক্ত করেছে ইসি।

সম্প্রতি ইসির স্থানীয় সরকার আইন ও বিধি সংশোধনের এ প্রস্তাব আইন মন্ত্রণালয়ে পৌছেছে।

প্রস্তাবে হলফনামায় নতুন তথ্য দেওয়া, অসত্য তথ্য দিলে প্রার্থিতা বাতিল, দ্বৈত নাগরিক ও ঋণখেলাপি প্রতিষ্ঠানের মালিকদের নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণাসহ বেশকিছু প্রস্তাব করা হয়েছে। এছাড়া ভোটকেন্দ্রে অনিয়মের প্রমাণ পেলে ওই নির্বাচন বন্ধের ক্ষমতা ইসির হাতে রাখা হয়েছে। তবে প্রার্থীদের ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্ধারণ করে দেয়নি কমিশন। ইসি ও সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

তবে স্থানীয় সরকার আইনে প্রার্থীদের শিক্ষাগত যোগ্যতা ও অযোগ্যতা উল্লেখ থাকে।

নির্বাচনসংশ্লিষ্টদের মতে, ইসির নতুন সংশোধনী কার্যকর হলে আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হওয়ার সুযোগ কিছুটা হলেও তৈরি হবে। অবশ্য ইসি বলছে, পলাতকদের নির্বাচনে অংশগ্রহণ বন্ধে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অনলাইনে মনোনয়নপত্র দাখিলের সুযোগ বন্ধ করা হয়। এরই অংশ হিসাবে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে তা বাতিলের প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে একাধিক স্থানে মনোনয়নপত্র দাখিলের সুযোগ থাকবে। ফলে নির্বাচনে বাধা দিয়ে কারও প্রার্থী হওয়ার পথ বন্ধ করা কঠিন হবে। পাশাপাশি নির্বাচনি অপরাধে সাজা বাড়ানোরও প্রস্তাব করা হয়েছে।

চলতি মাসে কিছুসংখ্যক ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের তফশিল ঘোষণা করার প্রস্তুতি নিচ্ছে ইসি। এবারও ধাপে ধাপে এ ভোট হবে। প্রথম পর্যায়ে উপকূলীয় জেলা বরিশাল, পিরোজপুর, বরগুনা, বাগেরহাট, খুলনা, সাতক্ষীরা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজারসহ কয়েকটি জেলার ইউনিয়ন পরিষদকে বিবেচনায় রাখা হচ্ছে। শিগ্গিরই কমিশন সভায় কোন কোন ইউনিয়ন পরিষদে কবে ভোট হবে, তা চূড়ান্ত হওয়ার কথা রয়েছে। ওই নির্বাচনের প্রস্তুতির অংশ হিসাবে ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা, সিটি করপোরেশন এবং জেলা পরিষদ নির্বাচনের আইনের সংশোধনী এবং ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের বিধির সংশোধনীর প্রস্তাব আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।

জানা গেছে, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর আইনে প্রায় একই ধরনের সংশোধনীর প্রস্তাব করেছে ইসি। চূড়ান্ত প্রস্তাবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংজ্ঞায় সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনী নাম বহাল রাখা হয়েছে। দ্বৈত নাগরিকদের নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণার প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে কেউ অন্য দেশের নাগরিকত্ব ত্যাগ করলে তিনি নির্বাচন করতে পারবেন। একইভাবে এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সার্বক্ষণিক শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের চাকরিতে থেকে নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন না। যদিও জামায়াতে ইসলামী এ প্রস্তাবের ঘোর বিরোধিতা করেছে। ইসি তাদের চূড়ান্ত প্রস্তাবে ওই বিধান বহাল রেখেছে। ঋণখেলাপি ও বিলখেলাপি প্রতিষ্ঠানের অংশীদার এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে যাদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র জমা হয়েছে, তাদেরও নির্বাচনে অযোগ্য করার কথা বলা হয়েছে। হলফনামায় অসত্য তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে ওই ব্যক্তির প্রার্থিতা বাতিলের বিধান যুক্তের প্রস্তাব করা হয়েছে। যদিও হলফনামা যাচাই করা হবে কোন প্রক্রিয়ায়, তা পুরোপুরি পরিষ্কার করেনি।

স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর নির্বাচনি অপরাধের সাজা বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। নির্বাচনি অপরাধে ন্যূনতম ছয় মাস থেকে সর্বোচ্চ সাত বছর কারাদণ্ড এবং আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদণ্ডের কথা বলা হয়েছে।

স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর নির্বাচনের সময়সীমা সম্পর্কেও নতুন বিধান যুক্তের প্রস্তাব করেছে ইসি। এতে পরিষদের মেয়াদ ৫ বছর শেষ হওয়ার আগের ১৮০ দিনের মধ্যে ভোট করার বিধান আনা হয়েছে। তবে কোনো কারণে ওই সময়ে ভোট করা সম্ভব না হলে ইসি সুবিধাজনক সময়ে ভোট করবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এসব আইনের সংশোধনী সংসদে পাশ হতে হবে। চলতি অধিবেশনে এসব সংশোধনী সংসদে ওঠার সম্ভাবনা ক্ষীণ। তবে সংশোধনী পাশ না হলে বিদ্যমান আইনে নির্বাচন হবে।

 

ফেসবুকে লাইক দিন

আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ।