সর্বশেষঃ

মাত্র ৬০০ কোটি টাকার জন্য ফেলে রাখা হয় ভোলার গ্যাস পাইপলাইন প্রকল্প

দ্বীপ জেলা ভোলার গ্যাস ব্যবহারে ২০১৮ সালে পাইপলাইন নির্মাণ প্রকল্প নিয়ে তৎপরতা শুরু হয়েছিল। পরিকল্পনা ছিল ভোলা থেকে বরিশাল হয়ে খুলনা পর্যন্ত ১০২ কিলোমিটার পাইপলাইন নির্মাণের।

প্রকল্পে ব্যয়ের প্রাথমিক প্রাক্কলন ছিল ৬০০ কোটি টাকা। ২৪ ইঞ্চি ব্যাসের পাইপলাইনের দৈনিক গ্যাস সরবরাহ সক্ষমতা ধরা হয়েছিল ৩৫০ থেকে ৪০০ মিলিয়ন ঘনফুট, যা বর্তমানে একটি এলএনজি টার্মিনালের সরবরাহ সক্ষমতার কাছাকাছি। কিন্তু প্রকল্পটি সে সময় বাস্তবায়ন হয়নি অর্থনৈতিক ঝুঁকি বিবেচনা, সিদ্ধান্তহীনতা ও পতিত আওয়ামী সরকার ঘনিষ্ঠ এলএনজি আমদানি লবির তদবির ও দেনদরবারে। জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পাইপলাইন প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে গ্যাসের সরবরাহ বাড়ত এবং ভোলায় নতুন গ্যাস অনুসন্ধানে জোরালো তৎপরতা শুরু হতো। অন্যদিকে এখন সেই পাইপলাইন নির্মাণে অন্তত সাড়ে ৩ থেকে ৪ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হবে।

দেশে অর্থনৈতিক কর্মতৎপরতা বাড়াতে অনেক মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছে পতিত সরকারের আমলে। বিশেষ করে কর্ণফুলী টানেল, মাতারবাড়ী বিদ্যুৎ কেন্দ্র, পায়রা বন্দরের মতো বৃহৎ অবকাঠামো। যেখানে বিপুল অর্থ ব্যয় করা হলেও বর্তমানে আর্থিক সুফল মিলছে না। প্রাক্কলন অনুযায়ী অর্থ না পাওয়ায় সরকারের জন্য এগুলো শ্বেতহস্তী প্রকল্পে পরিণত হয়েছে। অন্যদিকে মাত্র ৬০০ কোটি টাকা বিনিয়োগে ভোলার গ্যাস পাইপলাইন নির্মাণ প্রকল্প নিয়ে টালবাহানা হয়েছে বছরের পর বছর। স্থানীয় গ্যাসের উৎপাদন কমে যাওয়ায় দেশে ক্রমান্বয়ে এলএনজি আমদানি বেড়েছে। একই সঙ্গে জ্বালানি ব্যয় বৃদ্ধির পরিস্থিতি তৈরি করে দেশের শিল্প খাত, বিদ্যুৎ, সার কারখানাকে ঝুঁকিতে ফেলা হয়েছে বলে মনে করেন জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা।

অথচ বিগত আওয়ামী লীগ সরকার বন্দরনগরীকে সাংহাইয়ের মতো ‘ওয়ান সিটি, টু টাউন’ মডেলে পরিণত করার কথা বলে ১০ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করে কর্ণফুলী টানেল। সম্ভাব্যতা সমীক্ষায় বড় ধরনের লাভের কথা বলা হলেও প্রকল্প বাস্তবায়ন হওয়ার পর সরকারকে লোকসান টানতে হচ্ছে। টোল থেকে উঠছে না রক্ষণাবেক্ষণ খরচও।

অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক হবে না জেনেও বিশাল ব্যয়ে আওয়ামী সরকারের সময়ে উন্নয়ন করা হয় পায়রা গভীর সমুদ্রবন্দর। এ প্রকল্পে এখন পর্যন্ত ব্যয় ৭ হাজার ৩০০ কোটি টাকার বেশি। অথচ প্রকল্পটি বাস্তবায়নের পর যে পরিমাণ জাহাজ চলাচল এবং বাণিজ্য হওয়ার কথা ছিল তার কোনোটিই হচ্ছে না। অন্যদিকে বন্দরের রাবনাবাদ চ্যানেল খনন ও রক্ষণাবেক্ষণকাজের জন্য ২০২১ সালের এপ্রিল থেকে ২০২৪ সালের এপ্রিল পর্যন্ত একটি স্কিম বাস্তবায়ন করা হয়। এতে খরচ হয়েছে ৬ হাজার ৫৩৫ কোটি টাকা। এ কার্যক্রম সম্পন্ন হয় দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ব্যবহার করে। ২০২১ সালে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে অর্থ নিয়ে গঠিত ‘বাংলাদেশ অবকাঠামো উন্নয়ন তহবিল (বিআইডিএফ)’-এর মাধ্যমে প্রকল্পটিতে বিনিয়োগ করে তৎকালীন সরকার।

সেখানকার বৃহৎ বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর কয়লা আমদানিতেও তৈরি হয়েছে জটিলতা।

ভোলার গ্যাস ব্যবহারে পাইপলাইন নির্মাণের আলোচনা অন্তত দেড় দশক আগের। বর্তমানে এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে হলে বিদেশী পরামর্শক, প্রকল্পের মালামাল, প্রযুক্তির পেছনে কয়েক গুণ বেশি ব্যয় করতে হবে। এখন যে রুটেই পাইপলাইন হোক না কেন, সর্বনিম্ন সাড়ে ৩ হাজার থেকে সর্বোচ্চ ৮-৯ হাজার কোটি টাকা পর্যন্ত ব্যয় হতে পারে।

ভোলার গ্যাস নিয়ে পতিত আওয়ামী সরকারের টালবাহানা গড়ায় সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের সময়েও। তারাও ভোলা-বরিশাল-খুলনা পাইপলাইন নিয়ে কার্যকর সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি। বরং আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় রুট পরিবর্তন করে ভোলা-বরিশাল-ঢাকা পাইপলাইন করার সিদ্ধান্ত নেয়। শেষ পর্যন্ত তারা বড় অর্থায়ন, বিদেশী সংস্থার ঋণের শর্ত এবং অর্থনৈতিক ঝুঁকি নিয়ে সিদ্ধান্তহীনতায় প্রকল্পটি বাস্তবায়নে হাত দেয়নি।

বর্তমান সরকার ভোলার গ্যাসকে কাজে লাগাতে মহাপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে বলে জ্বালানি বিভাগসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। গুচ্ছ পরিকল্পনায় সার কারখানা, বিদ্যুৎ প্লান্ট, কারিগরি বিশ্ববিদ্যালয়, ইলিশ সংরক্ষণ কেন্দ্র, গ্যাসভিত্তিক শিল্প-কারখানা স্থাপনসহ একটি বাস্তবসম্মত অর্থনৈতিক অঞ্চল তৈরি করে ভোলাসহ পুরো দক্ষিণাঞ্চলকে উন্নয়নের রূপরেখায় যুক্ত করতে চায় সরকার।

আওয়ামী সরকারের আমলে ভোলার গ্যাস নিয়ে সিদ্ধান্তহীনতার নেপথ্যে এলএনজি ব্যবসাকে দায়ী করেছেন খাতসংশ্লিষ্ট ও জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের কেউ কেউ। তাদের ভাষ্য, ২০১৮ সালে যখন ভোলার গ্যাস পাইপলাইন নির্মাণের খসড়া প্রস্তুত হয়, ঠিক একই সময়ে দেশে এলএনজি আমদানির সিদ্ধান্ত হয়। সে বছরই এলএনজি আমদানি শুরু হলে স্থানীয় গ্যাসের সরবরাহ সংকটের বড় সমাধান হিসেবে দেখা হয় এলএনজি আমদানিকে। অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় গ্যাসের উৎপাদন হ্রাস এবং বিপরীতে এলএনজি আমদানির পরিকল্পনা বাস্তবায়নে বড় ভূমিকা রাখেন পতিত আওয়ামী সরকারের জ্বালানি উপদেষ্টা তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী, প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ ও জ্বালানি খাতের একটি বড় লবি। তাদের পরিকল্পনায় মূলত ভোলার গ্যাস পাইপলাইন নির্মাণ বাস্তবায়ন করা যায়নি। তারা মূলত স্থানীয় গ্যাসের উৎপাদন স্থবির করে এলএনজি আমদানি বাড়াতে তৎপরতা শুরু করেন। এতে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা যেমন দেশের বাইরে চলে গেছে, সেই সঙ্গে গ্যাস খাতে বিপুল দায়দেনাও তৈরি হয়েছে। অথচ গ্যাস দেয়া যাবে না এমন শঙ্কা থাকলেও দেশের উত্তরাঞ্চলে বিশেষত সিরাজগঞ্জ-বগুড়া-রংপুর রুটে গ্যাস পাইপলাইন নির্মাণ করা হয়েছে। এছাড়া কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা থেকে খুলনার আড়ংঘাটা পর্যন্ত দীর্ঘ পাইপলাইন ও গ্যাসভিত্তিক বেশ কয়েকটি বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ করে বসিয়ে রাখা হয়েছে। এসব প্রকল্পের জন্য দেশী-বিদেশী ঋণ যেমন টানতে হচ্ছে, তেমনি পাইপলাইনের অর্থনৈতিক কোনো সুফলও মিলছে না।

পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী, ২০১৮-১৯ অর্থবছর থেকে শুরু করে ২০২৫-২৬ অর্থবছর পর্যন্ত বিগত আট বছরে এলএনজি আমদানিতে ব্যয় হয়েছে ২ লাখ ৭৭ হাজার কোটি টাকা। এ সময়ে গ্যাস খাতে সরকারকে অতিরিক্ত আরো ভর্তুকি দিতে হয়েছে ৪৮ হাজার কোটি টাকা। এর পরও দেশে গ্যাসের সংকট কমানো যায়নি। গ্যাসের দাম বাড়িয়ে, গ্যাস অনুসন্ধানে গঠিত তহবিলের অর্থ খরচ করে এলএনজি আমদানি করা হয়েছে। বর্তমানে পেট্রোবাংলা বৈদেশিক ঋণদাতা প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ঋণ নিয়ে এলএনজি কিনছে। অথচ ভোলায় গ্যাস পাইপলাইন নির্মাণ করা গেলে এলএনজি আমদানিতে ব্যয় হওয়া বিপুল অর্থের বড় একটি অংশ সাশ্রয় করা যেত। সেই সঙ্গে আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে দেশের জ্বালানি খাতে নিরাপত্তা বাড়ানোর সুযোগ ছিল।

দ্বীপ জেলা ভোলায় গ্যাস আবিষ্কার হয় নব্বইয়ের দশকে। বর্তমানে সেখানে তিনটি গ্যাস ক্ষেত্র রয়েছে। এসব গ্যাস ক্ষেত্রে সম্ভাব্য মজুদের পরিমাণ ২ ট্রিলিয়ন ঘনফুট (টিসিএফ) বলা হলেও উত্তোলনযোগ্য গ্যাসের মজুদ প্রায় দেড় টিসিএফের মতো। বাপেক্সের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বর্তমানে যেসব কূপ উৎপাদনে রয়েছে, সেখান থেকে দৈনিক ১২০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ সক্ষমতা রয়েছে। যদিও বর্তমানে বাপেক্স ৭৪ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উত্তোলন করছে। ভোলায় গ্যাসের উৎপাদন বাড়াতে সেখানে নতুন করে আরো ১০টি কূপ খননের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। চীনা একটি কোম্পানি পাঁচটি কূপ এবং বাপেক্স নিজে পাঁচটি কূপ খনন করবে।

দেশে গ্যাসের সংকট এখন প্রকট আকার ধারণ করেছে। বৈশ্বিক ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা, খোলাবাজারে এলএনজির বাড়তি দাম এবং দীর্ঘমেয়াদি উৎস থেকে এলএনজি আমদানি বিবেচনায় ভোলার গ্যাস উত্তোলন এবং পাইপলাইনকে এখন সবচেয়ে সাশ্রয়ী সমাধান হিসেবে দেখছেন জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, ভোলার গ্যাস বিভিন্নভাবে মূল ভূখণ্ডে আনা যায়। তবে এসব বিকল্পের মধ্যে পাইপলাইন নির্মাণই ব্যয়সাশ্রয়ী বলে মনে করেন তারা।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ও ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের উপাচার্য অধ্যাপক ম. তামিম বণিক বার্তাকে বলেন, ‘গ্যাসের মজুদ বিবেচনায় ভোলায় পাইপলাইন লাভজনক হবে না—এমন ভাবনা থেকেই মূলত বিভিন্ন সময় উদ্যোগ নেয়া হলেও পিছিয়ে আসতে হয়েছে। এর পাশাপাশি অতীতের বিভিন্ন সরকারের সিদ্ধান্তহীনতাও ছিল। তবে বিদ্যমান বাস্তবতায় ভোলার গ্যাস পাইপলাইনে পরিবহন প্রকল্পটি সবচেয়ে লাভজনক। কারণ ভোলার গ্যাস মোটা দাগে চারভাবে ব্যবহার করার সুযোগ রয়েছে। প্রথমত সিএনজি, দ্বিতীয়ত এলএনজি, তৃতীয়ত পাইপলাইন এবং চতুর্থ বিষয়টি হলো সেখানে বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ করে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা। তবে বিদ্যমান বাস্তবতায় বৈশ্বিক বাজারে গ্যাসের দাম হিসাব করলে এবং স্থানীয় উৎপাদন বৃদ্ধির পরিকল্পনা করলে এ গ্যাস যেকোনো উপায়ে ব্যবহার করতে হবে।’

বাপেক্স সূত্রে জানা গেছে, ভোলায় এখন পর্যন্ত যতগুলো কূপ খনন করা হয়েছে, তার সবগুলোতে গ্যাস পাওয়া গেছে। ভূতত্ত্ববিদরা বলছেন, ভোলায় গ্যাস আছে এবং সেখানে মজুদের সম্ভাবনা অনেক বেশি। কূপ খননে গ্যাস পাওয়ার সাফল্যও শতভাগ। ফলে সেখানে পাইপলাইন লাভজনক নয় এবং গ্যাস মিলবে না—এটা অবাস্তব চিন্তাভাবনা। স্থানীয় গ্যাসের উৎপাদন বৃদ্ধিতে বিগত সরকারের অনীহা ও আমদানি ব্যবসাই ছিল এর পেছনে বড় কারণ।

ভোলার গ্যাসের পাইপলাইন নিয়ে বিভিন্ন সময় পরিকল্পনা হলেও সে প্রকল্প কেন এগোয়নি তা নিয়ে অবগত ছিলেন জিটিসিএল ও পেট্রোবাংলার শীর্ষ পদে কাজ করা বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা। নাম অপ্রকাশিত রাখার শর্তে বণিক বার্তার সঙ্গে কথা বলেছেন এমন দুজন কর্মকর্তা। তারা বলেন, ভোলার গ্যাস ব্যবহারের জন্য বেশ কয়েকটি রুটে পাইপলাইন নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয় ২০১৮ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে। এসব পরিকল্পনা কখনো উদ্যোগের মধ্যে সীমাবদ্ধ, আবার কখনো কাগজে-কলমে আবদ্ধ ছিল। স্থানীয় গ্যাসের জোগান না বাড়িয়ে সহজ পথে আমদানির বিষয়ে জোরালো তদবির ও দেনদরবার ছিল বিভিন্ন মহলে। যে কারণে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি জ্বালানি বিভাগ, পেট্রোবাংলা ও জিটিসিএল। শুধু সময়ক্ষেপণ করে ভোলার গ্যাসকে বসিয়ে রাখা হয়েছে।

পেট্রোবাংলা সূত্রে জানা গেছে, ভোলার গ্যাস ব্যবহারে দুই ধরনের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রথমটি ভোলা-বরিশাল-খুলনা রুটে ২০৫ কিলোমিটার পাইপলাইন, এরপর গ্যাসের মজুদ বৃদ্ধি পেলে ভোলা-বরিশাল-গোপালগঞ্জ হয়ে ঢাকার সঙ্গে কানেক্টিভিটি বাড়ানো। তবে এ মুহূর্তে সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ভোলার গ্যাস খুলনায় আনতে ২০৫ কিলোমিটার পাইপলাইন নির্মাণ প্রকল্পটি এগিয়ে নেয়া হচ্ছে।

ভোলা-বরিশাল-খুলনা পাইপলাইন নির্মাণ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে সঞ্চালন সংস্থা গ্যাস ট্রান্সমিশন কোম্পানি লিমিটেড (জিটিসিএল)। সংস্থাটির কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ভোলা থেকে বরিশাল পর্যন্ত ৯৬ কিলোমিটার ২৪ ইঞ্চি গ্যাসের পাইপলাইন নির্মাণে ডিপিপি প্রণয়নের কাজ চলমান রয়েছে। আর বরিশাল-খুলনা ১০৯ কিলোমিটার পাইপলাইন নির্মাণের জন্য রুট সার্ভে, পরিবেশগত মূল্যায়ন ও সম্ভাব্যতা সমীক্ষার কাজ চলছে।

পাইপলাইন নির্মাণে সর্বশেষ অগ্রগতি ও জিটিসিএলের এ-সংক্রান্ত কার্যক্রমের বিষয়ে জানতে চাইলে সংস্থাটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) প্রকৌশলী মো. হারুন ভূঁইয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করেও কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

ভোলার পাইপলাইনের বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে পেট্রোবাংলার পরিচালক (অপারেশন অ্যান্ড মাইনস) প্রকৌশলী মো. শোয়েব বণিক বার্তাকে বলেন, ‘গ্যাসের স্থানীয় উৎপাদন বাড়াতে কূপ খননের পাশাপাশি ভোলার গ্যাস কীভাবে দ্রুত শিল্পে ব্যবহার করা যায়, তা নিয়েও পরিকল্পনা করা হচ্ছে। বিশেষ করে গ্যাসের সংকটে ভোলার গ্যাস কীভাবে গ্রিডে যুক্ত করা যায়, সেটা নিয়ে জিটিসিএল কাজ করছে। এটা পেট্রোবাংলার গ্যাস উৎপাদন ও সরবরাহ বৃদ্ধির পরিকল্পনায় রয়েছে।’

ফেসবুকে লাইক দিন

আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ।