বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়কে ‘প্রথম ফ্যাসিস্ট বাহিনী মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়’ ঘোষণা
বোরহানউদ্দিনে বিএনপির নাম ভাঙিয়ে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ, ব্যবসায়ী পরিবারের সংবাদ সম্মেলন

ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার কাচিয়া ইউনিয়নের ফুলকাচিয়া গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য আলমগীর মুন্সির বিরুদ্ধে জমি দখলের চেষ্টা, হামলা, মামলা, ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ করেছেন একটি ব্যবসায়ী পরিবার। পরিবারের নারী সদস্যদের হেনস্তার চেষ্টারও অভিযোগ করা হয়েছে। এসব থেকে পরিত্রাণ ও নিরাপত্তার দাবিতে সংবাদ সম্মেলন ও মানববন্ধন করেছেন তাঁরা।
শনিবার (২৯ আগস্ট) বিকেলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য শারমিন আক্তার, ফরিদা, রহিমা বিবি, জেসমিন, ইব্রাহিম মুন্সী, মোকলেস মুন্সী, গোলাম রহমান ও আমির মুন্সী উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে পরিবারের সদস্যরা বলেন, ২০২২ ও ২০২৩ সালে নান্টু মিয়া ওরফে নান্নু মিয়া, আমেনা বেগমসহ তিন ব্যক্তির কাছ থেকে ঢাকার ব্যবসায়ী মোহাম্মদ আলী রিপন জমি কেনেন। জমি কেনার পর থেকে তাঁরা ওই জমি ভোগদখল করে আসছিলেন।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, ২০২৩ সালে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের রাজনৈতিক প্রভাব কাজে লাগিয়ে সাবেক ইউপি সদস্য আলমগীর হোসেন ওই জমি দখলের চেষ্টা করেন। তিনি জমিটির মালিকানা দাবি করে নিজের নামে দলিল থাকার কথা জানান। পরে যাচাই করে ওই দলিল জাল বলে তাঁরা জানতে পারেন। স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে সালিস হলে আলমগীর মুন্সি তাঁর ভুল স্বীকার করে জমি তাঁদের বুঝিয়ে দেন বলে দাবি করেন ভুক্তভোগীরা।
তাঁদের ভাষ্য, এরপরও জমি নিয়ে বিরোধের অবসান হয়নি। ২০২৪ সালে আবারও বিরোধের জেরে পরিবারের সদস্যদের ওপর হামলা ও মারধরের ঘটনা ঘটে। ২০২৫ সালেও রিপন ও তাঁর পরিবারের ওপর হামলার অভিযোগ করেন তাঁরা। ওই ঘটনায় আমির মুন্সি গুরুতর আহত হন বলে সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়।
ভুক্তভোগীরা বলেন, এসব ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পর তাঁদের ওপর হয়রানি ও নির্যাতন আরও বেড়ে যায়। পরে স্থানীয় ব্যক্তিদের উদ্যোগে সালিস বৈঠক হলে আলমগীর মুন্সি ভবিষ্যতে আর কোনো ধরনের অত্যাচার করবেন না বলে আশ্বাস দেন। তাঁর আশ্বাসে তাঁরা মামলা প্রত্যাহার করেন বলে জানান।
তবে মামলা প্রত্যাহারের পরও পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি বলে অভিযোগ পরিবারের। তাঁদের দাবি, ২০২৬ সালে তাঁদের ওপর হামলার পর উল্টো ভোলা আদালতে তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা করেন আলমগীর মুন্সি। ওই মামলায় ব্যবসায়ী মোহাম্মদ আলী রিপনসহ আরও চারজনকে আসামি করা হয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।
পরিবারটির আরও অভিযোগ, রাতের বেলায় মাদকাসক্ত যুবক ও সহযোগীদের নিয়ে বাড়ির আশপাশে এসে ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে। পরিবারের সদস্যদের প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার পাশাপাশি নারী সদস্যদের হেনস্তার চেষ্টাও করা হচ্ছে বলে তাঁরা দাবি করেন।
সংবাদ সম্মেলনে পরিবারের সদস্যরা বলেন, তাঁদের ওপর হামলা ও নির্যাতনের পর উল্টো তাঁদের বিরুদ্ধেই মামলা করা হচ্ছে। মামলা দিয়ে পুলিশি হয়রানি এবং বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তাঁরা।
তাঁরা আরও বলেন, ১৯৯৬ সাল থেকে তাঁরা বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তাঁরা নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। তাঁদের দাবি, আলমগীর মুন্সি তখন আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। বর্তমানে বিএনপির নাম ব্যবহার করে তিনি তাঁদের ওপর প্রভাব বিস্তার ও হুমকি দেওয়ার চেষ্টা করছেন।
ভুক্তভোগী পরিবার রাজনৈতিক পরিচয় বা প্রভাব ব্যবহার করে কেউ যেন আইন নিজের হাতে তুলে নিতে না পারে, সে জন্য বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্তের দাবি জানিয়েছে। একই সঙ্গে ভোলা-২ আসনের সংসদ সদস্য হাফিজ ইব্রাহিমের হস্তক্ষেপ কামনা করে আলমগীর মুন্সির বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়।
পরিবারের নারী ও শিশুসহ সব সদস্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান তাঁরা।
অভিযোগের বিষয়ে আলমগীর মুন্সির বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। তাঁর বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।
