সর্বশেষঃ

ভোলায় নকশা অমান্য করে বহুতল ভবন নির্মাণ, ১৩ মালিককে পৌরসভার নোটিশ

ভোলায় পৌরসভার অনুমোদিত নকশা অমান্য করে বহুতল ভবন নির্মাণের অভিযোগে ১৩ ভবন মালিককে নোটিশ দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। নোটিশে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নকশাবহির্ভূত অংশ অপসারণ এবং ভবনের পার্কিংয়ের জায়গা সবার জন্য উন্মুক্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে নোটিশের পরও ভবন মালিকদের অনেকেই তা বাস্তবায়নে উদ্যোগী হননি। এ নিয়ে পৌর কর্তৃপক্ষ ও ভবন মালিকদের মধ্যে টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে।

পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, ভোলা শহরের ব্যস্ত সদর রোডে থাকা ১৩টি বহুতল ভবন অনুমোদিত নকশার বাইরে নির্মাণ করা হয়েছে। এসব ভবনের অধিকাংশেই বড় বড় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও শোরুম রয়েছে। ভবন নির্মাণের সময় পৌরসভার ১৫ সদস্যের কমিটির মাধ্যমে নকশা অনুমোদন দেওয়া হলেও বাস্তবে অনুমোদিত নকশার সঙ্গে নির্মিত ভবনের মিল নেই বলে অভিযোগ পৌর কর্তৃপক্ষের।

এ ছাড়া নকশায় পার্কিংয়ের জন্য জায়গা রাখা হলেও বাস্তবে অনেক ভবনে সেই জায়গা দোকান বা ব্যবসায়িক কাজে ব্যবহার কিংবা ভাড়া দেওয়া হয়েছে। ফলে সদর রোডে যানজট বাড়ছে। কেনাকাটা ও বিভিন্ন প্রয়োজনে শহরে আসা মানুষেরও ভোগান্তি হচ্ছে।

এ পরিস্থিতিতে ২০২৫ সালের ৯ সেপ্টেম্বর ৭৮১ নম্বর স্মারকে পৌরসভার পক্ষ থেকে ১৩ ভবন মালিককে নোটিশ দেওয়া হয়। নোটিশে নকশাবহির্ভূত অংশ ভেঙে ফেলা এবং পার্কিংয়ের জায়গা উন্মুক্ত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়।

নোটিশপ্রাপ্ত ভবনগুলোর মধ্যে রয়েছে—নজরুল ইসলাম গোলদারসহ ছয়জনের মালিকানাধীন গোলদার প্লাজা, আব্দুর রাজ্জাকসহ তিনজনের মালিকানাধীন ইউসিবি ব্যাংক ভবন, হারুনুর রশিদসহ দুইজনের মালিকানাধীন মক্কা ভবন, মসিউদ্দিনসহ দুইজনের মালিকানাধীন সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক ভবন, মোসাম্মাৎ হামিদা বেগমের মালিকানাধীন কেপ-টাউন মার্কেট, সালাউদ্দিনের মালিকানাধীন কর্ণফুলী শপিং কমপ্লেক্স, বিক্রম রায়, কবিতা রানিসহ সাতজনের মালিকানাধীন ইজি শোরুম, ওমর ফারুক ও জহিরুল ইসলাম নান্নুর মালিকানাধীন মডার্ন ডায়াগনস্টিক সেন্টার, শ্যামল কৃষ্ণ দত্তের মালিকানাধীন রয়েল ডায়াগনস্টিক সেন্টার, মনির হোসেন পারভেজ ও বজলুর রহমানের মালিকানাধীন ভিক্টর/অমনি শোরুম, মসিহউদ্দিন আল মাঈদের মালিকানাধীন মহাজনপট্টির হোটেল গ্র্যান্ড হলিডে, আইয়ূব আলী ও আনোয়ারা বেগমের মালিকানাধীন মহাজনপট্টির বহুতল ভবন এবং এটিএম মিজানুর রহমানের মালিকানাধীন হাবিব মেডিকেল সেন্টার।

এর মধ্যে বিক্রম রায় ও কবিতা রানিসহ সাতজনের মালিকানাধীন ইজি শোরুমের বিরুদ্ধে বাংলা স্কুলের পুকুরের সরকারি সম্পত্তি দখলেরও অভিযোগ রয়েছে।

 

পৌরসভার তৎকালীন প্রশাসক মিজানুর রহমান নকশাবহির্ভূত অংশ অপসারণে নোটিশ দেওয়ার পাশাপাশি কয়েকটি ভবনের বিরুদ্ধে ভাঙার উদ্যোগ নিয়েছিলেন। তবে শেষ পর্যন্ত সেই উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি।

পরে নোটিশপ্রাপ্ত ১৩ ভবন মালিকের পক্ষ থেকে পৃথকভাবে হাইকোর্টে রিট করা হয়। রিটের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারপতি শিকদার মাহমুদুর রহমান ও বিচারপতি রিয়াজউদ্দিন আহমেদের বেঞ্চ সংশ্লিষ্ট ভবনগুলো যে অবস্থায় রয়েছে, সেই অবস্থায় থাকার জন্য ছয় মাসের সময় দেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানান। সেই সময়ের মেয়াদ আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।

মেয়াদ শেষ হওয়ার সময় ঘনিয়ে আসায় ফের ভবন মালিক ও পৌর কর্তৃপক্ষের মধ্যে চাপা উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। এখন নকশাবহির্ভূত অংশ অপসারণ ও পার্কিং ব্যবস্থা উন্মুক্ত করার বিষয়ে পৌর কর্তৃপক্ষ কী পদক্ষেপ নেয়, সেটিই দেখার বিষয়।

এ বিষয়ে হাবিব মেডিকেল সেন্টারের মালিক ডা. মিজানুর রহমান বলেন, “সদর রোডের ভবনগুলোতে নিচতলায় ব্যবসা বেশি হয়। তাই কেউ এখানে পার্কিং রাখতে চায় না। তবে ট্রাফিক ব্যবস্থা সক্রিয় থাকলে যানজট হওয়ার সম্ভাবনা নেই।”

ফেসবুকে লাইক দিন

আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ।