সর্বশেষঃ

অনৈতিকতার প্রমাণ পাওয়ায় ভোলা সরকারি কলেজের অভিযুক্ত শিক্ষক শুভ্রদেবকে ওএসডি

স্টাফ রিপোর্টার ॥
ভোলা সরকারি কলেজের মৃত্তিকাবিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক শুভ্রদেব সূত্রধরের সঙ্গে একই বিভাগের এক ছাত্রীর অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগের সত্যতা পেয়েছে তদন্ত কমিটি। তদন্ত শেষে অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে সরকারি চাকরিবিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে কলেজ কর্তৃপক্ষ। সম্প্রতি ওই শিক্ষক ও ছাত্রীর সম্পর্কের বিষয় সংক্রান্ত একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এবং একাধিক সংবাদ মাধ্যমে খবর প্রকাশের পর বিষয়টি কলেজ কর্তৃপক্ষের নজরে আসে। পরে অভিযোগটি তদন্তে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। এ ঘটনায় কলেজের হিসাববিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক নুর মোহাম্মদ মাসুদকে আহ্বায়ক, ব্যবস্থাপনা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. এরশাদ ও ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের প্রভাষক মো. এমরানকে সদস্য করে কমিটিটি গঠন করা হয়।
এর আগে, ১০ আগস্ট ভোলা সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. ইসরাফীল স্বাক্ষরিত অফিস আদেশে বলা হয়, প্রভাষক শুভ্রদেব সূত্রধরের সঙ্গে একই বিভাগের এক ছাত্রীর অনাকাঙ্খিত ঘটনা তদন্তে ওই কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে তদন্ত শেষে তিন কার্যদিবসের মধ্যে অধ্যক্ষের কাছে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই তদন্ত কমিটি অভিযুক্ত শিক্ষক ও ছাত্রীর বাসায় সরেজমিনে তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দেয়।
তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কমিটির আহ্বায়ক ও কলেজের হিসাব বিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক নুর মোহাম্মদ মাসুদ। তিনি বলেন, তদন্তে কলেজের প্রভাষক শুভ্রদেব সূত্রধরের সঙ্গে একই বিভাগের এক ছাত্রীর অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। তিনি আরও বলেন, কমিটি তদন্ত করে প্রতিবেদন গত বৃহস্পতিবার বেলা ৩টার দিকেই কলেজ কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দিয়েছে। আমরা অত্যন্ত নিরপেক্ষতা ও যথাযথ তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে যেটা আমাদের কাছে সঠিক বিচার-বিবেচনা মনে হয়েছে, ঠিক সেটাই করেছি। তদন্তে সেই শিক্ষক-ছাত্রীর অনৈতিক সম্পর্কের ঘটনা প্রমাণিত। বিষয়টি ওই শিক্ষক ও ছাত্রী উভয়ে আমাদের কাছে স্বীকারও করেছে।
তিনি বলেন, ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে আর্থিক লেনদেনের প্রমাণও আমরা পেয়েছি। একটি পক্ষ এই অবৈধ লেনদেন করেছে। তাদের নামও আমরা তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছি। পাশাপাশি আমরা অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রচলিত সরকারি চাকরি বিধিবিধান অনুযায়ী ব্যবস্থার জন্যও সুপারিশ করেছি এবং আমার জানামতে, এই সুপারিশ বিশেষ বাহক মারফত শনিবার মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে প্রভাষক শুভ্রদেব সূত্রধরের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। পরে কলেজের সংশ্লিষ্ট বিভাগে গিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে ভোলা সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. ইসরাফীল বলেন, তদন্ত কমিটি তদন্ত রিপোর্ট জমা দিয়েছে। তারা ভোলা সরকারি কলেজের মৃত্তিকা বিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক শুভ্রদেব সূত্রধরের সঙ্গে একই বিভাগের এক ছাত্রীর অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগের সত্যতা পেয়েছে। আমরা সেটা মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়ে দিয়েছি। এখন মন্ত্রণালয় সেই অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নিয়েছেন।
এদিকে ভোলা সরকারি কলেজের মৃত্তিকা বিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক শুভ্রদেব সূত্রধরকে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) হিসেবে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরে (মাউশি) বদলি করা হয়েছে। আজ (১৯ আগস্ট) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সরকারি কলেজ-১ শাখা থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।
প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়, বি.সি.এস. (সাধারণ শিক্ষা) ক্যাডারের এই কর্মকর্তাকে ওএসডি করে নাটোরের আব্দুলপুর সরকারি কলেজে সংযুক্ত করা হয়েছে। আগামী ২৩ আগস্ট ২০২৬ তারিখের মধ্যে তাঁকে বর্তমান কর্মস্থল থেকে অবমুক্ত হতে বলা হয়েছে। অন্যথায় উক্ত তারিখ অপরাহ্নে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে অবমুক্ত বলে গণ্য হবেন। জনস্বার্থে এই আদেশ জারি করা হয়েছে বলে প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়।

ফেসবুকে লাইক দিন

আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ।