বর্ষা এলেই হাঁটুপানি, আট বছর ধরে জলাবদ্ধতায় দুর্ভোগ

ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার রসুলপুর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের হাজী রোড সংলগ্ন এলাকায় দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় টানা আট থেকে নয় বছর ধরে বর্ষা মৌসুমে বসতঘর, গোয়ালঘর, রান্নাঘরসহ প্রায় ৭৫ শতাংশ কৃষিজমি পানিতে তলিয়ে থাকে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বর্ষা এলেই ওই এলাকায় হাঁটুপানি জমে যায়। দীর্ঘদিন পানি জমে থাকায় কৃষিজমিতে চাষাবাদ প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। এতে কৃষিনির্ভর পরিবারগুলো আর্থিক সংকটে পড়েছে। জলাবদ্ধতার কারণে স্বাভাবিক জীবনযাপনও ব্যাহত হচ্ছে।
এলাকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোও এর প্রভাব থেকে বাদ যায়নি। স্থানীয় ব্র্যাক তুলাতুলি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও একটি হাফিজিয়া-নূরানী মাদ্রাসায় যাতায়াতে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। হাঁটুপানি পেরিয়ে বিদ্যালয়ে আসতে গিয়ে অনেক শিক্ষার্থী নিয়মিত ক্লাসে উপস্থিত হতে পারছে না।
ব্র্যাক স্কুলের শিক্ষিকা তানিয়া আক্তার বলেন, জলাবদ্ধতার কারণে নিয়মিত অনেক শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ে আসতে পারে না। শিক্ষকদেরও পানির মধ্য দিয়ে বিদ্যালয়ে আসতে হয়। এতে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ব্যাহত হচ্ছে।
হাফিজিয়া ও নূরানী মাদ্রাসার শিক্ষক হাফেজ মোহাম্মদ আক্তার হোসাইন বলেন, দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতার কারণে শিক্ষার্থীরা নির্ধারিত সময়ে ক্লাসে আসতে পারছে না। অনেকে পানিতে ভিজে মাদ্রাসায় এসে পরে ক্লাস না করেই বাড়ি ফিরে যায়। এতে শিক্ষার পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, পানি নিষ্কাশনের কার্যকর ব্যবস্থা না থাকায় বছরের পর বছর ধরে এ সমস্যা স্থায়ী রূপ নিয়েছে। জলাবদ্ধ পানির কারণে পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থাও ব্যাহত হচ্ছে। এতে দূষিত পানির সংস্পর্শে এসে পানিবাহিত রোগের ঝুঁকি বাড়ছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
দুর্ভোগে থাকা ২৫ থেকে ৩০টি পরিবারের পক্ষ থেকে জলাবদ্ধতা নিরসন ও দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা চেয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত আবেদন করা হয়েছে।
চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রোমানা আফরোজ বলেন, লিখিত অভিযোগটি পাওয়া গেছে। দ্রুত পানি অপসারণের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
স্থানীয়দের দাবি, সাময়িকভাবে পানি সরানোর পাশাপাশি স্থায়ী পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা গড়ে তোলা হলে দীর্ঘদিনের এ দুর্ভোগ থেকে মুক্তি মিলবে। এজন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ চান তারা।
