সর্বশেষঃ

সরকারি খাস জমি নিজ পরিবারের নামে, টাকা দিলেই মিলে ভিপি জমির নামজারী

তহশিলদার মুসফিক : রক্ষকই যখন ভক্ষক

নাসির উদ্দিন লিটন ॥ 

ভোলায় সরকারি সম্পত্তি রক্ষার দায়িত্বে থাকা এক রক্ষকের বিরুদ্ধেই ভক্ষকের ভুমিকা পালনের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত ভোলা পৌর ভূমি সহকারী কর্মকর্তা মুসফিকুর রহমান ওরফে মুসফিক তহশিলদার। তিনি জাল জালিয়াতির মাধ্যমে সরকারি খাস জমি যেন নিজের ও তার পরিবারের সম্পত্তিতে পরিনত করেছেন। পদ ও পদবীর প্রভাব কাজে লাগিয়ে তিনি নিজের নামে, শিক্ষক পিতা, ছেলে, ভগ্নিপতি ও নিকটাত্মীয়দের নামে খাসজমি বন্দোবস্ত নিয়েছেন। আইনগত নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে পরিবারের সদস্যদের নামে নেয়া খাস জমি বিক্রী করেছেন স্ট্যাম্পের মাধ্যম। এছাড়া মোটা অংকের ঘুষের বিনিময় দলিলপত্র ছাড়াই নিজের সিন্ডিকেট সদস্যদের নামে বিপুল পরিমান ভিপি (অর্পিত) জমি নামজারি করেছেন। জাল জালিয়াতির মাধ্যমে করা অবৈধ সম্পত্তি রক্ষায় ব্যবহার করেছেন রাজনৈতিক প্রভাবও। এতে ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ার অভিযোগও রয়েছে সাধারণ মানুষের। ভুমি বিভাগে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালনকালে একই কায়দায় গড়েছেন বিপুল পরিমান সম্পদ। তবে অভিযোগের বিষয়ে নিজের পক্ষেই সাফাই গাইলেন মুসফিকুর। আর তদন্ত করে আইনী ব্যবস্থান কথা জানালেন জেলা প্রশাসক।

খাস জমি যেভাবে নিজের করলেন : সময়টা ২০০৪ সাল। মুসফিকুর রহমান তখন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার চরমানিকা ইউনিয়নের উপসহকারী ভূমি কর্মকর্তা (সহকারী তহশিলদার)। সরকারি সম্পত্তি রক্ষার গুরু দায়িত্ব তার। আর এ ক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে রক্ষকের দায়িত্বে থাকা মুসফিক বনে যান ভক্ষক। স্থানীয়দের অভিযোগ, নিজের ক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে জাল জালিয়াতির মাধ্যমে চর কচ্ছপিয়া ও দক্ষিণ আইচা মৌজায় দেড় একর করে ২০টি খাস জমি বন্দোবস্ত নেন। যার মধ্যে রয়েছে মুসফিকের স্কুল শিক্ষক পিতা, ছেলে, ভগ্নিপতি, নিজের ও নিকটাত্মীয়দের নাম।

সরেজমিন অনুসন্ধান ও সাতটি বন্দোবস্ত মোকদদ্দমার কাগজপত্র পর্যালোচনা দেখা যায়, মুসফিকুর রহমান ৭৪৪এফ/৯৯-২০০০ মোকদ্দমায় দক্ষিণ আইচা মৌজার এসএস ৭১৭ ও ২১৭০ এফ/২০০৩-২০০৪ বন্দোবস্ত মোকদ্দমায় চর কচ্ছপিয়া মৌজার দিয়ারা ৩৯৮ খতিয়ানের মোট ৩ একর জমি নিজের নামে বন্দোবস্ত নেন। ৩৯৮ নং খতিয়ানের বন্দোবস্ত আবেদনে নিজের পুরো নাম এড়িয়ে কৌশলে ডাকনাম মোশারেফ ব্যবহার করেন। তার শিক্ষক পিতা মফিজুর রহমানকে ভূমিহীন দেখিয়ে চর কচ্ছপিয়া মৌজার দিয়ারা ৩৯৭ নং দক্ষিণ চর আইচা মৌজার এসএ ৭১৬ খতিয়ানের তিন একর জমি বন্দোবস্ত নেন। যার বন্দোবস্ত কেস নং ২১৬৯এফ/২০০৩-২০০৪ ও ৭৪৩ এফ/৯৯-২০০০। তার পাঁচ বছরের ছেলে মাহফুজর রহমান ওরফে রিমনকে বিবাহিত দেখিয়ে বন্দোবস্ত ২১৬৬ এফ/২০০৩-২০০৪ ও ২১৬৭ এফ/ ২০০৩-২০০৪ মোকদ্দমায় চর কচ্চপিয়া মৌজার দিয়ারা খতিয়ান নং ৩৯৪ ও ৩৯৫ মোট ৩ একর খাস জমি বন্দোবস্ত নেন। একই মৌজার দিয়ারা ৩৯৩ খতিয়ানের দেড় একর জমি ভগ্নিপতি আবুল কাশেমের নামে ২১৬৫ এফ/২০০৩-২০০৪ মোকদ্দমামুলে বন্দোবস্ত নেন। যাদের নামে সরকারি নয় একর খাস জমি বন্দোবস্ত দেয়া হয়েছে তারা কেউই নীতিমালা অনুযায়ী খাস জমি পাওয়ার অধিকার রাখেন না।

জালিয়াতির জমি স্ট্যাম্পে বিক্রী : সরেজমিনে ভুক্তভোগীদের অভিযোগে জানা যায় নীতিমালা অনুযায়ী বন্দোবস্তকৃত খাস জমি হস্তান্তর, বিক্রী, লগ্নি বা বর্গা দেয়া নিষেধ থাকলেও এসব কিছুই মানেননি মুসফিক তহশিলদার। নিবন্ধন আইনে বন্দোবস্ত প্রাপ্ত জমি বিক্রয়ে নিষেধাজ্ঞা থাকায় বিশেষ পন্থায় স্ট্যাম্পের মাধ্যমে এসব জমি অন্যের কাছে বিক্রী করে হাতিয়ে নিয়েছেন লাখ লাখ টাকা।

লালমোহন উপজেলার রমাগঞ্জ গ্রামের প্রবাসি মো. রফিকুল ইসলাম জানান, তার আত্মীয় মো. সেলিমের মাধ্যমে দশ বছর আগে মুসফিক তহশিলদারের কাছ থেকে দেড় একর জমি কিনেন। পাঁচ লাখ টাকার বিনিময়ে চর কচ্ছপিয়া মৌজার ৩৯৫ নং খতিয়ানের জমি তাকে বুঝিয়ে দেন। বন্দোবস্ত সূত্রে ওই জমির মালিক মুসফিকের ছেলে রিমন। খাস জমি হওয়ায় তখন দলিল করতে পারেননি। তাই স্ট্যাম্পে লিখিত দিয়েছেন। কথা ছিল ১০/১২ বছর পর দলিল করে দিবেন। কিন্তু এখনও দলিল দেন নি। মুসফিকের ছেলে মাহফুজুর রহমানের নামের চর কচ্চপিয়া মৌজার দিয়ারা ৩৯৪ খতিয়ানের ৪৪ শতাংশ জমি মোজাম্মেল, সুফিয়া বেগম ও হানিফ বয়াতির পরিবারের কাছে স্ট্যাম্পের মাধ্যমে বিক্রী করেছেন। হানিফ বয়াতি ও সুফিয়া বেগম জানান, মুসফিক তহশিলদার তাদের বসত বাড়ির মধ্যে জমি দাবি করে স্থানীয় প্রভাবশালীদের দিয়ে উচ্ছেদের চাপ দেন। পরে বাধ্য হয়ে স্ট্যাম্পের মাধ্যমে তার কাছ থেকে ৩২ শতাংশ জমি কিনে নেন ২ লাখ টাকায়। কিন্তু এখনও দলিল পাননি। এমনকি জমির খাজনাও দিতে পারেননি। একই মৌজার ৩৯৩, ৩৯৭ ও ৩৯৮ খতিয়ানের সাড়ে ৪ একর জমি বিক্রী করেছেন জিয়া আকন নামের এক ব্যক্তির কাছে। জিয়া আকন মুসফিকের কাছ থেকে স্ট্যাম্পের মাধ্যমে ৩টি খতিয়ানের জমি কেনার কথা স্বীকার করেছেন।

ভিপি জমি হাতিয়ে নিতে জালিয়াতি : ২০২৪ সালে চরফ্যাশনের নুরাবাদ ইউনিয়ন ভূমি অফিসে কর্মরত ছিলেন মুসফিক। এখানে সরকারি ভিপি জমি তার লোভের নজর এড়ায়নি। ‘ক’ তফসিলভুক্ত ভিপি (অর্পিত) জমি মৃত ব্যক্তিসহ নিজের লোকজনের নামে নামজারী করে দেয়ার অভিযোগ রয়েছে। তিনি জাল কাগজপত্র দিয়ে ৮টি নামজারী মোকদ্দমায় প্রায় ২৭ একর জমির ভুয়া নামরাজী করান। এর মধ্যে নামজারী মামলা নং ১৭৩১/২৪-২৫ এর মাধ্যমে চর নিলকমল মৌজার ১/১ খতিয়ানের ১১ একর ১০ শতাংশ ৮ জন ব্যক্তির নামে নামজারী করান। অনলাইনে দাখিল করা আবেদন ও উপজেলা ভূমি অফিসের কাগজপত্র পর্যালোচনা করে দেখা যায়, ৮ জন আবেকনকারীর মধ্যে ৪ জনই মৃত। নিলকমল মৌজার জমির আবেদনের সাথে জিন্নাগর মৌজার খতিয়ান সংযুক্ত করা। জমির মালিকানা দাবির স্বপক্ষে আর কোন দলিল পত্র ও আবেদনকারীদের এনআইডি কপি সংযুক্ত ছিল না। অথচ মুসফিক ওই নামজারীর প্রস্তাব করেন এবং চরফ্যাশন উপজেলা ভূমি অফিসের সার্ভেয়ার (বর্তমানে কানুন গো হিসাবে কর্মরত) কবির হোসেন সুপারিশ করেন। যা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোহাম্মদ সালেক মূহিদ অনুমোদন করে ২০২৪ সালের ৯ সেপ্টেম্বর ডিসিআর দেন। একই অনিয়ম হয়েছে অন্য নামজারীগুলোতেও।

অফিস সূত্রে জানা গেছে, মুসফিকের এ জাল-জালিয়াতির বিষয় জানার পর সহকারী কমিশনার নিলকমল মৌজার ৮টি নামজারীই বাতিল করেছেন। ১১ একর ভিপি জমি নামজারীর বিষয়ে কথা হয় আবেদনকারী তোফায়েল আহমেদ ও তার ভাতিজা হুমায়ুন কবিরের সাথে। তাদের ভাষ্য, মুসফিকের নির্ধারিত দালাল আবু সাইদের মাধ্যমে ৫ লাখ টাকা নিয়ে ওই জমি নামজারী করিয়েছেন। তারা ভিপি জমি নিজেদের দলিল পত্র আছে দাবি করলেও তা দেখাতে পারেন নি। তবে খাজনা দিতে গিয়ে দেখেন নামজারি বাতিল হয়েছে। স্থানীয়দের মাধ্যমে জানা যায়, ওইসব জমির দখলদারের সাথে ভাগভাটোয়ার চুক্তিতে মুসফিক নামজারী করান।

পিতা-সন্তানের সাথেও প্রতারণা : মুসফিকের বাবা ছিলেন দৌলতখান উপজেলার জয়নগর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক। এলাকায় তার বেশ সুনাম ও পরিচিত আছে। একাধিক বাড়িসহ সহায়-সম্পত্তি ছিল তার। কিন্তু সেই শিক্ষক বাবাকে নদীভাঙ্গা ভূমিহীন দেখিয়ে খাসজমি বন্দোবস্ত নেন। তার বড় ছেলে মাহফুজুর রহমান রিমন বর্তমানে ২৫/২৬ বছরের যুবক। ঢাকার একটি কলেজে পড়ছেন। কিন্তু ২০০৪ সালে তাকে বিবাহিত, এক সন্তানের পিতা ও ২৫ বছর বয়স দেখিয়ে জমি বন্দোবস্ত নেয়া হয়। খাস জমির আবেদনে রিমনের স্ত্রীর নাম দেখানো হয়েছে হাফসা বেগম ও ফাতেমা বেগম। ওই তথ্য সম্পূর্ণ মিথ্যা ছিল। ভগ্নিপতি আবুল কাশেমের নামে দুই দশক আগে খাস জমি বন্দোবস্ত নিয়ে বিক্রী করলেও এখনও এর কিছুই জানেননা তিনি। বাবা মফিজুর রহমান মারা গেছেন বেশ কয়েক বছর আগে।

জমি দখলে ক্ষমতার প্রভাব : চর কচ্চপিয়া মৌজার দিয়ারা ৩৯৪ খতিয়ানের জমির মালিক ছিলেন স্থানীয় কৃষক মো. সিরাজ। সিরাজের অভিযোগ, চর মানিকা ইউনিয়নের সাবেক ভূমি সহকারী কর্মকর্তা মো. মুসফিকুর রহমান জাল জালিয়াতির মাধ্যমে ২০০৪ সালে একই খতিয়ানে তার ছেলে মাহফুজুর রহমানের নামে দেড় একর খাস জমি বন্দোবস্ত নেন। পাঁচ বছরের ছেলে মাহফুজকে বিবাহিত দেখান। মুসফিক নিজেকে আওয়ামী লীগের সাবেক এক এমপির আত্মীয় পরিচয় দিয়ে ওই এলাকায় ‘গুন্ডা বাহিনী’ গড়ে তুলেছেন। ওই বাহিনীকে দিয়ে ২০১৮ সালে সিরাজকে তার জমি থেকে উচ্ছেদ করে সেখানে দুটি আধা পাঁকা ঘর নির্মাণ করেন। ৫ আগস্টের পর তিনি ওইঘর ২টি দখলে নিয়েছেন। সিরাজের ভাষ্য ওই এলাকার অসংখ্য মানুষকে তিনি অত্যাচার নির্যাতন করেছেন। বে-আইনি ভাবে সরকারি খাস জমি বন্দোবস্ত নিয়ে নিরীহ মানুষকে হয়রানী করছেন।

সিরজের প্রতিবেশি বাংলাদেশ চার্চ সমাজ উন্নয়ন সংস্থার কচ্চপিয়া আশ্রয় কেন্দ্রের পরিচালক মো. সায়েদ ফরাজি জানান, ১৯৮৩ সালে চার্চ সমাজ উন্নয়ন সংস্থা জমি কিনে স্থানীয় অসহায় ৫৪ পরিবারকে পূনর্বাসন করে। প্রায় চার দশক পর এসে মুসফিকের লোকজন চার্চের আশ্রয়নের মধ্যে জমি দাবি করছেন। দেয়া হচ্ছে উচ্ছেদের হুমকি-ধামকি। এতে আতংকে আছেন দরিদ্র-অসহায় পরিবারগুলো।

মুসফিকের ফাঁদে বিপাকে নিরীহ মানুষ : স্ট্যাম্পে মুসফিকের কাছ থেকে জমি ক্রেতা মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, তিনি দশ বছর আগে বিদেশ থেকে (ওমান থেকে) এসে সঞ্চয়ের ৫ লাখ টাকা দিয়ে মুসফিকের কাছ থেকে দেড় একর জমি কিনেছেন। যা বছরে ১৫ হাজার টাকায় লগ্নি লাগান। এ টাকা তার পরিবারের খরচে ব্যয় করেন। কিন্তু ছাপকাবলা দলিল না দেয়ায় তিনি অনিশ্চয়তার মধ্যে আছেন। চর কচ্চপিয়ার মোজাম্মেল, সুফিয়া বেগম ও হানিফ বয়াতির পরিবার কেনা জমির দখল নিতে গিয়ে প্রতিবেশিদের সাথে মামলা জড়িয়েছেন। এখন পর্যন্ত পাননি জমির দলিল। হানিফ বয়াতির অভিযোগ, মুসফিক তার লোকজন দিয়ে জিম্মি করে ফাঁদে ফেলে ২ লাখ টাকা দিতে বাধ্য করেছেন। কেনা জমির দলিল না পাওয়ায় খাজনা দিতে পারছেন না। নিজেদের নামে নামজারীও করাতে পারেন নি।

উপেক্ষিত নীতিমালা : বন্দোবস্তের কবুলিয়াত ফরমের ১১ ও ১৩ নং শর্তে জমি বর্গা দেয়া, বিক্রয়, দান বা হস্তান্তর করা যাবেনা মর্মে শর্ত দেয়া আছে। আর খাসজমি ব্যবস্থাপনা ও বন্দোবস্ত নীতিমালা ১৯৯৭-এর অুনচ্ছেদ ৭.০ অনুযায়ী উত্তারাধিকার সূত্র ব্যতীত অন্য কোনভাবে বন্দোবস্তকৃত জমি হস্তান্তর নিষেধ। এই নিয়ম লঙ্গন করলে বরাদ্দ বাতিল হয়ে জমি পুনরায় সরকারের খাস খতিয়ানে চলে যায়। কিন্তু মুসফিকের ক্ষেত্রে এ নীতিমালা কার্যকর করা হয়নি।

আইন অমান্য : যা বললেন মুসফিক : নিজের ও পরিবারের সদস্যদের নামে খাস জমি বন্দোবস্ত নেয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেন মুসফিকুর রহমান। বন্দোবস্তের আবেদন ও খতিয়ানের কপি দেখালে এসব ব্যক্তিদের তিনি চেনেন না বলে দাবি করেন। স্থানীয়দের অভিযোগের বিষয়ে পূর্বশত্রুতাকে দায়ি করেন তিনি। ভিপি জমি নামজারি ভুল বসত হয়েছে উল্লেখ করে কবির মাস্টারের কাছ থেকে ৫ লাখ টাকা ঘুষ নেয়ার বিষয় অস্বীকার করেন এবং সব দায়-দায়িত্ব সহকারী কমিশনার (ভূমি)’র উপর চাপিয়ে দেন।

ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস কর্তৃপক্ষের : চরফ্যাশনের সহকারী কমিশনার (ভূমি) এমাদুল হোসেন জানান, ভিপি জমি নামজারীর বিষয়টি জানার পর তার পূর্ববর্তী কর্মকর্তা বাতিল করেছেন। তবে এর সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে কেন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি সে বিষয়ে কোন উত্তর দেননি। আর মুসফিক তহশিলদার ও তার পরিবারের সদস্যদের নামে খাস জমি বন্দোবস্তের বিষয়ে বলেন, এমন বিষয় তাদের জানা নেই। যদি বে-আইনি বন্দোবস্ত হয়ে থাকে তা বাতিলের সুযোগ রয়েছে।

ভোলার জেলা প্রশাসক ডা. শামীম রহমান জানান, মুসফিকের অভিযোগের কাগজপত্র যাচাই করতে হবে। অভিযোগ সঠিক পাওয়া গেলে তাহলে গুরুতর অন্যায়। সকারি কর্মকর্তা নিজে বা তার পরিবারের সদস্যদের নামে খাস জমি নিয়ে থাকলে নীতিমালা অমান্য করা হবে। এ বিষয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে আইনি ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানান জেলা প্রশাসক।

বর্তমানে ভোলা পৌর ভূমি অফিসে কর্মরত মুসফিকুর রহমান ২০০৪ সালে চরফ্যাশনের চর মানিকা ইউনিয়ন ভূমি অফিসে চাকুরী কালিন জমি বন্দোবস্ত নেন এবং ২০২৪ সালে নুরাবাদ ইউনিয়ন ভূমি অফিসে চাকুরী কালিন জালিয়াতির মাধ্যমে ভিপি জমি নামজারী করান।

ফেসবুকে লাইক দিন

আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ।