শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে পাবেন পূর্ণ নিরাপত্তা, ‘র’ প্রধানের সফরের পর সরকারের বার্তায় নতুন জল্পনা!
নির্মাণের ৩৮ বছরেও সংস্কার হয়নি ভোলা বাস টার্মিনাল

নির্মাণের ৩৮ বছর পেরিয়ে গেলেও সংস্কারের মুখ দেখেনি ভোলার বীরশ্রেষ্ঠ মোস্তফা কামাল বাস টার্মিনাল। দীর্ঘদিনের অবহেলা ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই বাস টার্মিনালটি এখন জরাজীর্ণ ও ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। টার্মিনালের ভেতরের সড়ক জুড়ে বড় বড় খানাখন্দ। বৃষ্টি হলে সেসব গর্তে পানি ও কাদা জমে সৃষ্টি হয় চরম দুর্ভোগ। নেই যাত্রী ছাউনি, পাবলিক টয়লেট কিংবা বাস শ্রমিকদের বিশ্রামের ব্যবস্থা।
অথচ প্রতিদিন প্রায় ১৫ থেকে ২০ হাজার যাত্রী এই টার্মিনাল ব্যবহার করেন। পাঁচটি রুটে চলাচল করে শতাধিক বাস। বিকল্প কোনো বাস টার্মিনাল না থাকায় ঝুঁকি নিয়েই প্রতিদিন এই জরাজীর্ণ টার্মিনাল ব্যবহার করছেন যাত্রী ও পরিবহন শ্রমিকরা।
স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা গেছে, ১৯৮৮ সালে বীরশ্রেষ্ঠ মোস্তফা কামাল বাস টার্মিনালটি নির্মাণ করা হয়। ১৯৯৬ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে এখান থেকে বাস চলাচল শুরু হয়। এরপর প্রায় তিন দশক পেরিয়ে গেলেও টার্মিনালটির উল্লেখযোগ্য কোনো সংস্কার হয়নি।
সরেজমিনে দেখা যায়, টার্মিনালের ভেতরের সড়ক ভেঙে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। বর্ষা মৌসুমে এসব গর্তে পানি জমে পুরো টার্মিনাল কাদায় পরিণত হয়। কাদা ও পানির কারণে হেঁটে চলাচল করাই কঠিন হয়ে পড়ে। বাসে উঠতে গিয়ে যাত্রীদের কাপড়চোপড় নষ্ট হচ্ছে।
টার্মিনালের চারপাশের বাউন্ডারি দেয়ালও বিভিন্ন স্থানে ভেঙে গেছে। দেয়ালের পলেস্তারা খসে পড়ছে। কোথাও কোথাও দেয়ালের অবস্থা এতটাই নাজুক যে যেকোনো সময় ধসে পড়ে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
নিরাপত্তা দেয়াল ভেঙে যাওয়ায় রাতের বেলায় বাসের নিরাপত্তা নিয়েও শঙ্কায় রয়েছেন মালিক ও শ্রমিকরা। তাঁদের অভিযোগ, বিভিন্ন সময় বাসের যন্ত্রাংশ এবং তেল-মবিল চুরির ঘটনাও ঘটছে।
টার্মিনালে নেই কোনো যাত্রী ছাউনি। ফলে টিকিট কাটার পরও যাত্রীদের সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে বাসের জন্য অপেক্ষা করতে হয়। রোদ-বৃষ্টি কিংবা ঝড় কোনো পরিস্থিতিতেই তাদের আশ্রয় নেয়ার ব্যবস্থা নেই।
যাত্রী মো: আ: রহিম, বাদশা মিয়া, ছেলামত ও মো: আরিফুর রহমান বলেন, ভোলা সদর থেকে অন্য উপজেলায় যাতায়াত করতে হলে এই টার্মিনাল দিয়েই যেতে হয়। কিন্তু টিকিট কাটার পর রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। এখানে কোনো যাত্রী ছাউনি নেই। রোদ-বৃষ্টি-ঝড় যাই হোক, যাত্রীদের আশ্রয় নেয়ার কোনো ব্যবস্থা নেই।
তারা আরো বলেন, ‘সড়কে দাঁড়িয়ে থাকা খুবই বিপজ্জনক। কখন কোন বাস এসে ধাক্কা দেয়, সেই আতঙ্কের মধ্যেই থাকতে হয়। এখানে ভালো খাবারের হোটেলও নেই। আমরা চাই দ্রুত টার্মিনালটি আধুনিক বাস টার্মিনালে রূপান্তর করা হোক।
নারী যাত্রী কুলছুম বেগম, আছিয়া ও উম্মে ছালমা আক্তার বলেন, এই টার্মিনালে নারীদের জন্য কোনো নিরাপত্তা বা সুযোগ-সুবিধা নেই। শিশুদের নিয়ে রাস্তয় দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো এখানে কোনো পাবলিক টয়লেট নেই। এতে নারী যাত্রীদের চরম সমস্যায় পড়তে হয়।
তারা দ্রুত টার্মিনালে নারী ও পুরুষের জন্য পৃথক আধুনিক টয়লেট নির্মাণ এবং যাত্রী ছাউনি করার দাবি জানায়।
বাসচালক মো: সুমন, মো: ইলিয়াস ও মো: শামিম হোসেন জানান, টার্মিনালের ভাঙা সড়ক ও বড় বড় খানাখন্দের কারণে বাস প্রবেশ ও বের করতে তাদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়।
তারা বলেন, যেকোনো সময় বাস উল্টে যেতে পারে। গর্তে চাকা পড়লে বাসের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে মালিকদেরও আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে।
বাস স্টাফ মতিন মিয়া বলেন, ‘নাজিউর রহমান (সংসদ সদস্য) থাকার সময় টার্মিনালটি তৈরি হওয়ার পর থেকে আজ পর্যন্ত বড় কোনো সংস্কার হয়নি।’
আরেক বাস স্টাফ শহিদুল বলেন, ‘সারাদিন যাত্রী পরিবহন করে এখানে বিশ্রাম নেয়ার কোনো ব্যবস্থা নেই। গোসল করার জন্যও কোনো বাথরুম নেই। যাত্রীদের জন্যও কোনো টয়লেট নেই।’
স্থানীয়রা জানায়, অন্যান্য সময়ের চেয়ে বর্ষা মৌসুমে টার্মিনালের দুর্ভোগ কয়েকগুণ বেড়ে যায়। বৃষ্টি হলেই পানি ও কাদায় টার্মিনাল একাকার হয়ে যায়। ফলে যাত্রীদের কাদা মাড়িয়ে বাসে উঠতে হয়।
এতে একদিকে যেমন যাত্রীদের পোশাক নষ্ট হচ্ছে, অন্যদিকে পিচ্ছিল সড়কে পড়ে গিয়ে আহত হওয়ার আশঙ্কাও থাকছে।
ভোলা বাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ফজলুর রহমান বাচ্চু মোল্লা বলেন, ‘বাস মালিক সমিতির পক্ষ থেকে একাধিকবার ভোলা পৌরসভাকে টার্মিনালটি সংস্কার ও পুনর্র্নিমাণের জন্য তাগাদা দেয়া হয়েছে। কিন্তু এতদিনেও দৃশ্যমান কোনো কাজ হয়নি।’
তিনি বলেন, ‘এই বর্ষা মৌসুমেও টার্মিনালটির বেহাল অবস্থা আরো প্রকট হয়েছে। জেলার বিভিন্ন উপজেলার সাথে সড়ক যোগাযোগের প্রধান কেন্দ্র এটি। তাই দ্রুত টার্মিনালটি আধুনিকায়ন করা প্রয়োজন।’
ভোলা পৌর প্রশাসক বেল্লাল হোসেন বলেন, ‘আধুনিক বাস টার্মিনাল তৈরির লক্ষ্যে লিখিত প্রস্তাব প্রণয়ন করা হয়েছে। বর্তমানে সেটি মন্ত্রণালয় পর্যায়ে রয়েছে। ভোলা পৌরসভা, মাননীয় সংসদ সদস্যসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে নিয়ে আমাদের কাজ অব্যাহত আছে। আমরা খুবই আশাবাদী, দ্রুত এর সংস্কারের কাজ শুরু হবে।’
ভোলা জেলার বিভিন্ন উপজেলার সাথে সড়ক যোগাযোগের প্রধান কেন্দ্র বীরশ্রেষ্ঠ মোস্তফা কামাল বাস টার্মিনাল। প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষের যাতায়াতের গুরুত্বপূর্ণ এই স্থাপনাটি দীর্ঘদিন সংস্কারহীন থাকায় জনদুর্ভোগ ক্রমেই বাড়ছে।
পরিবহন সংশ্লিষ্টদের দাবি, শুধু খানাখন্দ মেরামত নয় পুরো টার্মিনালটি আধুনিকভাবে পুন:নির্মাণ করতে হবে। যাত্রী ছাউনি, নারী-পুরুষের পৃথক পাবলিক টয়লেট, বাস শ্রমিকদের বিশ্রাম ও গোসলের ব্যবস্থা, নিরাপত্তা দেয়াল এবং পর্যাপ্ত আলোকসজ্জাসহ আধুনিক সব সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে।
তাদের প্রত্যাশা, মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন দ্রুত পাওয়া গেলে দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পাবেন ভোলার হাজার হাজার যাত্রী ও পরিবহন শ্রমিক।
