সর্বশেষঃ

৩ পরীক্ষার্থীকে পড়িয়েছেন ১১ শিক্ষক, তারপরও পাস করেনি কেউ

জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলার কদমতলী ক্বারীপাড়া উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এবারের এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া তিন পরীক্ষার্থীর সবাই অকৃতকার্য হয়েছে। বিদ্যালয়টিতে ১৮৭ জন শিক্ষার্থীর বিপরীতে শিক্ষক রয়েছেন ১১ জন। এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস ও বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০০০ সালে প্রতিষ্ঠিত কদমতলী ক্বারীপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়টি ২০২২ সালে এমপিওভুক্ত হয়। বিদ্যালয়টি থেকে এবারই প্রথম তিনজন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। তবে প্রকাশিত ফলাফলে দেখা যায়, তিনজনের কেউই পাস করতে পারেনি।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. সাইফুল্লাহ বলেন, এবারের তিন পরীক্ষার্থীকে নিয়মিত এসএসসি ব্যাচের শিক্ষার্থী হিসেবে বিবেচনা করা ঠিক হবে না। শিক্ষার্থীদের রেজিস্ট্রেশন-সংক্রান্ত বিষয় যাচাইয়ের জন্যই তাদের এবার পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। নিয়ম অনুযায়ী বিদ্যালয়ের প্রথম নিয়মিত ব্যাচের শিক্ষার্থীদের ২০২৭ সালের এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।

ইসলামপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের একাডেমিক সুপারভাইজার মোহাম্মদ মামুন-অর-রশীদ বলেন, কদমতলী ক্বারীপাড়া উচ্চ বিদ্যালয় থেকে তিনজন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল। তাদের কেউই পাস করতে পারেনি। বিদ্যালয়টি থেকে এবারই প্রথম এসএসসি পরীক্ষায় শিক্ষার্থী অংশ নেয়।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আরিফা আক্তার বলেন, এখনও পূর্ণাঙ্গ ফলাফল হাতে পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়ার পর এ নিয়ে মন্তব্য করব।

এদিকে ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জামালপুর জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শামছুর আলম। তিনি বলেন, জেলার যেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শতভাগ পরীক্ষার্থী ফেল করেছে, তার মধ্যে একটি প্রতিষ্ঠানে তিনজন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে সবাই অকৃতকার্য হয়েছে। অথচ শিক্ষকরা নিয়মিত সরকারি বেতন-ভাতাসহ সব সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছেন। তারপরও সঠিক পাঠদান নিশ্চিত না হলে বিষয়টি উদ্বেগজনক।

তিনি আরও জানান, এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হবে।

 

ফেসবুকে লাইক দিন

আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ।