ক্যান্সারের সঙ্গে লড়াই, শেষ ইচ্ছা—ভোলার মাটির স্বজনদের এক নজর দেখা

সময়টা ১৯৭৪ সাল। সারা দেশে চরম অভাব-অনটন। মাত্র ৪ থেকে ৫ বছর বয়সে মাকে হারান রহিমা বেগম। অভাবের তাড়নায় দাদী তাকে তুলে দেন ভোলায় কর্মরত জামালপুরের পানি উন্নয়ন বোর্ডের এক সরকারি চাকুরিজীবী পরিবারের হাতে। পরবর্তীতে তারা বদলী হয়ে জামালপুর চলে আসলে রহিমা বেগমকেও সাথে নিয়ে যান। সেই থেকে শুরু, গত ৫২ বছরে জন্মমাটি ভোলার আর কারও সাথে দেখা হয়নি তার।
জীবনের শত দুঃখ-কষ্ট সামলে আজ তিনি মরণব্যাধি ক্যান্সারে আক্রান্ত। চিকিৎসকরা আশা ছেড়ে দিয়েছেন, কিন্তু রহিমা বেগমের মন পড়ে আছে ভোলার মাটিতে। যতটুকু স্মরণে আসে, তা থেকেই তিনি জানান—তার বাবার নাম মোঃ হাশমত মাঝি। দুই বোন ও এক ভাইয়ের মধ্যে তিনি ছিলেন মেজো। মামার নাম মোঃ নুরু মাঝি এবং মামি হুনুফা। খালার নাম আমিরন ও খালাতো বোন নারগিস। খালুর নাম ফারুক, যিনি পেশায় রং মিস্ত্রি ছিলেন।
স্মৃতির পাতা থেকে তিনি আরও জানান, তাদের সম্ভাব্য গ্রামের নাম ছিল কালিকৃতি বা গংগাকৃতি এবং বাড়ির পাশে ছিল ‘দিশারী’ নামের একটি স্কুল। যে পরিবারটি তাকে নিয়ে এসেছিল, তারাও আজ বেঁচে নেই। কোনো ভাই বা পর্যাপ্ত সামর্থ্য না থাকায়, অশীতিপর বাবা ও মেয়ের পক্ষে ভোলায় এসে স্বজনদের খুঁজে বের করা সম্ভব হচ্ছে না।
জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে থাকা এই অসহায় মায়ের একমাত্র শেষ ইচ্ছা পূরণ করতে পারে ভোলাবাসীর একটি ছোট উদ্যোগ। আপনার একটু সহায়তায় হয়তো ফিরে পেতে পারে তার হারানো পরিবার। কোনো সহৃদয় ব্যক্তি তথ্য পেলে বা স্বজনদের সন্ধান জানলে স্ক্রিনে দেওয়া নম্বরে যোগাযোগের আকুল অনুরোধ করা হচ্ছে।
