সর্বশেষঃ

মেঘনায় সারবোঝাই কার্গো আটকের পর সার ও টাকা রেখে দেওয়ার অভিযোগ

ভোলার মনপুরা ও চরফ্যাশন উপজেলার সীমান্তবর্তী চর নিজামসংলগ্ন মেঘনা নদীর মোহনায় সারবোঝাই একটি বাল্কহেড আটকের ঘটনাকে কেন্দ্র করে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের অভিযোগ, অবৈধভাবে সার পাচারের সময় নৌযানটি আটকের পর প্রায় পাঁচ লাখ টাকা এবং ১৫০ থেকে ২০০ বস্তা সার রেখে দিয়ে বাকি সারসহ বাল্কহেডটি ছেড়ে দেওয়া হয়। তবে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। এ ঘটনায় প্রশাসন তদন্ত শুরু করেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে চর কালকিনির দক্ষিণ মাথা ও চর নিজামের মধ্যবর্তী মেঘনা নদীর মোহনা দিয়ে কয়েক শ বস্তা সার নিয়ে একটি বাল্কহেড যাচ্ছিল। এ সময় চর নিজামের বাসিন্দা কামরুল ইসলাম খলিফা, কামরুল মাস্টার ও নিরবের নেতৃত্বে কয়েকজন স্পিডবোটে গিয়ে নৌযানটি আটকে দেন।

স্থানীয়দের দাবি, বাল্কহেডটিতে ৫০০ থেকে ৭০০ বস্তা সার ছিল। অভিযোগ রয়েছে, নৌযানটির লোকজনের কাছ থেকে প্রায় পাঁচ লাখ টাকা এবং ১৫০ থেকে ২০০ বস্তা সার রেখে দিয়ে বাকি সারসহ বাল্কহেডটি ছেড়ে দেওয়া হয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বাসিন্দার ভাষ্য, নামিয়ে রাখা সার এখনো চর নিজাম এলাকায় রয়েছে।

এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে স্থানীয় যুবদল ও ১৯ নম্বর ঢালচর ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের কয়েকজন নেতা-কর্মীকে স্পিডবোটে ঘটনাস্থলে যেতে দেখা যায়। ভিডিওতে একজনকে বলতে শোনা যায়, “নয়ন ভাইয়ের এলাকায় কোনো অবৈধ মাল চলবে না।” আরেকজন বলেন, “পূর্ব ঢালচর থেকে খবর পেয়ে আমরা একটি বোট আটক করেছি। আরও দুটি বোট মাল নিয়ে চলে গেছে।” ভিডিওতে তারা ঘটনার তদন্তেরও দাবি জানান।

স্থানীয়দের দাবি, একটি ফোনালাপের অডিওতেও সার ভাগাভাগি নিয়ে বিরোধের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। ওই অডিওতে বাল্কহেড ও কাঠের নৌকার মধ্যে সার খালাসের সময় একটি পক্ষ বিপুল পরিমাণ সার রেখে দেওয়ার কথা উল্লেখ রয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে। পরে রাজনৈতিক কর্মীরা নৌযান দুটি পুলিশ ক্যাম্পে নেওয়ার চেষ্টা করলে আরেকটি পক্ষ বাধা দেয় বলেও দাবি করা হয়। তবে অডিওটির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

অভিযোগের বিষয়ে কামরুল ইসলাম খলিফা বলেন, পাঁচ লাখ টাকা ও ২০০ বস্তা সার রেখে দেওয়ার অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। তিনি দাবি করেন, ঢালচর ইউনিয়নের কয়েকজন ব্যক্তি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এ তথ্য ছড়াচ্ছেন।

তার ভাষ্য, “রাতের বেলা একটি ছোট স্টিল বডির বোটে কিছু সার তোলা হচ্ছিল। জেলেরা ধাওয়া দিলে মূল চালান নিয়ে বোটটি চলে যায়। পরে জেলেরা ওই বোট থেকে মাত্র ১২ থেকে ১৫ বস্তা সার উদ্ধার করে। বড় কার্গো থেকে সার নামানোর খবর শুনে আমরাও স্পিডবোট নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়েছিলাম। সেখানে গিয়ে কিছু পাইনি। উদ্ধার হওয়া সামান্য কিছু সার নিয়েই এখন বিরোধ সৃষ্টি হয়েছে।”

ভোলা জেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. খায়রুল ইসলাম মল্লিক বলেন, সারের উৎস ও গন্তব্য এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

তিনি বলেন, “ইদানীং এভাবে সার পাচারের ঘটনা সাধারণত ঘটে না। অনেক সময় নদীর এক পাড় থেকে অন্য পাড়ে সার নেওয়ার সময় এক পক্ষ আরেক পক্ষকে পাচারের অভিযোগ দেয়। স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তাদের মাধ্যমে পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”

দক্ষিণ আইচা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আহসান কবির বলেন, “সাংবাদিকদের মাধ্যমে বিষয়টি জানার পরপরই কোস্টগার্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। তারা ঘটনাস্থলে সদস্য পাঠিয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত সার জব্দ বা পাচারের বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা মিললে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা চলছে। তবে সারের প্রকৃত উৎস, গন্তব্য, নৌযানে থাকা সারের পরিমাণ এবং স্থানীয়দের অভিযোগের সত্যতা সম্পর্কে এখনো প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো চূড়ান্ত বক্তব্য দেওয়া হয়নি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তদন্ত শেষ হওয়ার পরই বিষয়টি স্পষ্ট হবে।

ফেসবুকে লাইক দিন

আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ।