ভোলা-বরিশাল সেতু ও ৬ লেন মহাসড়কসহ ৪ দাবিতে উত্তাল দক্ষিণাঞ্চল: সংসদে ক্ষোভের ঝড়
দরজা আটকে বসতঘরে আগুন, পরে গোয়ালঘর থেকে দুটি গরু চুরির অভিযোগ

ভোলা সদর উপজেলায় গভীর রাতে একটি বসতঘরে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় দুর্বৃত্তরা ঘরের প্রধান দরজা বাইরে থেকে ছিকল দিয়ে আটকে রাখে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা। পরে প্রতিবেশীদের সহায়তায় পরিবারের সদস্যরা নিরাপদে বের হয়ে আসেন। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার পর গোয়ালঘর থেকে দুটি গরু চুরি হওয়ার অভিযোগও ওঠে।
সোমবার (২৯ জুন) রাত ১২টার দিকে সদর উপজেলার বাপ্তা ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের চৌকিদার বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী মো. ফারুক চৌকিদার একই এলাকার বাসিন্দা রফিজল চৌকিদারের ছেলে।
ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় সূত্র জানায়, রাত ১২টার দিকে দুর্বৃত্তরা ফারুক চৌকিদারের বসতঘরের সঙ্গে থাকা বারান্দায় আগুন ধরিয়ে দেয়। একই সময়ে প্রধান ঘরের দরজায় বাইরে থেকে ছিকল লাগিয়ে দেওয়া হয়, যাতে ঘরের ভেতরে থাকা সদস্যরা বের হতে না পারেন।
ঘরের ভেতরে ধোঁয়া ও আগুনের মধ্যে আটকা পড়ে ফারুক চৌকিদার চিৎকার শুরু করলে পাশের ঘরের বাসিন্দা সালমা ছুটে এসে দরজার ছিকল খুলে দেন। পরে ফারুক চৌকিদার ও স্থানীয় লোকজনের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।
আগুন নেভানোর পর ফারুক চৌকিদার গোয়ালঘরে গিয়ে দেখতে পান, দুটি গরুর রশি কেটে গরু নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা। তার অভিযোগ, অগ্নিসংযোগের আড়ালে পরিকল্পিতভাবে গরু চুরির ঘটনা ঘটানো হয়েছে। স্থানীয় কয়েকজনও ঘটনার সময় আশপাশে কয়েকজন ব্যক্তির দৌড়ে পালিয়ে যাওয়ার শব্দ শুনেছেন বলে দাবি করেন। তবে ঘটনার প্রকৃত কারণ তদন্তের পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে।
ফারুক চৌকিদার বলেন, “আমাদের ঘরের দরজা বাইরে থেকে আটকে দিয়ে বারান্দায় আগুন লাগানো হয়। প্রতিবেশীরা দ্রুত এগিয়ে না এলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারত। আগুন নেভানোর পর দেখি গোয়ালঘর থেকে দুটি গরু নেই। আমি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি।”
খবর পেয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য ও বর্তমান প্যানেল চেয়ারম্যান মাকসুদ রহমান (নিরব) ঘটনাস্থলে যান। তিনি বলেন, “ঘটনার খবর পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলে যাই। স্থানীয়দের সহযোগিতায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।”
এদিকে খবর পেয়ে ভোলা সদর থানার সাব-ইন্সপেক্টর সমিরন সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তবে এ বিষয়ে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেননি।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার কারণ ও গরু চুরির অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
