সর্বশেষঃ

চরফ্যাশনে ফিলিপাইন ব্ল্যাক আখ চাষে সাফল্য জুয়েলের , ১০ লাখ টাকা আয়ের আশা

দীর্ঘদিন ওমানে প্রবাসজীবন কাটিয়ে দেশে ফিরে অনেকেই কর্মসংস্থানের অনিশ্চয়তায় ভোগেন। তবে ভোলার চরফ্যাশনের মো. জুয়েল ভিন্ন পথ বেছে নিয়েছেন। বিদেশফেরত এই উদ্যোক্তা বাণিজ্যিকভাবে ফিলিপাইন ব্ল্যাক জাতের আখ চাষ করে এলাকায় নতুন সম্ভাবনার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।
চরফ্যাশন উপজেলার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সহযোগিতায় বাংলাদেশের চরাঞ্চলে আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি সম্প্রসারণ প্রকল্পের আওতায় প্রথমবারের মতো এ জাতের আখের প্রদর্শনী প্লট স্থাপন করা হয়। গাঢ় কালো রঙ, বেশি মিষ্টতা এবং নরম গঠনের কারণে ফিলিপাইন ব্ল্যাক আখ ইতোমধ্যে স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি করেছে।
প্রায় আট মাস আগে চরফ্যাশন পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ড এলাকায় ৭০ শতাংশ জমিতে এই আখের চাষ শুরু করেন জুয়েল। এর মধ্যে ৩০ শতাংশ জমি ভরাট করে নতুন করে আবাদযোগ্য করে তোলা হয়েছে। জমি প্রস্তুত, চারা রোপণ ও পরিচর্যাসহ এখন পর্যন্ত তাঁর ব্যয় হয়েছে প্রায় আড়াই লাখ টাকা।
জুয়েল জানান, শুরুতে কিছুটা ঝুঁকি থাকলেও কৃষি বিভাগের নিয়মিত পরামর্শ ও মাঠ পর্যায়ে ফলনের অগ্রগতি দেখে তিনি আশাবাদী। তাঁর প্রত্যাশা, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এ মৌসুমে প্রায় ১০ লাখ টাকার বিক্রি হতে পারে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. নাজমুল হুদা বলেন, “ফিলিপাইন ব্ল্যাক আখের ফলন অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক। বর্তমানে গাছের উচ্চতা গড়ে ১০ ফুটের কাছাকাছি। আরও দুই মাসের মধ্যে আখ পরিপক্ব হয়ে বাজারজাতের উপযোগী হবে।”
কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, এ জাতের আখ প্রতি হেক্টরে ৯০ মেট্রিক টনের বেশি ফলন দিতে সক্ষম। তুলনায় প্রচলিত জাতের আখে গড়ে ৫০ থেকে ৬০ মেট্রিক টন ফলন পাওয়া যায়। এছাড়া একবার রোপণ করলে টানা তিন বছর পর্যন্ত ফলন পাওয়া সম্ভব হওয়ায় উৎপাদন খরচও তুলনামূলক কম।
জুয়েলের খামার ঘুরে দেখে অনুপ্রাণিত হচ্ছেন আশপাশের কৃষকরাও। স্থানীয় কৃষক আব্দুর রব বলেন, “ফলন দেখে আমিও জমি নিয়েছি। আগামী মৌসুমে আখ চাষ করব।” একই ধরনের আগ্রহ প্রকাশ করেছেন কৃষক মেহেদী হাসান শান্ত ও মো. সুমন।
সম্প্রতি খামারটি পরিদর্শন করেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. খায়রুল ইসলাম মল্লিক এবং জেলা প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা কৃষিবিদ ড. শামীম আহমেদ। উপপরিচালক বলেন, কৃষি বিভাগের সহায়তা ও আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারে নতুন উদ্যোক্তা তৈরি হচ্ছে, যা চরাঞ্চলের কৃষিকে আরও লাভজনক করে তুলতে পারে।
কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে জেলায় আখ চাষের লক্ষ্যমাত্রা ৫০৮ হেক্টর হলেও এখন পর্যন্ত চাষ হয়েছে ৪৬০ হেক্টর জমিতে।
কৃষি সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, প্রবাস ফেরত জুয়েলের এই উদ্যোগ শুধু একটি সফল কৃষি উদ্যোগই নয়; বরং চরাঞ্চলে উচ্চমূল্যের ফসল চাষের সম্ভাবনা এবং যুবকদের আত্মকর্মসংস্থানের নতুন দিগন্তও উন্মোচন করছে।

ফেসবুকে লাইক দিন

আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ।