ডেঞ্জার জোনে দৌলতখান-আলেকজান্ডার নৌরুটে চলছে ‘রামগতি এক্সপ্রেস’, যাত্রীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ
দক্ষিণাঞ্চলের কৃষিতে নীরব বিপ্লব, ৮৫ শতাংশ শেষ সেচ উন্নয়ন প্রকল্প

ভোলার বানী ডিজিটাল ডেক্স
দক্ষিণাঞ্চলের কৃষিকে আরও উৎপাদনমুখী ও টেকসই করতে বাস্তবায়নাধীন ‘বরিশাল, ভোলা, ঝালকাঠি ও পিরোজপুর জেলা সেচ উন্নয়ন প্রকল্প’-এর ভৌত অগ্রগতি প্রায় ৮৫ শতাংশে পৌঁছেছে। কৃষি মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি) বাস্তবায়নাধীন এই প্রকল্পের মাধ্যমে আধুনিক সেচব্যবস্থা, খাল পুনঃখনন, সৌরচালিত সেচ এবং কৃষি অবকাঠামো উন্নয়নের কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে। চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যেই প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার আশা করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
সম্পূর্ণ সরকারি অর্থায়নে ৩৪৮ কোটি ৯১ লাখ ৩৭ হাজার টাকা ব্যয়ে ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে শুরু হওয়া এই প্রকল্পের আওতায় বরিশাল বিভাগের চার জেলার ২৮টি উপজেলায় কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
প্রকল্পের প্রধান লক্ষ্য হলো অনাবাদি জমিকে চাষাবাদের আওতায় এনে ভূ-উপরিস্থ পানির সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং পরিবেশবান্ধব সেচব্যবস্থা গড়ে তোলা। এর মাধ্যমে প্রকল্প এলাকায় সেচকৃত জমির হার ৩৫ দশমিক ৭৮ শতাংশ থেকে ৩৯ দশমিক ৫২ শতাংশে উন্নীত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে অতিরিক্ত ১৬ হাজার ৫০৪ হেক্টর জমি সেচের আওতায় আসবে এবং প্রতিবছর প্রায় ৬৬ হাজার ১৪ টন অতিরিক্ত ফসল উৎপাদনের সম্ভাবনা তৈরি হবে।
২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যালোচনায় দেখা যায়, ৩৭৫ কিলোমিটার খাল পুনঃখননের লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ৩৫৩ কিলোমিটার কাজ শেষ হয়েছে। এর মধ্যে বরিশালে ১১৫ কিলোমিটার, ঝালকাঠিতে ৬৮ কিলোমিটার, ভোলায় ৭৪ দশমিক ৫ কিলোমিটার এবং পিরোজপুরে ৯৫ দশমিক ৫ কিলোমিটার খাল পুনঃখনন করা হয়েছে।
পানির অপচয় কমাতে ২৫০টি ভূ-গর্ভস্থ সেচনালা নির্মাণের লক্ষ্যমাত্রার মধ্যে ২৪৮টির কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এর মধ্যে ভোলা, ঝালকাঠি ও পিরোজপুরে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা শতভাগ অর্জিত হয়েছে। পাশাপাশি কৃষকদের যাতায়াত ও পানি ব্যবস্থাপনার সুবিধায় ১৫০টি বক্স কালভার্টের বিপরীতে ১২৫টি নির্মাণ করা হয়েছে। এছাড়া ৪০ কিলোমিটার ফসল রক্ষা বাঁধের মধ্যে ২৬ কিলোমিটার নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে।
নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে ২০টি সৌরচালিত সেচব্যবস্থার মধ্যে ১৮টি স্থাপন করা হয়েছে। একই সঙ্গে ৭৫টি সোলার ড্রিপ সেচব্যবস্থার মধ্যে ৬১টি চালু হয়েছে, যা কৃষিতে পানি ব্যবহারের দক্ষতা বাড়াতে ভূমিকা রাখছে।
প্রকল্প পরিচালক সৈয়দ ওয়াহিদ মুরাদ বলেন, এ পর্যন্ত পুনঃখনন করা ৩৫৩ কিলোমিটার খালের ফলে প্রায় ৩০ হাজার হেক্টর জমিতে সেচ ও পানি নিষ্কাশনের সুবিধা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। প্রতিটি সেচ স্কিমে ভূ-গর্ভস্থ সেচনালা ও বিদ্যুতচালিত সেচযন্ত্র স্থাপনের মাধ্যমে প্রায় পাঁচ হাজার হেক্টর জমি আধুনিক সেচব্যবস্থার আওতায় এসেছে। পাশাপাশি সৌরচালিত সেচযন্ত্র ব্যবহারের ফলে কৃষকদের জ্বালানি ব্যয় কমছে এবং পরিবেশবান্ধব কৃষি সম্প্রসারণে সহায়তা মিলছে।
প্রকল্পের আওতায় পুনঃখনন করা খাল, পুকুর ও ফসল রক্ষা বাঁধের পাড়ে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিও বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। একই সঙ্গে কৃষকদের আধুনিক সেচ প্রযুক্তি ব্যবহার, যন্ত্রপাতি পরিচালনা, মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। এতে স্থানীয় পর্যায়ে দক্ষ জনবল তৈরি হওয়ার পাশাপাশি আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগও বাড়ছে।
তবে স্থানীয় কৃষক ও সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রকল্পটির ইতিবাচক প্রভাব বিবেচনায় এর পরিধি আরও বাড়ানো প্রয়োজন। অনুমোদিত উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবে (ডিপিপি) নির্ধারিত কার্যক্রম বাস্তব চাহিদার তুলনায় সীমিত বলে তারা মনে করছেন। তাদের মতে, দক্ষিণাঞ্চলে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, খাল পুনঃখনন, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানিনির্ভর সেচব্যবস্থার এই উদ্যোগকে আরও বিস্তৃত করা গেলে দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, চলমান প্রকল্পের সফল বাস্তবায়নের ধারাবাহিকতায় ভবিষ্যতে একই ধরনের নতুন প্রকল্প গ্রহণ করা হলে দক্ষিণাঞ্চলের কৃষি অবকাঠামো আরও শক্তিশালী হবে এবং টেকসই কৃষি উন্নয়নের ভিত্তি আরও সুসংহত হবে।
