ডেঞ্জার জোনে দৌলতখান-আলেকজান্ডার নৌরুটে চলছে ‘রামগতি এক্সপ্রেস’, যাত্রীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ
ডেঞ্জার জোনে দৌলতখান-আলেকজান্ডার নৌরুটে চলছে ‘রামগতি এক্সপ্রেস’, যাত্রীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ

ভোলার দৌলতখান থেকে লক্ষ্মীপুরের আলেকজান্ডার নৌরুটে সরকারি নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে যাত্রীবাহী নৌযান ‘এমভি রামগতি এক্সপ্রেস’ চলাচলের অভিযোগ উঠেছে। প্রতি বছর ১৫ মার্চ থেকে ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত ‘ডেঞ্জার জোন’ হিসেবে ঘোষিত এই রুটে শত শত যাত্রী নিয়ে নৌযান চলাচল করায় নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দৌলতখান-আলেকজান্ডার নৌরুটটি মেঘনা নদীর অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অংশ হিসেবে পরিচিত। ১৯৯৯ সালে এই রুটে যাত্রীবাহী নৌযান ‘এমভি ফাল্গুনী’ ভয়াবহ দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। ওই দুর্ঘটনায় কয়েকশ যাত্রীর প্রাণহানি ঘটে এবং বহু মানুষ নিখোঁজ হন। এরপর থেকেই বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) প্রতিবছর ১৫ মার্চ থেকে ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত এই নৌপথকে ‘ডেঞ্জার জোন’ ঘোষণা করে যাত্রীবাহী নৌযান চলাচলে নিষেধাজ্ঞা জারি করে আসছে।
তবে অভিযোগ রয়েছে, সেই নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মেসার্স হাজী মোস্তফা নেভিগেশন কোম্পানির মালিকানাধীন ‘এমভি রামগতি এক্সপ্রেস’ নিয়মিত এই রুটে চলাচল করছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নৌযানটি প্রতিদিন সকাল সাড়ে ১০টা এবং বিকেল ৪টায় দৌলতখানের হাকিমুদ্দিন ও বীরশ্রেষ্ঠ মোস্তফা কামাল লঞ্চঘাট থেকে আলেকজান্ডারের উদ্দেশে যাত্রা করে। প্রতিটি ট্রিপে শত শত যাত্রী মেঘনার উত্তাল স্রোত পাড়ি দিচ্ছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ডেঞ্জার জোন হিসেবে ঘোষিত রুটে নিয়মিত যাত্রীবাহী নৌযান চলাচল করলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর নজরদারি বা ব্যবস্থা চোখে পড়ছে না। এতে যাত্রীদের জীবন ঝুঁকির মুখে পড়ছে এবং যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।
আলেকজান্ডারগামী কয়েকজন যাত্রী বলেন, বিকল্প যোগাযোগ ব্যবস্থা সীমিত হওয়ায় বাধ্য হয়েই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এই নৌপথ ব্যবহার করতে হচ্ছে। নিরাপদ বিকল্প ব্যবস্থা থাকলে তারা এভাবে যাতায়াত করতেন না।
এ বিষয়ে ‘এমভি রামগতি এক্সপ্রেস’-এর মালিকপক্ষের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি।
ভোলা নদীবন্দরের সহকারী পরিচালক নির্মল কুমার রায় বলেন, “নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে কেউ যদি দৌলতখান-আলেকজান্ডার ডেঞ্জার জোনে লঞ্চ পরিচালনা করে, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে অবশ্যই আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
স্থানীয়দের দাবি, অতীতের মর্মান্তিক দুর্ঘটনার অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ মৌসুমে এই নৌরুটে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আরও কঠোর হতে হবে। অন্যথায় যাত্রীদের জীবন নিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ এ যাতায়াত ভবিষ্যতে আবারও বড় ধরনের দুর্ঘটনার কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
