সর্বশেষঃ

লালমোহনে পাচারকালে ইউরিয়া সার ও ট্রলার জব্দ

ভোলার লালমোহন উপজেলা থেকে পাচারের উদ্দেশ্যে নেয়া ৩১ বস্তা ইউরিয়া সার ও একটি ট্রলার জব্দ করা হয়েছে। শুক্রবার রাতে উপজেলার লর্ডহাডিঞ্জ ইউনিয়নের মেঘনা নদীর গাইট্টার খাল এলাকা দিয়ে ট্রলারে করে সার পাচারের কথা ইউএনওকে জানান স্থানীয়রা। এরপর ইউএনও তাৎক্ষণিক গ্রাম পুলিশ ও পুলিশকে ঘটনাস্থলে পাঠান। তবে তাদের পৌঁছানোর আগেই পাচারকারীরা খবর পেয়ে ট্রলারের মধ্যে ৩১ বস্তা ইউরিয়া সার রেখে ২টি ট্রাকে করে বাকি সার নিয়ে দ্রুত সরে যান।

স্থানীয় গ্রাম পুলিশ মো. আলাউদ্দিন জানান, শুক্রবার রাতে ইউএনও অফিস থেকে জানানো হয় গাইট্টার খাল এলাকা দিয়ে সার পাচার করা হচ্ছে। খবর পেয়ে দ্রুত এখানে গিয়ে দেখি ট্রলারের ভেতর ৩১ বস্তা সার ও দুইজন পুলিশ বসে আছেন। শনিবার বিকেলে এসিল্যান্ড স্যার এসে সারগুলো জব্দ করে লালমোহন কৃষি অফিসে নিয়ে যান। ট্রলারটি আমাদের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে। কে বা কারা এই সার এনেছে তা জানা যায়নি এবং ট্রলারের নামও নেই, মালিককেও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন এলাকাবাসী জানান, লর্ডহার্ডিঞ্জ ইউনিয়নের যুবদলের নেতা মাসুদ খান ও ইউপি চেয়ারম্যান আবুল কাশেম মিয়ার নেতৃত্বে দীর্ঘদিন ধরে মিয়ানমারে সার পাচার করা হচ্ছে। মাসুদ খান লর্ডহার্ডিঞ্জ ইউনিয়নের একজন সার ব্যবসায়ী। সার ব্যবসায়ী হওয়ার সুবাধে তিনি এবং চেয়ারম্যান মিলে মেঘনা নদী দিয়ে সার পাচার করছেন। তাছাড়া মেঘনা নদী দিয়ে মিয়ানমারে যাওয়া সহজ হওয়ায় এটাকে রুট হিসেবে ব্যবহার করছেন।

তবে ইউনিয়নের দফাদার মো. রাসেল বললেন ভিন্ন কথা, তিনি জানান সারগুলো নোয়াখালীতে নেয়ার জন্য আনা হতে পারে। ট্রলারটি দেখে মনে হচ্ছে নোয়াখালীর ট্রলার। এ ব্যাপারে জানতে লর্ডহার্ডিঞ্জ ইউনিয়নের যুবদলের নেতা ও সার ব্যবসায়ী মাসুদ খানের মুঠোফোনে কল দিয়ে তিনি জানান, আমি গাড়িতে রয়েছি। গাড়ি থেকে নেমে কথা বলবেন বলেই ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। এরপর তিনি আর মোবাইল ফোন রিসিভ করেননি।

লর্ডহার্ডিঞ্জ ইউপি চেয়ারম্যান আবুল কাশেম মিয়া বলেন, সার পাচারের ব্যাপারে আমি সকালে জানতে পেরেছি। আমার সুনাম নষ্ট করার জন্য একটি পক্ষ শত্রুতা করে আমাকে নিয়ে ষড়যন্ত্রে মেতে উঠেছেন। এই পাচারের সঙ্গে এলাকার ও নেয়াখালীর কিছু লোক জড়িত থাকতে পারে। এলাকার কারা জড়িত তাদের নাম জানতে চাইলে তিনি তাদের পরিচয় বলতে রাজি হননি।

এ বিষয়ে লালমোহন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. রেজওয়ানুল হক জানান, শুক্রবার রাতেই ৩১ বস্তা সার ও একটি ট্রলার জব্দ করা হয়েছে। সারগুলো উপজেলা কৃষি অফিসের গুদামে হস্তান্তর করা হয়েছে। ট্রলারটি স্থানীয় গ্রাম পুলিশ সদস্যদের জিম্মায় রাখা হয়েছে। একজন উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা বাদি হয়ে এ ঘটনায় মামলা করবেন।

ফেসবুকে লাইক দিন

আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ।