সর্বশেষঃ

সম্পত্তি বিরোধে চরফ্যাশনে বাবার লাশ দাফনে সন্তানের বাঁধা

চরফ্যাশন প্রতিনিধি ॥
ভোলার চরফ্যাশনে সম্পত্তি-সংক্রান্ত পারিবারিক বিরোধের জেরে মৃত বাবার মরদেহ দাফনকে কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনা, সংঘর্ষ ও নাটকীয় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। পরিবারের সদস্যদের বাঁধার মুখে দুইবার কবর খোঁড়া হলেও দীর্ঘ সময় মরদেহ দাফন করা সম্ভব হয়নি। পরে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, জনপ্রতিনিধি ও এলাকাবাসীর মধ্যস্থতায় সংক্ষিপ্ত জানাজা শেষে দাফন সম্পন্ন করা হয়। ঘটনাটি ঘটেছে ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার শশীভূষণ থানাধীন রসুলপুর ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের জলিল পণ্ডিতের বাড়িতে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মৃত জলিল পণ্ডিত জীবদ্দশায় চারটি বিয়ে করেছিলেন। বর্তমানে তার দুই স্ত্রী ও সাত সন্তান রয়েছেন। শুক্রবার দিবাগত রাতে জলিল পণ্ডিত মারা গেলে স্বজনরা পারিবারিক কবরস্থানে তার দাফনের প্রস্তুতি নেন। এ সময় সম্পত্তি নিয়ে চলমান বিরোধের জেরে পরিবারের কয়েকজন সদস্য আপত্তি জানান। মৃত্যুর আগে জলিল পণ্ডিত তার সম্পত্তির একটি বড় অংশ ছোট স্ত্রীর মেয়ে খাদিজা আক্তার স্মৃতির নামে দলিল করে দেন। এ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে পরিবারের মধ্যে বিরোধ চলছিল। সেই বিরোধের জের ধরেই খাদিজা আক্তার স্মৃতিসহ পরিবারের কয়েকজন সদস্য মরদেহ দাফনে বাধা দেন।
আরও জানা যায়, প্রথমে পারিবারিক কবরস্থানে কবর খোঁড়া হলেও সেখানে দাফন করতে দেওয়া হয়নি। পরিস্থিতি জটিল হয়ে পড়লে পরিবারের অন্য সদস্যরা বাড়ির উঠানে দ্বিতীয়বার কবর খোঁড়েন। কিন্তু সেখানেও আপত্তি জানানো হয়। একপর্যায়ে মরদেহ বাড়ির উঠানে রেখে উভয় পক্ষের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক, ধাক্কাধাক্কি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে শশীভূষণ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। তবে পুলিশের উপস্থিতিতেও কয়েক দফা উত্তেজনা ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, গণ্যমান্য ব্যক্তি ও এলাকাবাসীর উদ্যোগে উভয় পক্ষকে শান্ত করা হয়। দীর্ঘ আলোচনার পর স্থানীয়দের মধ্যস্থতায় বিরোধের অবসান ঘটে। পরে বাড়ির উঠানে সংক্ষিপ্ত জানাজা শেষে জলিল পণ্ডিতের মরদেহ দাফন করা হয়। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। সম্পত্তি বিরোধের কারণে একজন মৃত ব্যক্তির দাফন বিলম্বিত হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা দেখা দিয়েছে।
স্থানীয়রা বলেন, জীবদ্দশায় সম্পত্তি নিয়ে যে বিরোধের সূচনা হয়েছিল, মৃত্যুর পরও তার অবসান হয়নি। বাবার মরদেহ দাফনকে কেন্দ্র করে সন্তানদের সংঘর্ষে হতবাক রসুলপুরবাসী। এ বিষয়ে মৃত জলিল পণ্ডিতের মেয়ে খাদিজা আক্তার স্মৃতি বলেন, পারিবারিক ও সম্পত্তি-সংক্রান্ত কিছু বিষয়ে মতবিরোধ ছিল। এ কারণে দাফন নিয়ে জটিল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। বিষয়টির সমাধান হওয়ার পর বাবার মরদেহ দাফন করা হয়েছে।
শশীভূষণ থানার (ওসি) ফিরোজ আহাম্মদ বলেন, মরদেহ দাফনকে কেন্দ্র করে পারিবারিক সদস্যদের মধ্যে বিরোধ ও উত্তেজনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পরে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, গণ্যমান্য ব্যক্তি ও এলাকাবাসীর সহযোগিতায় পরিস্থিতি শান্ত করা হয়। উভয় পক্ষের সঙ্গে আলোচনা শেষে মরদেহ দাফন সম্পন্ন হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ফেসবুকে লাইক দিন

আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ।