ভোলার ছেলে মেডিকেল রিপ্রেজেন্টেটিভ থেকে ‘ডক্টর ইউসুফ ইফতি’

মাঠপর্যায়ের কঠিন বাস্তবতাকে জয় করে উচ্চশিক্ষার সর্বোচ্চ শিখরে পৌঁছানোর এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন বাংলাদেশের প্রখ্যাত সেলস লিডারশিপ ট্রেইনার মোহাম্মদ ইউসুফ ইফতি (ইউসুফ ইফতি)। শুক্রবার (১৯ জুন) মালয়েশিয়ার খ্যাতনামা ‘পুত্রা বিজনেস স্কুল’ (Putra Business School)-এ অত্যন্ত সফলতার সাথে তার পিএইচডি ভাইবা (Defense) সম্পন্ন হয়েছে।

দীর্ঘ সাড়ে পাঁচ বছরের কঠোর গবেষণা ও সাধনার পর ভাইবা বোর্ডে তার চমৎকার উপস্থাপনা ও ডিফেন্সের পর পরীক্ষক এবং উপস্থিত আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন শিক্ষাবিদগণ তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘ডক্টর ইউসুফ ইফতি’ হিসেবে ভূষিত করেন।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানায়, ড. ইউসুফ ইফতির গবেষণাটি অত্যন্ত উচ্চমানের হওয়ায় ভাইবা বোর্ড সামান্য কিছু পরিমার্জন বা ‘মাইনর কারেকশন’ (Minor Correction)-সহ তার ডক্টরেট ডিগ্রি দেওয়ার জন্য অনুমোদন করেছে। চূড়ান্ত মূল্যায়নের এই ইতিবাচক ফলাফলের পর, আগামী অল্প কিছুদিনের মধ্যে এই মাইনর কারেকশন জমা দিলে আগামী ৩ মাসের মধ্যেই তিনি তার আনুষ্ঠানিক পিএইচডি সার্টিফিকেট হাতে পাবেন।

২০২০ সালের মার্চ মাসে পুত্রা বিজনেস স্কুলের ম্যানেজমেন্ট বিভাগে ডক্টরাল স্কলার হিসেবে ড. ইউসুফ ইফতির এই যাত্রা শুরু হয়েছিল। তিনি বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি ওষুধ শিল্পের মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনার ওপর একটি দীর্ঘমেয়াদী ও যুগান্তকারী গবেষণা পরিচালনা করেন। তার গবেষণার মূল প্রতিপাদ্য ছিল:

> “Emotional Intelligence, Transformational Leadership, Training & Development, Employee Engagement and Turnover Intention among Pharmaceuticals Medical Representatives of Bangladeshi Firms.”

বাংলাদেশের করপোরেট ও ম্যানুফ্যাকচারিং সেক্টরে কর্মীদের মানসিক বুদ্ধিমত্তা (Emotional Intelligence) এবং রূপান্তরমূলক নেতৃত্ব (Transformational Leadership) কীভাবে কর্মী ধরে রাখতে এবং প্রতিষ্ঠানের উৎপাদনশীলতা বাড়াতে ভূমিকা রাখে—তা এই গবেষণায় বৈজ্ঞানিক উপায়ে উঠে এসেছে। দেশের বিজনেস ও করপোরেট সেক্টরে দক্ষ মানবসম্পদ ও লিডারশিপ তৈরিতে তার এই একাডেমিক আউটপুট একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ গাইডলাইন এবং পলিসি মেকিং টুল হিসেবে কাজ করবে।

ড. ইউসুফ ইফতি আজ বাংলাদেশের করপোরেট ও সেলস ট্রেনিং সেক্টরে একটি প্রতিষ্ঠিত ও নির্ভরযোগ্য নাম। তবে তার এই সাফল্যের পেছনের গল্পটি যেকোনো তরুণ ক্যারিয়ার প্রত্যাশীর জন্য পরম অনুপ্রেরণার।

জন্ম সূত্রে দ্বীপ জেলা ভোলা সদর উপজেলার চরসেমাইয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা হলেও কর্মজীবনের শুরুতে তিনি ‘অপসোনিন ফার্মা’ (Opsonin Pharma)-তে একজন সাধারণ মেডিকেল রিপ্রেজেন্টেটিভ হিসেবে যোগদান করেছিলেন। মাঠপর্যায়ে নিজের মেধা ও নেতৃত্বের সুনিপুণ স্বাক্ষর রেখে দীর্ঘ ১৫ বছর তিনি দেশের ফার্মাসিউটিক্যালস সেলস সেক্টরের বিভিন্ন পদে সুনামের সাথে দায়িত্ব পালন করেন।

মাঠপর্যায়ের এই দীর্ঘ বাস্তব অভিজ্ঞতাকে দেশের সামগ্রিক করপোরেট সেক্টরে ছড়িয়ে দিতে ৯ বছর আগে তিনি চাকরি জীবন চুকিয়ে পূর্ণাঙ্গভাবে যুক্ত হন পেশাদার প্রশিক্ষণ ও কনসাল্টেন্সিতে। বর্তমানে তিনি আন্তর্জাতিক মানের করপোরেট প্রশিক্ষণ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান ‘ফিউচার আইকন’ (Future Icon)-এর স্বত্বাধিকারী এবং প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও)। ঢাকার মহাখালীতে অবস্থিত এই প্রতিষ্ঠানটি দেশের শীর্ষস্থানীয় করপোরেট হাউসগুলোর সেলস ও লিডারশিপ টিম গঠনে কাজ করে যাচ্ছে। একজন সাধারণ রিপ্রেজেন্টেটিভ থেকে শুরু করে আজ আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জনের এই মহাকাব্যিক যাত্রা বাংলাদেশের যুবসমাজের ক্যারিয়ার ভাবনায় এক নতুন মাত্রা যোগ করবে।

ব্যক্তিগত জীবনে অত্যন্ত বিনয়ী ও দূরদর্শী এই শিক্ষানুরাগী ব্যক্তিত্বের জন্ম ভোলা জেলায়। তিনি ভোলা সদরের চরসামাইয়া ইউনিয়নের চরসিফলি গ্রামের বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব জনাব শাহজাহান হাওলাদারের সুযোগ্য সন্তান। বর্তমানে ড. ইউসুফ ইফতি সপরিবারে রাজধানী ঢাকায় স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন। বৈবাহিক জীবনে তিনি দুই সন্তানের জনক।

তার এই যুগান্তকারী একাডেমিক অর্জনে দেশের করপোরেট ট্রেইনারদের সংগঠন, বিভিন্ন শীর্ষস্থানীয় শিল্প গ্রুপ এবং তার অসংখ্য শুভাকাঙ্ক্ষী আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়েছেন। করপোরেট বিশ্লেষকদের মতে, ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জনের পর তার এই আন্তর্জাতিক তাত্ত্বিক জ্ঞান এবং মাঠপর্যায়ের দীর্ঘ ২৪ বছরের বাস্তব অভিজ্ঞতার মেলবন্ধন বাংলাদেশের করপোরেট ও বিজনেস সেক্টরকে বিশ্বমানে উন্নীত করতে অনন্য ভূমিকা রাখবে।

ফেসবুকে লাইক দিন

আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ।