সর্বশেষঃ

চাকরি খুঁজতে এসে চাকরি পেয়েই ফিরলেন শতাধিক তরুণ-তরুণী

যুবকদের কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি এবং দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার লক্ষ্যে ভোলায় দিনব্যাপী চাকরি মেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মেলায় অংশ নেওয়া বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের তাৎক্ষণিক নিয়োগ কার্যক্রমের মাধ্যমে ১০৩ জন চাকরিপ্রত্যাশীকে প্রাথমিকভাবে চাকরির জন্য নির্বাচিত করা হয়েছে।
শনিবার (২০ জুন) ভোলা সদর উপজেলার চরনোয়াবাদ পুলিশ লাইনস মোড় এলাকায় গ্রামীণ জন উন্নয়ন সংস্থার (জিজেইউএস) প্রধান কার্যালয় প্রাঙ্গণে এ চাকরি মেলার আয়োজন করা হয়। ‘ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের মানবসম্পদ সক্ষমতা বৃদ্ধি’ প্রতিপাদ্যে পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ)-এর সহযোগী সংস্থা জিজেইউএসের উদ্যোগে রিকভারি অ্যান্ড অ্যাডভান্সমেন্ট অব ইনফরমাল সেক্টর এমপ্লয়মেন্ট (রেইজ) প্রকল্পের আওতায় মেলাটি অনুষ্ঠিত হয়।
সকাল ১১টায় মেলার উদ্বোধন করেন ভোলা জেলা প্রশাসক ডা. শামীম আহম্মেদ। পরে তিনি বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন করেন এবং অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।
মেলায় মোট ১৭টি প্রতিষ্ঠান ও ট্রেড অংশগ্রহণ করে। অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ছিল কাজী ফার্ম, সুজুকি, টিভিএস, জিজেইউএস, হীড বাংলাদেশ, জেইউটিটিআই, ওয়ালটন, পল্লীসেবা, ইয়ামাহা, বেস্ট ইলেকট্রনিক্স, প্রতিবন্ধী কমিউনিটি সেন্টারসহ বিভিন্ন উদ্যোক্তা প্রতিষ্ঠান।
আয়োজক সূত্রে জানা যায়, অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সম্মিলিত জনবল চাহিদা ছিল ৮৬ জন। এ উপলক্ষে মোট ১ হাজার ৬৬৩ জন চাকরিপ্রত্যাশী জীবনবৃত্তান্ত (সিভি) জমা দেন। পরে যাচাই-বাছাই ও সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে তাৎক্ষণিকভাবে ১০৩ জনকে প্রাথমিকভাবে চাকরির জন্য নির্বাচিত করা হয়।
সবচেয়ে বেশি নিয়োগের সুযোগ দেয় জিজেইউএস। প্রতিষ্ঠানটির ২০টি পদের বিপরীতে ৪১৮টি সিভি জমা পড়ে এবং ৩০ জনকে প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত করা হয়। এছাড়া হীড বাংলাদেশে ১০ জন, প্লাম্বিং অ্যান্ড পাইপ ফিটিং ট্রেডভিত্তিক উদ্যোক্তা প্রতিষ্ঠানে ৮ জন, মোবাইল ফোন সার্ভিসিং প্রতিষ্ঠানে ৭ জন, অ্যালুমিনিয়াম ফ্যাব্রিকেশন উদ্যোক্তা প্রতিষ্ঠানে ৬ জন এবং পল্লীসেবায় ৫ জন চাকরিপ্রত্যাশী চাকরির সুযোগ পান। অন্যান্য প্রতিষ্ঠানেও বিভিন্ন সংখ্যক প্রার্থী তাৎক্ষণিক কর্মসংস্থানের সুযোগ লাভ করেন। তবে কাজী ফার্ম এখনও তাদের নিয়োগসংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ করেনি।
মেলায় অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিনিধিরা চাকরিপ্রত্যাশীদের চাকরির সুযোগ, প্রয়োজনীয় যোগ্যতা এবং নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পর্কে তথ্য প্রদান করেন। এতে একদিকে প্রতিষ্ঠানগুলো প্রয়োজনীয় জনবল খুঁজে পাওয়ার সুযোগ পেয়েছে, অন্যদিকে চাকরিপ্রত্যাশীরা সরাসরি নিয়োগদাতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে সাক্ষাৎকারে অংশ নেওয়ার সুযোগ পেয়েছেন।
রেইজ প্রকল্পের উপ-প্রকল্প সমন্বয়কারী ও পিকেএসএফের ব্যবস্থাপক গোলাম জিলানী জানান , এ ধরনের উদ্যোগ যুব বেকারত্ব কমাতে এবং দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। রেইজ প্রকল্পের মাধ্যমে ভবিষ্যতেও যুবকদের কর্মসংস্থান ও আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণে বিভিন্ন কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন রেইজ প্রকল্পের উপ-প্রকল্প সমন্বয়কারী ও পিকেএসএফের ব্যবস্থাপক গোলাম জিলানী, গ্রামীণ জন উন্নয়ন সংস্থার পরিচালক (প্রোগ্রাম ও লিগ্যাল) অ্যাডভোকেট বীথি ইসলাম, পরিচালক (মাইক্রোফাইন্যান্স) মো. মোস্তফা কামাল, পরিচালক (মনিটরিং ও ইন্টারনাল ট্রেনিং) হুমায়ুন কবীর এবং অতিরিক্ত পরিচালক (মাইক্রোফাইন্যান্স) ও রেইজ প্রকল্পের সমন্বয়কারী মো. জাহিদুর রহমানসহ জিজেইউএসের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা।
আয়োজক সূত্র জানায়, পিকেএসএফের রেইজ প্রকল্পের মাধ্যমে দেশের প্রায় ৭৩ হাজার বেকার যুবক-যুবতীকে ‘গুরু-শিষ্য’ মডেলে বিভিন্ন ট্রেডভিত্তিক কারিগরি ও জীবনদক্ষতা প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। প্রকল্পের অংশ হিসেবে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পর্যায়ক্রমে এ ধরনের চাকরি মেলার আয়োজন করা হবে।

ফেসবুকে লাইক দিন

আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ।