জেলেদের চাল বিতরণকে কেন্দ্র করে তজুমদ্দিনে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ৫

স্টাফ রিপোর্টার :
ভোলার তজুমদ্দিন উপজেলায় সাগরগামী জেলেদের জন্য বরাদ্দকৃত সরকারি চাল বিতরণকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ভোলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলা পরিষদ চত্বরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ের সামনে এ ঘটনা ঘটে।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার বড় মলংচড়া ইউনিয়নে সাগরগামী জেলেদের জন্য বরাদ্দকৃত চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ এনে সাবেক ছাত্রদল নেতা জসিম পাটোয়ারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দেন। অভিযোগে তিনি প্রকৃত জেলেদের যাচাই-বাছাই করে তালিকাভুক্তির মাধ্যমে চাল বিতরণের দাবি জানান। একই সময়ে বড় মলংচড়া ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান মো. ইব্রাহীম জেলেদের চাল বিতরণের অনুমতি-সংক্রান্ত বিষয়ে ইউএনওর সঙ্গে দেখা করতে উপজেলা পরিষদে যান। এ সময় চাল বিতরণ ও জেলেদের তালিকা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। পরে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, একপর্যায়ে উভয় পক্ষের নেতাকর্মীরা হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েন। এতে অন্তত পাঁচজন আহত হন। আহতদের প্রথমে তজুমদ্দিন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে কয়েকজনকে ভোলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।সংঘর্ষের পর জসিম পাটোয়ারীর পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, জেলেদের চাল বিতরণে অনিয়মের প্রতিবাদ করায় তার ওপর হামলা চালানো হয়েছে। হামলায় তার মাথায় গুরুতর আঘাত লাগে।
লিখিত অভিযোগে আরও দাবি করা হয়েছে, বড় মলংচড়া ইউনিয়নের ১ থেকে ৯ নম্বর ওয়ার্ডে দুই ধাপে বিতরণ করা জেলেদের সরকারি চাল থেকে প্রায় ১০৪ জন কার্ডধারী জেলে বঞ্চিত হয়েছেন। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ দেওয়া হলেও তারা এখনো চাল পাননি বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা।
তবে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন প্যানেল চেয়ারম্যান মো. ইব্রাহীম। তিনি বলেন, “জসিম পাটোয়ারী ও সেলিম মেম্বারের নেতৃত্বে আমার ওপর হামলা করা হয়েছে। এতে আমার হাত ভেঙে গেছে।
অন্যদিকে বড় মলংচড়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক তন্ময় সিকদার তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ নাকচ করে বলেন, “ঘটনার সময় আমি তজুমদ্দিনের বাইরে ছিলাম। জসিম পাটোয়ারী ও তার বাবা আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করেছেন। চাল বিতরণের সঙ্গে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। তবে জেলেরা যেন তাদের অধিকার থেকে বঞ্চিত না হন, সে বিষয়ে আমরা প্রশাসনকে অবহিত করেছি।
তজুমদ্দিন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ বনি আমীন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “জেলেদের চাল বিতরণসংক্রান্ত বিষয় নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, ঘটনার পর এলাকায় কিছুটা উত্তেজনা সৃষ্টি হলেও পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এ ঘটনায় উভয় পক্ষ থানায় অভিযোগ দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
