জীবনের ডায়েরী থেকে গল্প সমগ্র : পর্ব-৬৯

॥ ড. টি. এন. রশীদ ॥
(গত পর্বের পর) : নয়ন রহমানের সংবর্ধনায় বক্তব্য (বনলতা সাহিত্য পরিষদ কর্তৃক আয়োজিত) : বনলতা সাহিত্য পরিষদের লেখিকাবৃন্দ ও উপস্থিত সুধী মন্ডলী। আপনারা এই বনলতায় নয়ন রহমানের সংবর্ধনা সভায় আমাকে কিছু কথা বলার সুযোগ দিয়ে আমাকে গৌরব দান করেছেন। সেজন্য আমি আপনাদের অসংখ্য ধন্যবাদ জানাই ও অভিনন্দন জানাই। নয়ন রহমানের সংবর্ধনায় তাকে যে কোনটা রেখে কোনটা বলে অভিভাষণ জ্ঞাপন করব, সে ভাষাও আমি হারিয়ে ফেলেছি। সে এত মহত্বের অধিকারী যে, তার স্তর আকাশ ছোঁয়া। নয়ন রহমান একজন সু-সাহিত্যিক ও সু-লেখিকা। তাঁর লেখার ক্ষমতা অদ্ভূত। তাঁর রচনার সম্ভার অলৌকিক প্রতিভার দাবী রাখে।
আজ পঁচিশ বছর তাঁর সাথে আমার পরিচয়। পরিচয় বললে ভুল হবে- তাঁর সাথে আমার আত্মার আত্মীয়। তাঁর কয়েক খানা বই আমি পড়ে দেখেছি। একবার পড়লে বার বার পড়তে ইচ্ছে করে। এমন লেখনি শক্তি যে, মানুষের মনকে বইর মধ্যে ধরে রাখতে পারে। বিশ্ব রহমান তাকে দিয়েছেন অপরিসীম লেখার দক্ষতা, প্রতিভার প্রতিভা।
আরো দিয়েছেন অপরিসীম রূপ লাবন্যের অধিকার। এই পঁচিশটা বছর তাকে আমি বসন্তের আগমনী বন কুসুমের মত লালিত্য ও সুষমা ম-িত ভরা যৌবনা দেখেছি। একটু ম্লান হয়নি তার দেহ বল্লরী। আমি আশির্বাদ করি তাঁর লেখনির অপরিসীম প্রতিভা ও অনুরাগের প্রতি। সে বাংলাদেশের বুকে শ্রেষ্ঠ লেখিকা হিসেবে বিরাজ লাভ করুন।
এই বনলতা সাহিত্য পরিষদের নামটা কে রেখেছেন তা আমার জানার খুব কৌতূহল হচ্ছে। নিশ্চয়ই সে একজন সাহিত্য প্রেমী মন মাধুর্যের লালিত্য সুষমায় মন্ডিত। আমি বনলতা নাম শুনে প্রেমে, ভাল বাসায় আবেগে, আবেশে বনলতা সেনের সাথে তাঁর কর্মের ভূয়সী প্রশংসা করছি। আমরা পৃথিবীতে ক্ষণস্থায়ী আছি, থাকব। কিন্তু আমাদের সৃজনশীলকর্ম চিরদিন, অনন্তকাল ধরে আমাদের পক্ষে কথা বলে যাবে। তাই আমি বলব, আমরা এমন কিছু সৃজনশীল কর্মের উদ্ভব ঘটাব যা সর্ব যুগে ও সর্বকালে জাতির উপকারে আসবে। ঠিক নয়ন রহমানের সাহিত্যকর্ম পরবর্তী প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণা যোগাবে। সর্বশেষ আমি সকলকে সাহিত্য চর্চা আরও বেগবান করার আহ্বান জানিয়ে আমার বক্তব্য শেষ করছি। ধন্যবাদ সবাইকে।
(চলবে————–)।
