সর্বশেষঃ

চরফ্যাশনে জাহাজ নিয়ে মামলা, প্রতিবাদে ফুঁসে উঠেছে এলাকাবাসী

‎‎চরফ্যাশন প্রতিনিধি ॥
ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার দক্ষিণ আইচা থানা এলাকার বিচ্ছিন্ন দ্বীপ ঢালচর ইউনিয়নের চরনিজাম এলাকায় মেঘনায় ভেসে আসা একটি বিদেশি জাহাজকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় স্থানীয় কয়েকজনের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, মোবাইল ছিনতাই ও মারধরের অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে। তবে এলাকাবাসীর দাবি, মামলাটি মিথ্যা ও হয়রানিমূলক। মামলার প্রতিবাদ ও প্রত্যাহারের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন স্থানীয়রা। বুধবার (১১ মার্চ) দুপুরে ঢালচর ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের চরনিজাম এলাকায় মেঘনা নদীর তীরে শতাধিক এলাকাবাসী ঘন্টাব্যাপী মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন।
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন- মামলার আসামি স্থানীয় বাসিন্দা মাকসুদ সরকার, নুরুল্লাহ ও কালাম চৌধুরী। তারা বলেন, ২০২২ সালের ১৫ জুলাই সিঙ্গাপুর থেকে আসা আলকুবতান নামের একটি বিদেশি জাহাজ চরনিজাম এলাকায় মেঘনায় ভেসে আসে। এরপর থেকে বিভিন্ন চক্র জাহাজটির মালিকানা দাবি করে এবং এর বিভিন্ন অংশ ও মূল্যবান যন্ত্রপাতি সরিয়ে নেয়।
তারা আরো জানান, সম্প্রতি ঢাকার বাসিন্দা কাজী এমদাদুল হক নামের এক ব্যক্তি আদালতের মাধ্যমে জাহাজটি নিলামে পেয়েছেন দাবি করে সেটি মেরামত করে নিয়ে যাওয়ার উদ্যোগ নেন। এ সময় অপর একটি পক্ষের সঙ্গে সংঘর্ষ ও মারামারির ঘটনা ঘটে। বিষয়টি সন্দেহজনক মনে করে স্থানীয়রা জাহাজটি কেটে নেওয়া ও মেরামতের কাজে বাঁধা দেন। এর জেরে গত ২৭ ফেব্রুয়ারি কাজী এমদাদুল হক বাদী হয়ে দক্ষিণ আইচা থানায় স্থানীয় কয়েকজনের বিরুদ্ধে ৫০ লাখ টাকা চাঁদাবাজি, মোবাইল ছিনতাই ও মারধরের অভিযোগে মামলা দায়ের করেন। মামলার পর থেকে অভিযুক্তদের অনেকেই গ্রামছাড়া হয়ে আছেন।
মানববন্ধনে তারা আরো অভিযোগ করেন, জাহাজটি মেরামত করে নিয়ে যাওয়ার জন্য একটি প্রতারক চক্র থানা-পুলিশকে প্রভাবিত করে স্থানীয়দের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করেছে। যদি কেউ আইনগতভাবে জাহাজটির বৈধ মালিকানা প্রমাণ করতে পারেন, তাহলে আমাদের কোনো আপত্তি নেই। কিন্তু চার বছর ধরে জাহাজটি রক্ষা করার পরও আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছে। আমরা হয়রানি মূলক মামলা প্রত্যাহার চাই।
এদিকে জাহাজ উদ্ধার কাজে নিয়োজিত মেরিন স্যালভেজ বিবি জাফরিন-এর ডুবুরি সরদার শাহ আলম জানান, কাজী এমদাদুল হক তাকে ঢাকার মুন্সিগঞ্জ থেকে এনে জাহাজটি মেরামতের নির্দেশ দিয়েছেন। আমরা পুলিশি সহযোগিতায় কাজ করছি। আমাদের উদ্দেশ্য জাহাজটি ভাসিয়ে রাখা।


অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে কাজী এমদাদুল হক বলেন, তিনি একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করি এবং হাইকোর্টের মাধ্যমে জাহাজটি নিলামে পেয়েছি। জাহাজটি মেরামতের সময় স্থানীয়রা বাধা দেওয়ায় বাধ্য হয়ে আমি থানায় মামলা করেছি। আদালতে রায়ে অনুযায়ী কাজ করব।
‎এ বিষয়ে দক্ষিণ আইচা থানার (ওসি) আহসান কবির বলেন, জাহাজকে কেন্দ্র করে এলাকায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী জাহাজটির নিরাপত্তায় পুলিশ মোতায়েন রয়েছে এবং আইন ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ফেসবুকে লাইক দিন

আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ।