সর্বশেষঃ

ভোলার বাপ্তায় এক রাতে ৩ বাড়ীতে দুর্ধর্ষ ডাকাতি, স্বর্ণালংকার ও অন্যান্য মালামাল লুট

স্টাফ রিপোর্টার ॥ ভোলার বাপ্তায় এক রাতে ৩ বাড়ীতে দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। গত ২৯ অক্টোবর (বুধবার) রাতে সদর উপজেলার বাপ্তা ইউনিয়নের মধ্য বাপ্তা গ্রামের ২নং ওয়ার্ডে এ ঘটনা ঘটে। ওই তিন বাড়ীতে ডাকাতের দল হামলা চালিয়ে ঘরের লোকজনদেরকে জিম্মী করে অন্তত ৩ ভরি স্বর্ণ এবং চাল-তেল-মসুর ডালসহ নিত্য প্রয়োজনীয় জিসিনপত্র লুট করে নিয়ে গেছে। ওই ৩ বাড়ীতে ডাকাতির ঘটনায় যা লুট করে নিয়ে গেছে তার আনুমানিক বাজার মূল্য সাড়ে ৭ লাখ ৩০ হাজার টাকা। এ ঘটনায় ওই এলাকার বাসিন্দা তোফাজ্জল হোসেনের স্ত্রী সামছুন্নাহার বাদী হয়ে ভোলা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। এক রাতে ৩ বাড়ীতে ডাকাতির ঘটনায় ওই বাড়ীগুলোসহ এলাকায় একটা ভীতিকর পরিবেশ তৈরী হয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয়রা ডাকাতির ঘটনায় প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়ার দাবী জানিয়েছেন।
ঘটনাস্থল পরিদর্শনে জানা গেছে, ভোলা সদর উপজেলার বাপ্তা ইউনিয়নের মধ্য বাপ্তা গ্রামের ২নং ওয়ার্ডের ব্যবসায়ী তোফাজ্জল হোসেন অসুস্থ্যতা জনিত কারণে চিকিৎসার জন্য গত ২৪ অক্টোবর থেকে ঢাকায় অবস্থান করেন। এ সময় তার মেয়ে ফারিহা ও তার শ্বাশুরি মমতাজ বেগম বাড়ীতে অবস্থান করছিলেন। প্রতিদিনের ন্যায় তারা খাবার খেয়ে ঘরে ঘুমিয়ে পড়েন। কিন্তু মাঝ রাতে প্রকৃতির ডাকে সারা দেয়ার জন্য মমতাজ বেগম টয়লেটে যাওয়ার উদ্দেশ্যে ঘরের মাঝ খানের দরজা খুলেন। এমন সময় একজন ডাকাত সদস্য হাতে দা নিয়ে বলে চুপ থাক কোন কথা বলবি না। মমতাজ বেগম তখন ডাকাত, ডাকাত বলে চিকৎকার দিলে ফারিহাও ছুটে আসে। তখন সেও ডাকাত ডাকাত বলে ডাক-চিৎকার দিতে থাকলে ওই ডাকাত সদস্য হাতের দা দেখিয়ে বলে চিৎকার করলে কোপ দিয়ে কল্লা (মাথা) ফেলে দিব। এই ভয়ে তারা আর কোন কথা বলতে পারে নি। এক পর্যায়ে তাদের জিম্মি করে ফারিহার গলায় থাকা ১০ আনা ওজনের কানের দুল ছিনিয়ে নেয়। যার বাজার মূল্য ১ লাখ ২০ হাজার টাকা, ৬ আনা ওজনের কানের দুল, যার বাজার মূল্য আনুমানিক ৭০ হাজার টাকা এবং ডাকাতদের অন্যান্য সদস্যরা ঘরের দ্বো-তলায় থাকা আলমিরা থেকে ২ ভরি ওজনের হাতের স্বর্নের চুরি লুট করে নিয়ে যায়। যার বাজার মূল্য আনুমানিক ৪ লাখ টাকা এবং অন্যান্য গহনাও নিয়ে যায়। এ সময় তারা ঘরের অন্যান্য আসবাবপত্র এলোমলো করে। এছাড়াও তাদের ঘরে থাকা পরিবারের জন্য ক্রয়কৃত ১০টি সয়াবিন তেলের বোতল এবং চাল ও মসুর ডালের বেশ কিছু পণ্য নিয়ে যায়।
এছাড়া একই রাতে তাদের পাশবর্তী দুই বাড়ীতেও ওই ডাকাতদলের সদস্যরা ডাকাতির ঘটনা ঘটিয়েছে। লুট হওয়া ঘরের নুরজাহান বেগম নামে এক গৃহবধূ বলেন, আমাদের ঘরে ডাকাত দলের এক সদস্য প্রবেশ করে মা-মেয়েদেরকে জিম্মী করে ফেলে। তখন ডাকাত দলের ওই সদস্য বলে তোরা ঢাকা থেকে আইসোস। টাকা-পয়সা, স্বর্ণ-অংকার যা আছে দিয়ে দে। না হলে কোপ দিয়ে তোদের মেরে ফলবো। এ সময় মা-মেয়েরা ডাক-চিৎসকার দেয়ার চেষ্টা করলে ওই ডাকাত সদস্য নুরজাহান বেগমের মুখ চেপে ধরে এবং তার কানে থাকা দুল ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা করে। জীবন ও ইজ্জত বাঁচাতে এ সময় উপায়ন্তর না পেয়ে নুরজাহান বেগম তার নাকের নাকফুল ও কানে থাকা ৬ আনা ওজনের একজোড়া কানের দুল দিয়ে দেন। যার আনুমানিক বাজার মূল্য ৭০ হাজার টাকা। রুমের ভিতরে মেয়েদের দিকে যেতে চাইলে মা নুরজাহান বেগম বাঁধা দেন। এ সময় মেয়েরা কানা-কাটি করছিল। উপায়ন্তর না দেখে মেয়েরাও তাদের কানে থাকা ৬ আনা ওজনের একজোড়া কানের দুল দিয়ে দেয়। যার বাজার মূল্য আনুমানিক ৭০ হাজার টাকা। অন্যদিকে একই এলাকায় অপর এক বাড়ীতে ওই ডাকাত দলের সদস্যরা প্রবেশ করে। এ সময় ঘরের লোকজন সজাগ হয়ে যাওয়া ওই ঘর থেকে তেমন কোন কিছু লুট করে নিতে পারে নাই।
তোজাজ্জল হোসেনের মেয়ে ফারিয়া বলেন, আমার বাবা অসুস্থ্য থাকায় তার চিকিৎসার জন্য ঢাকায় যায়। এসময় আমি ও আমার নানু মমতাজ বেগম বাড়ীতে একা ছিলাম। এই সুযোগে ডাকাত দল আমাদের রান্না ঘরের টিনের চাল খুলে ঘরে প্রবেশ করে লুকিয়ে থাকে। প্রকৃতির ডাকে নানু যখন টয়লেটে যাওয়ার জন্য ঘরের মাঝের দরজা খুলে তখনই ওই ডাকাত দলের এক সদস্য দা নিয়ে নানুর দিকে তেড়ে আসে। তার ডাক-চিৎকারে আমি ছুটে আসলে আমাকেও দা দিয়ে কোপ দেয়ার হুমকি দেয়। আমি সন্তান সম্ভ্যবা হওয়ায় বেশি ঝুকি নেইনি। আমি ডাকাত, ডাকাত বলে ডাক-চিৎকার দিতে গেলে দা নিয়ে আমার দিকেও তেড়ে আসে। আমাদের দুইজনকে জিম্মী করে আমার গলায় থাকা ১০ আনা ওজনের স্বর্ণের চেইন, ঘরের দ্বো-তলায় থাকা আলমিরা থেকে ২ ভরি ওজনের স্বর্ণের চুরি এবং অন্যান্য মালামাল লুট করে নিয়ে যায়।
বাড়ীর মালিক তোফাজ্জল হোসেন বলেন, আমরা ঢাকায় থাকার সুযোগে গত ২৯ অক্টোবর আমাদের ঘরে একদল সংঘবদ্ধ চোরের দল ডাকাতির ঘটনা ঘটিয়েছে। আমাদের স্বর্ণালংকারসহ বেশ কিছু মালামাল তারা লুট করে নিয়ে যায়। এতে আমাদের অন্তত আড়াই লাখ টাকা ক্ষতি হয়েছে। ডাকাতির এই ঘটনার খবর শুনে আমরা পরের দিন ঢাকা থেকে বাড়ীতে আসি এবং ভোলা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করি। এরপর গত ৩১ অক্টোবর ভোলা থানার একটি টিম বাড়ীতে এসে পরিদর্শন করে গেছেন। আমার ধারনা স্থানীয় বখাটে কতিপয় মাদকাসক্তরা এই ঘটনা ঘটিয়েছে। আমরা এই ডাকাতির ঘটনায় জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন। তাই প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠ তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবী জানাচ্ছি।
এদিকে নাম না প্রকাশের শর্তে স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি জানান, রাত হলেই এই এলাকায় মাদকাসক্তদের আনা-গোনা বেড়ে যায়। তারা সন্ধ্যা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত পুরো এলাকায় চসে বেড়ায়। এই সকল মাদকাসক্তরাই এলাকার বিভিন্ন বাড়ীতে চুরি-ডাকাতির ঘটনা ঘটাচ্ছে। একই রাতে ৩ বাড়ীতে ডাকাতির ঘটনায় আমরা এখন আতঙ্কের মধ্যে আছি। এদেরকে আইনের আওতায় আনলেই এলাকায় চুরি, ছিনতাই আর ডাকাতির ঘটনা কমে যাবে। তাই দ্রুত প্রশাসনের কাছে এ সকল মাদকাসক্ত, ডাকাত এবং চোরের দলের প্রতি বিশেষ নজরদারী ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়ার জোর দাবী জানাচ্ছি।
ঘটনাস্থল পরিদর্শনকারী ভোলা সদর থানার এএসআই মো: নাজির হোসেন এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, সদর উপজেলার বাপ্তা ইউনিয়নে ২নং ওয়ার্ডে একই রাতে ৩ বাড়ীতে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। তাদের মধ্য থেকে সামছুন্নাহার বাদী হয়ে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। তার অভিযোগের প্রেক্ষিতে গত ৩১ অক্টোবর বিকেলে আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। নানা বিষয় নিয়ে তদন্ত করছি। চোরের দল এবং এলাকার মাদকাসক্তদের দমনে আমাদের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। বিষয়টি আমরা গুরুত্ব সহকারে দেখছি।

ফেসবুকে লাইক দিন

আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ।