সর্বশেষঃ

বেপরোয়া নুরুউদ্দিন, রুখবে কে ?

স্টাফ রিপোর্টার ॥ গত বছর ৫ই আগষ্টে স্বৈরাচার হাসিনা পতনের পর বিএনপি নেতাকর্মীদের প্রতি কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন। পদে থেকে বা বিএনপির নাম ভাঙ্গিয়ে কোন অপকর্মে কেউ লিপ্ত হলে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ নির্দেশনা অমান্য করে যারাই নানান অপরাধে জড়িয়েছে তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিতে সারাদেশের মত ভোলায় ও দেখা গেছে।
ভোলা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আলহাজ্ব গোলাম নবী আলমগীর ও সদস্য সচিব আলহাজ্ব রাইসুল আলম কঠোর হস্তক্ষেপে ভোলায় কোন ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। সদর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে দু’-একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটলেও সদর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আসিফ আলতাফ ও সদস্য সচিব আলহাজ্ব মোঃ হেলাল উদ্দিন সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিয়েছেন। এত কিছুর পরেও ভোলা সদর উপজেলার বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত পূর্ব ইলিশা ইউনিয়নে নুরুউদ্দিন নামের এক বিএনপির কথিত নেতা ৭নং ওয়ার্ডে একের পর এক অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে। নুন থেকে চূন হইলে নির্যাতন, থানা পুলিশ দিয়ে হয়রানি এ যেন নিত্যদিনের ঘটনা হয়ে গেছে নুরুউদ্দিনের।
জানা যায়, ৭নং ওয়ার্ডে নুরুউদ্দিন এর কথা ছাড়া গাছের পাতা ও নড়ে না ৫ই আগষ্টের পর থেকে। জমি দখল, চাঁদাবাজি, জুয়ার কোর্ট বসিয়ে বানিজ্য করতে গড়েছেন নিজস্ব বাহিনী যা নুরুউদ্দিন বাহিনী নামে পরিচিত। বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের জেলা ও উপজেলার নেতাদের সাথে সেলফি তুলে সে সেলফি পুঁজি করে এলাকায় সাধারণ মানুষের উপর এ অত্যাচার করে আসছে নুরুউদ্দিন।
নুরুউদ্দিনের সাজানো মামলায় ওয়াসিম নামের এক রিক্সাচালক এখনো ভোলা কারাগারে রয়েছে। আর খেয়ে না খেয়ে কোর্টের বারান্দায় দৌড়াচ্ছে ওয়াসিমের সহধর্মিণী রুনা।
সূত্রে জানা যায়, ৬ই সেপ্টেম্বর সকালে নুরুউদ্দিন এর নিকটবর্তী আত্মীয় আবুল হাসেম নামের এক বৃদ্ধা নিজস্ব জমিতে ঘর উত্তোলন করতে গেলে সেখানে গিয়ে প্রথমে জমি দাবী পরবর্তীতে চাঁদা দাবী করেন নুরুউদ্দিন। আবুল হাশেম দিতে অস্বীকৃতি জানালে নুরুউদ্দিন তার আত্মীয় স্বজনদের লেলিয়ে দিয়ে চলে যান। পরবর্তীতে নুরুউদ্দিনের নির্দেশে তার ভাই মাকসুদসহ ১৫/২০ জনের একটি গ্রুপ আবুল হাশেমদের উপর হামলা চালান। এ এসময় আবুল হাশেম বাঁধা দিতে গেলে তার মাথায় আঘাত করে মাটিতে ফেলে দেন নুরুউদ্দিন বাহিনী। যা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক ভাইরাল হয়েছে। ওই ঘটনায় বৃদ্ধা আবুল হাশেমের স্ত্রী মনোয়ারা বেগমের ও হাত ভেঙ্গেছে।
বৃদ্ধা আবুল হাশেমের মেয়ে সুরমা বেগম বলেন, গরু-ছাগল বিক্রি করলেও নুরুউদ্দিন কে টাকা দিতে হয়। সে নাকি বিএনপির বড় নেতা। আবুল হাশেম বলেন, নুরুউদ্দিনের ডরে (ভয়ে) কেউ কোন কথা বলে না, কইলেই পিডায় (মারধর) করে আবার টিয়া (টাকা) দিতে হয়।
স্থানীয় সূত্রে আরো জানা যায়, ইলিশা ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র এক নেতার ছত্রছায়ায় পূর্ব ইলিশা ৭নং ওয়ার্ডে এ সকল অপকর্ম করে যাচ্ছে নুরুউদ্দিন। দলের নাম বিক্রি করে নুরুউদ্দিন এ সকল অপকর্ম চালিয়ে গেলে আগামী সংসদ নির্বাচনে বিএনপির ঘাঁটি দক্ষিণ ইলিশা ৭নং ওয়ার্ডে এর প্রভাব পড়বে বলে জানান অনেকে। এখনি খোঁজ নিয়ে নুরুউদ্দিন এর বিরুদ্ধে দলীয় সাংগঠনিক ব্যবস্থা এবং প্রশাসন ব্যবস্থা না নিলে অপরাধের স্বর্গরাজ্য হয়ে উঠবে ইলিশা তথা উত্তর ভোলা।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত নুরুউদ্দিন এর সাথে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, আমি এ মুহূর্তে কথা বলতে পারবো না, আমারও রোগী আছে আর আমি একটা দলের সাথে আছি কিন্তু এ মুহূর্তে কোন পদে আছি সেটা বলা যাবে না। ভোলা সদর মডেল থানার ওসি আবু শাহাদাৎ মোঃ হাসনাইন পারভেজ জানান, এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন।

ফেসবুকে লাইক দিন

আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ।